somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি সুন্দর কল্পনা অথবা কিছু কষ্টের কথা !!

০১ লা জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

-তুমি দেখা করবা না ?
-না দেখা করা সম্ভব না ।
-দেখ টিয়া পুরো বছর ধরে তুমি একই কথা বলেছ । আজকে অন্তত এই কথাটা বল না ।
-না । আমি দেখা করতে পারবো না । আর সেদিনই না দেখা হল !
-ঐটা আলাদা । তুমি দেখা করবে কি না বল ?
-না ।
-ওকে রাখো ।
আমার মেজাজটা সত্যি সত্যি খারাপ হল । ফোনের লাইন কেটে দিলাম আমি নিজেই । এই কাজটা আমি সাধারনত খুব একটা করি না । টিয়া ফোন রাখার অনেকক্ষন পর পর্যন্ত আমি ফোনটা কানেই ধরে রাখি ! কেন রাখি আমি জানি না ।
কিন্তু আজকে বিষয় ভিন্ন !! আজকে মেজাজ খানিকটা গরম !!!
আচ্ছা বছরের একটা মাত্র দিন এই দিনেও কি দেখা করাটা খুব বেশি অসম্ভব ?
আজ থার্টিফার্ষ্ট নাইট । আমার সব বন্ধুরা তাদের গার্লফ্রেন্ডের সাথে দেখা করবে ! এক সাথে ডেট করবে আর টিয়া বলে যে দেখাই হবে না !
আর কি যুক্তি দেখালো যে গত সপ্তাহে দেখা হয়েছে !!
অন্যরা যেখানে দিনে দুতিনবার দেখা করে আমি তো কেবল গত সপ্তাহে দেখা করলাম । তাও আবার প্রায় তিন মাস পরে । আর এখন এই মেয়ে বলছে গত সপ্তাহে না দেখা হল ! বাংলাদেশের সংবিধানের কোথাও কি লেখা আছে যে গত সপ্তাহে দেখা করলে পরের সপ্তাহে দেখা করা যাবে না ?
দেখা হয়েছে, যদি সেটা মন মত হত তাহলেও একটা কথা থাকতো !! তাও না । রাস্তার ভিতর দেখা ! না ঠিক মত কথা বলা যায় না ঠিক মত দেখা যায় !! এই দেখার কি কোন মানে আছে ?
ঢাকা থেকে এবার ভেবেছিলাম বাসায়ই আসবো না । তবুও আসলাম । টিয়ার সাথে দেখা করার জন্য । কিন্তু তার সময়ই হয় না । তার বাবা মা নাকি তার পেছনে সিআইএ র এজেন্ট লাগিয়েছে । তারা সব সময় তার উপর অনুবিক্ষন যন্ত্রদিয়ে লক্ষ্য রাখছে ।
আচ্ছা এই যুগে যে মেয়েটা অনার্সে পড়াশুনা করে তার উপর একটা জব করে সেই মেয়েটার টা দেখা করাটা খুব বেশি অসম্ভব ??
মাঝে মাঝে মেজাজটা এমন খারাপ হয় !! মনে হয় সব ছেড়ে ছুড়ে দিয়ে চলে যাই !
কিন্তু পারি না ! এই মেয়েটাকে ছেড়ে কোথাও যেতে পারি না !! যত যাই করি যত ভাবই নেই না কেন ঘুরে ফিরে এই মেয়েটার কাছে আমাকে আসতে হয় ?
কেন হয় কে জানে ??
এই দুপুর থেকে মোবাইলটা বন্ধ করে রেখেছি আমি খুব ভাল করেই জানি একটু পরে আমি নিজেই ফোনটা চালি করে নিজেই আবার টিয়াকে ফোন দিবো !!
আর এই মেয়েটাও হয়েছে না !! এমন কঠিন মেয়ে আমি খুব কমই দেখেছি ! আমাদের মাঝে যতবার ঝগরা হয়েছে টিয়া কখনই আমার কাছে পরাজয় স্বীকার করে নি ! প্রত্যেকবার আমাকেই হার স্বীকার করতেই হয়েছে !
নিজেই গিয়ে আগে কথা বলেছি !! নিজেই ওর রাগ ভাঙ্গিয়েছি !!
আমি একবার ওকে জিজ্ঞসে করেছিলাম
-আচ্ছা আমি যদি তোমার সাথে রাগ করে দুদিন কথা না বলি তোমার কিছু মনে হয় না ? একবার তো ফোনও দেও না !!
টিয়া একদম মুখের উপর বলে দিল
-আমার কিছু মনেই হয় না !! কে কথা বলবে না বলবে সেটা তার নিজের ব্যাপর । কেউ যদি আমার সাথে কথা না বলে থাকতে পারে আমি কেন পারবো না ।
আমি কেবল আহত চোখে টিয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলাম ! একবার মনে হল বলি যে যে কেউ আর আমি কি এক হলাম ? কিন্তু বললাম না । না জানি ও আবার কি উত্তর দেয় যা শুনে হয়তো মনটা আমার আরো খারাপ হবে !
আসলে প্রিয়জনের একটু খানি নিষ্ঠুর আচরন বুকের মাঝে বড় বেশি বেদনার জন্ম দেয় !!

তবুও এবার আমি খুব আশা করেছিলাম যে আজকের দিনে টিয়ার সাথে একটা বার দেখা হবে । ও নিশ্চই আমার সাথে দেখা করবে ! কেবল আজকের দিনটার জন্যই আমি ঢাকায় যাই নি । আমার ক্লাস শুরু হয়ে গেছে ! কয়েকটা ক্লাস এরই মধ্যে মিসও হয়ে গেছে ! কিন্তু এই দিনটাতে দেখা করবো বলেই আমি এখনও বসে আছি !! এখন মনে হচ্ছে খামোকাহই !!

রাত নয়টার দিকে ফোন অন করলাম । মনে মনে ভাবলাম যে ওকে কালকের আগে আর ফোন দিবো না । বাসে উঠে তারপর ফোন দিবো !!
কিন্তু দেখলাম টিয়া নিজেই কিছুক্ষন পরে ফোন দিল !!
-খুব রাগ দেখানো হচ্ছে ?
আমি চুপ করে থাকি ! টিয়া আবার বলল
-যা পারো না তা করতে যাও কেন ? আমার উপর রাগ করে থাকতে পারবা ? পেরেছ কখনও ?
কথা সত্য !! আসলেই এটা পারি না । এটা যেমন আমি জানি তেমনই টিয়া খুব ভাল করেই জানে !!
বললাম
-তাই তো এতো সুযোগ নাও তাই না ? একদিন টের পাবা ??
টিয়া হেসে উঠল । হাসতে হাসতেই বলল
-কি করবা ? বিয়ের পর আমাকে দিয়ে কাপড় কাঁচাবা ? নাকি আমাকে ঠিক মত খেতে দিবা না ?
-আগে বিয়ে হোক !! তখন টের পাবা !!
টিয়া বলল
-তুমি কচু করবা !! তোমার দৌড় আমার জানা আছে !
আমি খানিকটা দীর্ঘশ্বাস ফেলি !! আসলেই আমার দৌড় টিয়া খুব ভাল করেই জানে !!
আমি খানিকটা নরম কন্ঠে বললাম
-একবার কি দেখা করা যেত না !! আমি কত আশা করে ছিলাম !!
টিয়া চট করেই কোন উত্তর দিল না । কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বলল
-আমি এখন রাখি !! ভাবি আসছ মনে হয় !!
আমি আর কোন কথা বলতে পারি না । তাগেই লাইন কেটে যায় !! আমি তবুও ফোনটা কানেই ধরে রাখি !!

মনটা আমার আর একটু খারাপ হয় !! আমি ঘর থেকে বাইরে বের হলাম । আমার রুমটা দিয়ে এমনি বাইরে বের হওটা যায় ! বাইরে শীতও পরেছে খুব ! মনে হল আর জেগে থেকে লাভ নাই । টিয়া আর ফোন করবে না ! আর দেখা হওয়ার তো কোন চান্সই নাই !!
তবুও কিছুক্ষন মন খারাপ করে বসেই রইলাম ।
দশটার দিকে লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমাতে যাব ঠিক তখনই টিয়া আবারও ফোন দিল !! আমি এটা আশা করি নি ।
ফোন রিসিভ করে বললাম
-কি হল ?
-তুমি এখন কোথায় ?
-কোথায় আবার ? বাসায় ! কেন ?
টিয়া বলল
-শোন , আমরা কয়জন মিলে পিকনিক করছি বাইরে !
-এই শীতের মধ্যে ?
-আরে বাবা আগে কথা শেষ করতে দাও !! শোন পিকনিক টা করছি কেবল তোমার জন্য !!
-আমার জন্য মানে ?
-মানে তোমার সাথে দেখা করার জন্য !
আমার মনে হল আমি মনে হয় ভুল শুনছি !! টিয়া আমার সাথে দেখা করবে !! এই রাতের বেলা । টিয়া আবার বলল
-তুমি ঠিক বারটার সময় আমাদের বাড়ির সামনে থাকবে ! আমি সুমিকে ওদের বাড়ি পৌছে দিতে যাবো তখন একটু দেখা হবে ! ঠিক আছে ?
-তোমার ভাবি ?
-ভাবি পিকনিক করবে না !! ওর শরীর ভাল নাই ! ঠিক সময় মত চলে আসবা !!
টিয়া আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ফোন রেখে দিল !! আমি আরো কিছুক্ষন ফোনটা কানে দিয়ে রাখলাম । আমার এখনও ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না টিয়া আসলেই আমার সাথে দেখা করতে যাচ্ছে !!

আমি টিয়ার সাথে দেখা করার জন্য তৈরি হতে থাকি !! আজ তাহলে দেখা হবে !! সত্যি হবে !!



(সমাপ্ত)

প্রথমে ভেবেছিলাম টিয়ার সাথে দেখা হওয়াটাও লিখবো !! কিন্তু কেন জানি লিখতে পারলাম না ! কি আজব !! বাস্তবে তো নয়ই কল্পনাতেই তার সাথে আমার ঠিক মত দেখা হয় না । বাস্তবে যেমন আমি দেখা করার জন্য অপেক্ষা করে থাকি, কল্পনাতেও সেই অপেক্ষা করেই আমাকে থাকতে হয় !!

কাল রাতে সবাই যখন বর্ষবরণ নিয়ে ব্যস্ত ছিল আমি তখন মন খারাপ করে নিজের বিছানায় শুয়ে ছিলাম । খুব ইচ্ছা করছিল তার সাথে একটু কথা বলি !! কেবল কথাই ! দেখা করার কথা আমি কখনও চিন্তাও করতে পারি নি ! যে ইচ্ছা কখনও পূরন হবে না সে ইচ্ছা করতে নেই ! আমি তবুও কল্পনা করার দুঃসাহস করেই ফেলি !! আমি জানি এমন একটা রাত আমার জীবনে কোন দিন আসবে না ! আমি এই বিশেষ বিশেষ দিন গুলোতে কেবল একা একা নিজের বিছানায় মন খারাপ করে শুয়ে কাটাবো !! একা !
কারো সাথে কথা বলার জন্য মনটা ছটফট করবে কিন্তু তাকে ফোন করতেপারবো না ! কারো হাতটা ধরার জন্য বুকের ভিতরটা হাহাকার করে উঠবে তবুও আমি হাত গুটিয়ে বসেই থাকবো !!
আমার মাঝে মাঝে মনে হয় যদি আমার কল্পনা করার শক্তি না থাকতো তাহলে আমি হয়তো অনেক আগেই দম বন্ধ হয়ে মারা যেতাম !! তবুও এতো কল্পনার মাঝেও মাঝে মাঝে এই সিমেন্টের জঙ্গলে নিজেকে বড় একা একা লাগে !! বড় বেশি একা !!
২৩টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভূমিকম্প নিয়ে যত মিথ

লিখেছেন পাজী-পোলা, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২৩ বিকাল ৩:৩৯

১. সমতল এই পৃথিবীর একপাশে আছে বিশাল বিশাল সব পর্বত, অন্যপাশে আছে একজন বিশাল দৈত্য। সেই দৈত্যের স্ত্রী আকাশ ধরে ঝুলে আছে। দৈত্যের যখন স্ত্রীর সাথে আলিঙ্গন করার ইচ্ছে হতো,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভুমিকম্পের পর আমার শনিবার। (ছবি ব্লগ)

লিখেছেন ৎৎৎঘূৎৎ, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২৩ বিকাল ৪:২১

ভুমিকম্প সবসময় আমার একটা স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। তিন বন্ধু তিনটি ভূমিকম্পে একই ছাদের নিচে ছিলাম। এইবার একজন কল দিয়েছে। আমি ঠিক আছি কিনা। আর আমি তখন নদীর ধারে। ঠিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

"ভুমিকম্পের জন্য গায়িকারা দায়ী"

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২৩ সন্ধ্যা ৬:০৮


আজ সকালে ৫.৬ মাত্রায় ভুমিকম্প হয়েছে। ভোর বেলা তখনও ঘুম থেকে ওঠিনি। অনুভব করলাম খাট সহ পুরা বিল্ডিং কাঁপছে। শুয়েই থাকলাম। ভুমিকম্পে মৃত্যু লেখা থাকলে কেউ বাঁচাতে পারবেনা। দৌড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার জীবনের সবচাইতে রোমান্টিক ঘটনা

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২৩ রাত ৯:০৫

আমার জীবনটা রোমান্টিকতায় পরিপূর্ণ না। প্রেম যে জীবনে আসে নি, তা না, কিন্তু আমার কবিতা লেখালেখি থেকেই আপনারা আন্দাজ করে সত্যটা বুঝতে পেরেছেন যে, এ বাংলার ব্যর্থ প্রেমিকদের মতো আমিও... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈশ্বরী

লিখেছেন পাজী-পোলা, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২৩ রাত ৯:৪০



সে একজন আছেন, উন্মাদিনী
ক্ষমতার মসনদে বসে চালান খেয়াল খুশী
ইচ্ছে হলেই নিয়ে নিতে পারেন প্রাণ
ইচ্ছে হলেই করতে পারেন জীবন দান।
তিনিই এক এবং অদ্বিতীয়
বিকল্প নেই তাঁর কোথাও,
সুতরাং আনুগত্য হও।
তাঁর শক্তির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×