somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার গার্লফ্রেন্ড আর একটু হলেই আমাকে ডোবাতো!!!

২৮ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১০:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

-ই মেয়ে ! এদিকে এস ।
সকাল বেলা শুয়ে ছিলাম । শরীর খারাপ বলে মা বিছানা থেকে একদম উঠতে মানা করেছে । আর মায়ের হুকুম অমান্য করা সাধ্য কার আছে !! তাই শুয়ে শুয়ে টিভি দেখছিলাম । ঠিক এমন সময় মার গলা শুনতে পেলাম ।
মা কাকে যেন ধমক দিয়ে কথা বলছে । আমার মার এই কঠিন কন্ঠস্বর আমাদের পরিবারের সবাই খুব ভয় পায় । এমন কি বাবাও চুপ করে থাকে ।
বাবা মার এই কঠিন কন্ঠস্বর শুনলে বলে
-তোমাকে দেখলে আমার কেবল আমার হেডমিস্ট্রেসের কথা মনে পড়ে !!
সত্যি কথা বলতে গেলে আমাদের স্কুলের হেড স্যারের গলাও এতো চড়া না ।
আমার মা যদি হেড মিস্ট্রেস হত তাহলে আমাদের স্কুলের ছেলে মেয়ে দের খবরই ছিল । আল্লাহই জানে আজ কার খবর আছে !
কাকে বকছে কে জানে !
-এই মেয়ে তোমাকে না এদিকে আসতে বললাম ! কানে শোনো না ?
আমি ঐ মেয়েটার জন্য দোয়া করলাম । হে খোদা মেয়েটাকে রক্ষা কর ।
মা উঠানে দাড়িয়ে কথা বলছে আমি এখান থেকে শুনতে পাচ্ছি ।
-কি হল ? এখানে ঘোরাঘুরি করছ কেন ? সেই কখন থেকে দেখছি !
কোন কথা নাই । মেয়েটা নিশ্চই ভয়ে কুকরে গেছে । ভয়ে কথা বলতে পারছে না ।
একবার একটা টোকাই মেয়ে আমাদের বাসার মধ্যে ঢুকে পরেছিল । মা ঐ বেচারীকে এমন ধমক দেওয়া দিয়েছিল যে ওর মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছিল না । দিপু বলছিল
-ভাইয়া তুমি যদি দেখতে বেচারী আর একটু হলেই অজ্ঞান হয়ে যেত মার ধমক শুনে ।
-কি নাম তোমার ?
খানিক নিরবতা । মা আবার বলল
-কি বললে জোড়ে বল ?
আমি মনে মনে হাসলাম । মার কথার সামনে সবার গলার ভয়েজ ই নেমে যায় ।
আমার মাঝে মাঝে মনে হয় নীলু যদি মার সামনে এসে পড়ে নীলুর তো খবরই আছে । নীলুর কণ্ঠস্বর এমনিতেও একটু নীচু ।
ও যখন কথা বলে আমি এমনিতেই শুনতেই পাই না ঠিক মত আর যদি মার গলার ভয়েজ যদি ও শোনে ওর মুখ দিয়ে তো আওয়াজই বের হবে না ।
-কি নাম বললে ? কি ? নীলু ? ভাল নাম বল ?
-নাদিয়া তাবাস্সুম ।
এবার আমার বুকটা ধক করে উঠল । কারন কন্ঠটা নীলুর । আমি ভয়ে ভয়ে জানলা দিয়ে মাথা তুলে তাকালাম । যা দেখলাম তার জন্য আমি তৈরি ছিলাম না কিছুতেই ।
নীলু মার সামনে দাড়িয়ে আছে ।
ও এখানে কি করছে ? মা যদি টের পায় তাহলে আমাকে আস্তো চিবিয়ে খাবে । এই মেয়েটা কি আমাকে ডুবাবে দেখছি !
-তুমি কে ?
নীলু নিচু স্বরে বলল
-আমি নীলু ।
-আরে নীলুতো বুঝলাম । এখানে কি ?
-আসলে আন্টি আমি অপুর সাথে পড়ি । শুনলাম ওর শরীর খারাপ । তাই ওকে দেখতে এসেছি ।
-তা দেখতে এসেছো ভাল কথা । এদিক ওদিক ঘোরাফেরা কেন করছো ?
-আসলে আন্টি ....
নীলুর চেহারা কেমন একটা হতাশ ভাব ফুটে উঠল । কি বলবে ভেবে পেল ।
তবে দেখলাম মা আর কিছু জিজ্ঞেস করল না । বলল
-ঐ যে সামনের ঘরটাতে ও আছে । যাও ।
আমি যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলাম । একটু পরেই দরজায় নীলুকে দেখতে পেলাম ।
চট করেই আমার মনটা ভাল হয়ে গেল । আসলে নীলুর চেহারায় এমন কিছু একটা আছে আমার মনে কেমন একটা শান্তির ভাব চলে আসে । ওর কোমল চেহারাটা আমাকে খুব আনন্দ দেয় । কিন্তু আজ ওর চেহারা টা কেমন মলিন মনে হল ।
ও ঘরে ঢুকতেই বললাম
-তুমি এখানে কেন ? তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে ! মা টের পেলে উপায় ?
নীলু মলিন কণ্ঠে বলল
-তোমাকে খুব দেখতে আচ্ছা করছিল ?
-তাই বলে এখানে চলে আসবে ? আমাকে ডুবাবে নাকি ?
নীলু খুব আসতে আসতে বলল
-একটু আগে তোমার মা বকল , এখন তুমিও বকবে ?
আমার কথা আটকে গেল । সত্যিই তো !!বেচারী আমাকে দেখতে এসেছে আর আমি কিনা চিৎ‍কার চেচামিচি করছি ।
-আচ্ছা সরি । ঐ সোফাটায় বস ।
নীলু সোফাটায় বসলো না । একদম আমার বিছানায় এসে বসল । বলল
-তোমাকে কত দিন দেখি না !
-কোথায় কয়দিন ? তিন দিন মাত্র স্কুলে যাই নি ।
-তিন দিনের মানে বোঝ তুমি ? তোমাকে না দেখে কিভাবে থাকি ?
আমি কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকি নীলুর দিকে ।
এই মেয়েটা এতো ভাল কেন ? এতো ভালবাসে কেন আমাকে ? আমি বললাম
-তুমি একটু দুরে গিয়ে বস । মা চলে আসবে ।
-আসুক ।
-আসুক মানে ? মা যদি এভাবে দেখে আমাকে আসতো রাখবে ? চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে ?
-আচ্ছা ঠিক আছে ।
এই বলে নীলু আমার কপালে একটা কিস করল ।
তারপর সোফায় গিয়ে বসল ।
-তুমি এটা কি করলে ?
নীলু হাসল ।
-কেন ভাল লাগে নি ।
-না ভাল লাগবে না কেন ? কিন্তু যদি মা চলে আসতো ?
-আসলে আসতো !
-দাড়াও যখন পারমানেন্টলি এ বাড়িতে আসবে না তখন দেখবে মজা ! তখন বুঝবে আমার মা কি চিজ !!
নীলু কেবল হাসল । কিছু বলল না ।


গল্পটা এখানে আছে
২২টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্ম নিয়ে পোস্ট দিলে মানুষের সুদৃষ্টি বা কুদৃষ্টি দ্রুত পড়ে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ১৫ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:৫৩

আমি এখন পর্যন্ত ৮৯ টা পোস্ট করেছি। আরও দুই-চারটা হয়তো করেছিলাম কিন্তু এখন সরিয়ে ফেলেছি। আমি নিজের পোস্টের বিষয়বস্তু নিয়ে একটা হিসাব নিকাশ করে নীচের তথ্য পেলাম।

সাহিত্য, সঙ্গীত, কাব্য, সিনেমা... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ২:২০



স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবার সহ সকল শহীদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি ও দোয়া প্রার্থনা।

সামহোয়্যারইন ব্লগ ও সকল ব্লগারবৃন্দের পক্ষে,



ঠাকুরমাহমুদ
ঢাকা, বাংলাদেশ
১৫ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

অমিয় বাণী সমগ্র।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ২:৪৪



পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেনের বাংলাদেশকে বেহেশতের সঙ্গে তুলনা, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাকের জ্বালানি ও সারের দাম বৃদ্ধির পরও ফসল উৎপাদনের ওপর প্রভাব না পড়ার দাবি, প্রত্যেক মানুষের গায়ে জামা-কাপড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগেও একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে অসন্মান করা হয়!!!!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৫ ই আগস্ট, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:৩২



প্রচন্ড ব্যস্ততা এবং আরো কিছু কারনে গত বেশ কয়েকদিন ব্লগে আসা হচ্ছে না। আরো বেশ কয়েকটা দিন আসার মতো অবস্থায়ও নাই আমি। তারপরেও একটা পোষ্ট আর তার কমেন্টগুলোতে চোখ আটকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভ, ক্রোধ, হিংসা, বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ৮:০২

লোভ, ক্রোধ, হিংসা, বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকি.....

নবারুণ ভট্টাচার্যের একটা কবিতার কয়েকটি লাইনঃ-

“আজ্ঞাবহ দাস, ওরে আজ্ঞাবহ দাস
সারা জীবন বাঁধলি আঁটি,
ছিঁড়লি বালের ঘাস,
আজ্ঞাবহ দাসমহাশয়, আজ্ঞাবহ দাস!
যতই তাকাস আড়ে আড়ে,
হঠাৎ এসে ঢুকবে গাঁড়ে,
বাম্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×