somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টর: হলমার্ক পরবর্তী অবস্থা

২৮ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ১২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পেটের দায়েই হোক আর শখের বসে হোক, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশী শাখা নেটওয়ার্ক সমৃদ্ধ গরীবের ব্যাংক 'সোনালী ব্যাংক' এর একজন ছা-পোষা কর্মী হিসাবে এক বছরের ও বেশী সময় পার করে দিলাম।
এই এক বছরেই দেখলাম, হলমার্ক গ্রুপের কান্ড! আর তাও কিনা আমি যে ব্যাংকে কাজ করি সে ব্যাংকেরই একটি শাখায়। হলমার্ক কেলেন্কারীর পর শুধু সোনালী ব্যাংক নয়, সমগ্র ব্যাংকিং সেক্টরে নেমে এসেছে এক ঘোর অমানিশা।
হলমার্ক কেলেন্কারীর পরে নড়ে চড়ে বসেছে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক। নিত্য নতুন রেগুলেটরি ব্যবস্থা নেয়ায় অস্থির হয়ে পড়েছে ব্যাংকিং খাত আর তার প্রভাব পড়ছে দেশের ব্যবসা বানিজ্য খাতে।
হল মার্ক কেলেন্কারীর পরে বেশীরভাগ বেসরকারী ব্যাংক স্থানীয় ঋণপত্র (এলসি) খোলা বন্ধ করে দিয়েছে, বন্ধ করে দিয়েছে ইনল্যান্ড বিল পারচেজ। ফলে জরুরী প্রয়োজনে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলি স্থানীয় বাজার থেকে কাচামাল কিনতে পারছে না। বিদেশী সরবরাহকারীকে কার্যাদেশ দেয়ার প্রায় দুই মাস পরে কাচামাল এসে পৌছাচ্ছে উৎপাদনকারীর হাতে। ফলে স্থবির হয়ে পড়ছে উৎপাদন ব্যবস্থা।
সবচেয়ে বেশী বিপদে পড়েছে কৃষিপন্য প্রক্রিয়াজাতকরন শিল।প প্রতিষ্ঠানগুলি। ধরুন আপনি সরিষার তেল উৎপাদক, দেশে প্রচুর সরিষা উৎপাদন হচ্ছে, কিন্তু ব্যাংকগুলি স্থানীয় বিল ক্রয়ে অসম্মত হওয়ায় শিল্প প্রতিষ্ঠানটি বাধ্য হচ্ছে অষ্ট্রেলিয়া বা চীন থেকে সরিষা আমদানী করতে, ফলে পথে বসছে কৃষক। বলতে পারেন সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে নগদ টাকায় কিনলেই হলো। কিন্তু ব্যাংকে সম্পত্তি বন্ধক রেখে ঋণ অনুমোদনের পরেও যদি শিল্প প্রতিষ্ঠান ঋণ না পায় তাহলে তার উভয় সন্কট।

সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি হলো, আস্থার সন্কটে ভূগছে ব্যান্কিং খাত। ব্যাংকার তার ক্লায়েন্টকে বিশ্বাস করতে পারছে না, আর উদ্যোক্তা পারছে না ব্যাংকারের উপর আস্থা রাখতে। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে, এদিকে অতি নিয়ন্ত্রন এবং হয়রানীর ভায়ে অনেকে শিল্প খাতে বিনিয়োগ করা বন্ধ করে দিয়েছে। উদ্যোক্তা না হয়ে সঞ্চয়ী হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ, ফলে ব্যাংকগুলিতে আমানত আছে কিন্তু বিনিয়োগরে খাত নেই!!!
আর আমরা সকলেই জানি, ব্যাংকগুলি আানত সংগ্রহ করে উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে বিনিয়োগ করে। মূলধন সংগ্রহ ঠিকই হচ্ছে কিন্তু হচ্ছে না বিনিয়োগ ফলে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান মুখ থুবড়ে পড়েছে আর এর স্থায়ী প্রভাব মূদ্রাস্ফিতি।

এই মুহুর্তে যদি ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে না পারলে দেশের অর্থনীতিতে তা হবে মারাত্নক হুমকী।
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বৃষ্টি দিনের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৫



টিভি বা পত্রপত্রিকায় আবহাওয়া'র খবর নিয়ে নিউজ হয়-
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের পূর্বাভাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইন দ্যা শ্যাডোস অব ইল্যুশন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৮



রাজধানীর নিঝুম আবাসিক এলাকার তিনতলা ফ্ল্যাটের শোবার ঘরটি তখন ক্রাইম সিন টেপে ঘেরা। ধুলো জমে থাকা এয়ার কন্ডিশনারের শব্দের মাঝে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে রক্তের হালকা সোঁদা গন্ধ।

পিবিআই ইনভেস্টিগেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১০


‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগীকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৭


মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

একসময় কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে মানুষকে ভাবতে হতো। বই খুলতে হতো, লাইব্রেরিতে যেতে হতো, কারও সঙ্গে আলোচনা করতে হতো, ভুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্বাবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ৪

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৬


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।
একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/3039397|১ম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×