অন্তরে সুধু তুমি — দৃশ্য ৮ (পরিমার্জিত সংস্করণ)
রফিক জঙ্গলের মাঝে প্রকৃতির দানেই জীবনধারণ করে—গাছের পাতা, ঘাস, কন্দমূল, পাখি, এবং বিভিন্ন হালাল প্রাণীর মাংস। এক মুহূর্ত সময়ও সে নষ্ট করতে রাজি নয়; যতক্ষণ পর্যন্ত ঘুম তাকে জিতে না ফেলে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে ঘুমায় না। অধিকাংশ সময়ই সে আল্লাহর যিকিরে নিমগ্ন থাকে।
বিকেলের দিকে মনকে সতেজ করতে নদী–নালা কিংবা সমুদ্রের ধারে চলে যায়। তার মুখে সবসময় যিকিরের স্রোত বয়ে চলে—এতেই তার শান্তি, এটাই তার প্রশান্তি।
সে সবসময় মৃত্যুকে সামনে রেখে চলে। যখনই মৃত্যু আসবে, সে সাদরে তাকে বরণ করবে—স্বাগত জানাবে। দুনিয়ার ঝলমলানি তার ভালো লাগে না। দুনিয়া ও দুনিয়ার মানুষকে এক পাশে সরিয়ে রেখে সে আলাদা থাকতে চায়। এই নিভৃত একাকীত্বেই সে অন্তরের পরম তৃপ্তি পায়।
তার অন্তরের চোখে সবসময় কেয়ামতের ভয়ংকর দৃশ্য ভেসে ওঠে। সে যেন দেখতে পায়—মানুষের হিসাব নেওয়া হচ্ছে, মানুষ হাহাকার করছে; অন্যকে কষ্ট দেওয়ার কারণে, কারো হক মেরে খাওয়ার কারণে মানুষ ভয়ংকর বিপদে পড়ছে। এই ভাবনাই তাকে দুনিয়া থেকে বিমুখ করে দিয়েছে।
নদীর সৌন্দর্য দেখতে দেখতে যখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে, রফিক নদীর পানিতে ওযু করে। অন্তরে নেমে আসে এক অসীম প্রশান্তি। নদীর তীরে নরম ঘাসের উপর দাঁড়িয়ে সে মাগরিবের নামাজ আদায় করে। তার দৈনন্দিন রুটিন অনুযায়ী মাগরিব থেকে ইশা পর্যন্ত সে নামাজ ও ইবাদতেই মগ্ন থাকে।
এই সময়টা নামাজ পড়া নফসের জন্য খুবই কঠিন। জোর করে নফসকে বাধ্য করতে হয়। তবুও সে পড়ে—কারণ নফসকে ভেঙে চুরমার করতে পারলে যে রুহানী শান্তি পাওয়া যায়, তার স্বাদ সে পেয়েছে। যে রুহের তৃপ্তি খুঁজে পেয়েছে, তার কাছে দুনিয়া অতীত হয়ে যায়। তাই নফসের কষ্ট সে হেসে–হেসে মেনে নেয়।
সে কোনো পরিস্থিতিতেই ভীত নয়; কারণ তার পূর্ণ ভরসা আল্লাহর উপর। আর যার ভরসা আল্লাহর উপর থাকে—সে যেকোনো পরিবর্তন, যেকোনো বিপর্যয় সহজেই সামলে নিতে পারে।
ইশার নামাজ শেষে সে তার নির্জন কুটিরে ফিরে আসে। মোবাইল হাতে নেয়। ইসলামিক কিছু লিখালিখি করে—এটাই তার রাতের আরেকটি ইবাদত।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৪:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





