ডালিম গাছের মধ্যে রফিক আল্লাহর বিস্ময়কর নিদর্শন প্রত্যক্ষ করার পর কুটিরে ফিরে এল।
সেখানে গিয়ে জ্বাল ও বরশী সংগ্রহ করল, এবং বিকেলবেলা নদীর দিকে ঘুরতে বের হলো।
নদীতে গিয়ে কিছু মাছ ধরল। মাছগুলো বাসায় নিয়ে এল—এগুলো তার রাতের খাবার ও সেহরির জন্য কাজে লাগবে।
মাছগুলোর দিকেও গভীর দৃষ্টিতে তাকাল সে। এলমে-মারেফতের নূর নিয়ে মাছের ভেতরেও আল্লাহর নিদর্শন দেখতে লাগল।
মনে হলো যেন মাছগুলো অনুভূতির ভাষায় রফিকের সাথে কথা বলছে।
রফিক : হে মাছ! তুমি তো খুব ছোট্ট একটি প্রাণী, কিন্তু তোমার ভেতরে আল্লাহ তায়ালা কত কিছু ফিট করে দিয়েছেন—আমি অবাক না হয়ে পারি না!
মাছ : (চুপ থাকে)
রফিক : কি হলো? কিছু বলো। যেন আমার একাকিত্ব দূর হয়। নাকি রাগ করেছো? আমার ফাঁদে আটকা পড়ে।
মাছ : না, আমি রাগ করিনি। বরং আমি আনন্দিত যে একজন আরিফের কাজে আসতে পারব। আল্লাহর এক বন্ধুর পেটে যেতে পারব—এ আনন্দ কি কম?
কিন্তু চুপ ছিলাম এক কারণেই—বন্ধুর কথা মনে পড়েছিল।
রফিক : বন্ধু? কোন বন্ধু? কি বলেছিল?
মাছ : টোপ গিলবার ঠিক আগ মুহূর্তে আমার এক বন্ধু আমাকে সাবধান করেছিল। বলেছিল—“ভাই, এই খাবার খেও না, এর ভিতরে বিপদ আছে।”
কিন্তু তার কথা আমি শুনিনি। আর আজকে তোমার হাতে ধরা পড়েছি। তবে এতে দুঃখ নেই, কারণ একজন নাফরমান নয়—বরং একজন আরিফ আমাকে ধরেছে।
রফিক : আচ্ছা, তোমার বন্ধু ঠিক কি উপদেশ দিয়েছিল? আমাকে শুনাও।
মাছ : অবশ্যই শুনাবো। কারণ তার কথার মধ্যে তোমাদের আরিফদের জন্য অনেক শিক্ষা লুকানো আছে। শুনো—
বন্ধু মাছ : “এই যে ভাই কাতল! তুমি এই খাবার খেও না। বাহিরে চমৎকার দেখালেও ভিতরে ফাঁদ আছে—বিষ আছে!”
কাতল : “এই খাবারে ফাঁদ আছে—তুমি কিভাবে জানলে? আমাকে বাঁধা দিচ্ছো কেন? নিজে খেতে না পেরে আমাকে পালাতে বলছো? আমি এত বোকা নই। আগে খেয়েই দেখি!”
বন্ধু মাছ : “না ভাই, আমি তোমাকে বঞ্চিত করতে বলছি না। শুধু সাবধান করছি। আমাকে দেখো—আমি এসব খাবার থেকে কিভাবে দূরে থাকি। আমার কথা একটু শুনো!”
কাতল : “কিন্তু বিপদ তুমি জেনে গেলে, আমি জানলাম না কেন?”
বন্ধু মাছ : “কারণ আমার অভিজ্ঞতা আছে। একদিন আমিও ক্ষুধার্ত ছিলাম। সামনে এমন লোভনীয় খাবার দেখলাম—তোমারটার মতোই।
লোভ সামলাতে না পেরে গিলে ফেললাম। সেই মুহূর্তে ওপর থেকে কে যেন হেঁচকা টান মারল। মুখের এক কোণা ছিঁড়ে আমি পানিতে পড়ে গেলাম। দেখো—এখনো দাগ আছে!”
“বিদ্যুতের মতো মুহূর্তের জন্য উপরের জগতটা দেখতে পেয়েছিলাম। আর তখন হাক্কুল-ইয়াকিন হয়ে গেল—এই খাবার আসলে ফাঁদ ছাড়া কিছুই নয়।”
কাতল : “উপরে তুমি কি দেখেছিলে?”
বন্ধু মাছ : “একটি অদ্ভুত প্রাণী। বড় গোল মাথা, দুই চোখ, দুটি হাত। এক হাতে লাঠি, লাঠির মাথায় সুতো, আর সুতোর মাথায় এই ‘সুস্বাদু’ খাবার।
আমার মতো অনেকেই সেই খাবার খেতে গিয়ে ধরা পড়ে গেছে।”
কাতল মাছ : “থাক! তোমার এই কিস্সা-কাহিনি আমি মানি না। আমি খুব ক্ষুধার্ত। তুমি মৌলবাদী! আমাদের স্বাধীনভাবে খেতে দাও না! আমি এই খাবার খাবই!”
এ কথা বলেই সে টোপ গিলে ফেলল—আর সেই কারণেই হে রফিক, আজ তোমার হাতে ধরা পড়লাম।
রফিক মনোযোগ দিয়ে মাছের কথা শুনছিল। সত্যিই তো—এটি গভীর শিক্ষার উপাদান।
রফিক : হে মাছ! তুমি আজ আমাকে অমূল্য শিক্ষা দিলে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ২:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





