রফিক প্রকৃতি থেকে নিয়ত শিক্ষা লাভ করে।প্রকৃতি যেন তার জন্য বিস্মৃতি এক পাঠশালা।যদি কেউ অন্যদের সাথে রফিককে মিলানোর চেষ্টা করে তাহলে তার ভুল হবে।রফিক অধিকাংশ সময় গভীর ধ্যানে মগ্ন থাকে।তার ধ্যানের মূল বিষয় হলো সৃষ্টিকর্তার একত্বকে উপলব্দি করা।সে সবাইকে ছেড়ে নির্জন জঙ্গলে থাকে,এতেই তার শান্তি এবং তৃপ্তি।
রফিকের আত্মা প্রকুতির সাথে এমনভাবে মিশে গিয়েছে,যেন সেও একজন প্রকৃতির সদস্য।গাছ পালা বৃক্ষ লতা সবকিছু নিয়েই সে চিন্তা ভাবনা করে।মানুষ এবং অন্যন্য প্রানীকে নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে,প্রজনন, সন্তান প্রসবের বিস্ময় কর ব্যাবস্তা নিয়ে ভাবে,এবং স্রষ্টার একত্বকে গভীরভাবে উপলব্দি করার চেষ্টা করে।সে দেখে সমস্ত স্তন্যপাযী প্রানীরা একই নিয়মে প্রজনন করে,একই নিয়মে সন্তান প্রসব করে,সে দেখে সমস্ত পাখীকূল ডিম পারে প্রতিটি পাখীর ডিম আকারে বৈচিত্র থাকলে সিস্টেম একই।একই নিয়মে ডিম ফুটে বাচ্চা সৃষ্টি হয়।এই কঠিন এবং জটিল প্রকৃয়া স্রষ্টা ব্যাতিত আদৌ কি সম্ভব ছিলো।
তার পর বিভিন্ন বৈচিত্রময় গাছগাছালী নিয়েও চিন্তায় ডুব দেয়।একেক গাছে একেকরকমের ফল এবং ক্রিয়া, অথচ সবই জমিন থেকে উদগত গাছ।কোনোটির ফল মিষ্টি কোনো টির ফল তিতা।
সে আজকে চিন্তা করার জন্য ডালিম গাছকে বেছে নিয়েছে।যেই গাছের মধ্যে আল্লাহর বিস্ময়কর কারিগরী রয়েছে।
(ডালিম গাছের সাথে কাল্পনিক কথোপকথন)
রফিক : কেমন আছো ডালিম বৃক্ষ।তোমার লাল টুকটুকে ফুলের সৌন্দর্যে আমার চোখ আটকে গেলো।কিভাবে তোমাতে ফোটা ফুল এত সুন্দর হলো,যা আমার চক্ষু স্থির করে দিয়েছে।
ডালিম গাছ: হা হা হা! রফিক তোমার কথায় আমি না হেঁসে পারলামনা।
রফিক :হাঁসি থামাও।আগে বলো,তোমাতে ফোটা ফুল কিভাবে এত সুন্দর হলো।মনে হয় কেউ যেন হাতে ধরে বানিয়ে দিয়েছে।তোমার ফুল কি তুমি নিজেই বানিয়েছো।নাকি অন্য কেউ তোমার ভিতর থেকে এই সৌন্দর্য কে বাহিরে প্রকাশ করেছে,ভুবনকে রাঙিয়ে দিয়েছে।
রফিক :রফিক :তোমার মতো একজন জ্ঞানী আধ্যাতিক সাধক থেকে এমন কথা বেমানান। আমার তো নিজের কোনো শক্তি নেই,আমি অন্য একজনের নিয়ন্ত্রনে পরিচালিত হই,যিনি আমাকে এত সৌন্দর্য দান করেছেন।তুমি এখোনও আমার সম্পর্কে অনেক কিছুই জানোনা,আমার মধ্যে আরো বিস্ময়কর কত কাহিনি ঘটে,আমার আরো কত ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া রয়েছে তাও তোমার অজানা।আমার জীবনকাল এক মহা বৈচিত্রই বটে! হা হা হা!
রফিক :হে সৌন্দর্যের রানী!ডালিম বৃক্ষ।আমাকে তোমার কিছু বিশ্ময়কর ক্রিয়াকর্ম শুনাও।আমার অতিশয় ক্ষুদার্থ মনের তৃষ্ণা নিবারন করো।
ডালিম গাছ : হে জঙ্গলের কুতুব রফিক! তা শুনতে চেয়োনা।তা শুনলে তুমি স্থির থাকতে পারবে না,এমনিতেই তুমি সংবেদনশীল প্রকৃতির।
রফিক : অল্প একটু শরাব পান করাও,যাতে তৃষ্ণা মেটে এবং মাতাল হয়ে পড়ে না যাই!
ডালিম গাছ : তাহলে শুনো।আমি শয়তান এবং জীনদেরকে তারাতে সক্ষম।সুন্দর এই ফুল থেকে একসময় একটি ফল বের হবে,যা মানুষের সাস্থের জন্য খুবই উপকারী।ফলের বাহ্যিক এবং অভ্যান্তরিন গঠন বিশ্ময়কর। যদি তুমি একটি পাকা ফল ভাঙো,তাহরে ভিতরে লাল বর্ণের কিছু দানা দেখতে পাবে।এবং দানাগুলোর দিকে গভীরভাবে লক্ষ করলে আল্লাহর বিশ্ময়কর নিদর্শন দেখতে পাবে।তুমি আমার কাছ থেকে একটি ফল হাতে নাও,এবং গভীরভাবে লক্ষ করো।আমি অত্যান্ত উদারতার সহিত তোমাকে একটি ফল দিলাম,কৃপনতার সহিত নয়।এবং উদারতার সহিত দেওয়ার কারনে তুমি তা খেতে পারো,অন্তরে উদারতার নূর অনুভব করতে পারবে।আমার শরীরে হাত লাগাও এবং একটি ফল ছিড়ে নাও।
(রফিক একটি পরিপক্ক ডালিম হাতে নিলো।এবং সেটা ভেঙে সত্যিই ভিতরে লাল দানা আবিষ্কর করলো।বিস্ময়ে হকবাক হলো।ভিতরে এটা কেমন সিস্টেম।অন্য ফলে তো নেই!রফিক কিছু দানা মুখে দিলো।পরম তৃপ্তিতে তার হৃদয় মন প্রান জুড়িয়ে গেলো,ডালিম গাছের উদারতার শীতল পরশ সে হৃহয়ে অনুভব করলো।সে ভাবলো হায়!মানুষ ও যদি এমন উদার হতো। তাহল পুরো পৃথিবী নূরে ভরে যেত।)
রফিক :হ ডালিম বৃক্ষ!হে সাকি!তুমি আমাকে এমন শরাব পান করালে, যা আমার মন প্রানকে মাতোয়ারা করে দিয়েছে।আমার প্রানজুড়ে উচ্ছাসের ঢেউ বয়ে চলছে।তোমার উদারতার নূর আমার দিলের গহীনে অনুপ্রবেশ করেছে।সেই নূরে আসমান জমীন আলোকিত হয়ে গিয়েছে।
আমি গভীর ভাবে তোমার অন্তরে প্রবেশ করেছি।সেখানকার সৌন্দর্যে আমি অভিভুত হয়েছি,বিশ্ময়ে হতবুদ্ধি হয়েছি।
হে ডালিম গাছ।আরো থাকলে আমাকে পান করাও।
ডালিম গাছ :যে ব্যাক্তি আমাকে একবার দেখেছে সে আমার প্রেমে পরে গিয়েছে।অন্তরঙ্গ হয়ে গিয়েছে।তুমি আজকের মতো চলে যাও।আমি পর্দা নামিয়ে দিচ্ছি।আবার কালকে আগমন করো।আরো বিশ্ময়কর ক্রিয়াকর্ম দেখাবো।যা তোমাকে আরো বেশি হতবুদ্ধি করবে।এখন আমি প্রভুর স্মরনে মগ্ন হবো তুমি চলে যাও।একটা দিয়েছি, এখন আরো চাচ্ছো।মানুষকে যতই দেই,তার মন ভরে না! আরোও চায়।রফিক।তুমিতো শুকরিয়া করেছো।কিন্তু অধিকাংশ মানুষই নাশোকর।তারা আমার থেকে অনুমতি ব্যাতিতই ফল ছিরে ছিড়ে খায়,একবার আমাকে মনেও করেনা।
রফিক :ঠিক আছে।ভাই ডালিম গাছ।আমি তোমাকে আর ডিসটার্ব করবোনা!আমি চলে যাচ্ছি।ভালো থেকো নিরন্তর।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





