-ভাইয়া, আমার গালিটা একতু থিক কলে দিবে ?
এই গরমে নিজেই সিদ্ধ হয়ে যাচ্ছি নিজের কাজ নিয়ে আবার এই আইছে নতুন বাহনা নিয়ে ! তার ভিতেই এই কথা ! পিচ্চি ছেলেটার কথা শুনতে বেশ ভালই লাগলো !
আমি পিচ্চি টার দিকে তাকলাম ! লাল রংয়ের একটা হাফপয়ান্ট পরে ! গায়ে একটা কালো গেঞ্জি ! এই গমরে একে কালো গেঞ্জি কে পড়াইছে !
আমি পিচ্চি ছেলেটার মুখের দিকে তাকালাম ! একটা মিষ্টি মিষ্টি ভাব ! কথা গুলো যেমন সুইট তেমনি চেহারাটাও ! আমি বললাম
-তোমার গাড়ি কই ?
ছেলেটা হাত দিয়ে সিড়ি ঘরের দরজার দিকে দেখলো ! আমি বললাম
-গাড়ি নিয়ে এসো ! দেখি !
ছেলেটা চলে গেল !
আমি আবার নিজের কাজে মন দিলাম ! গত সপ্তাহে আমার কম্পিউটার টেবিলের কাবজা খুলে গেছে ! সেইটাই এখন ঠিক করতেছি ! ঘরের ভিতর করার উপাই নাই কারন আমার ঘরের নিচের বাড়িয়ালার বাসা ! হাটুরির আওয়াজ যদি একবার কানে যায় ছুটে চলে আসবেন ! তাই ছাদে এসে কাজ করতেছি ! তখনই এই পিচ্চি এসে হাজির !
কিছুক্ষন পরেই পিচ্চি গাড়ি নিয়ে হাজির ! তবে সব চেয়ে আনন্দের কথা হল পিচ্চি একা আসে নাই ! পিচ্চির সাথে একটা মেয়ে হাজির !
চেহারা দেখেতো মনে হল পিচ্চির বড় বোন হবে !
মনে মনে বললাম এই মেয়ে এই ফ্ল্যাটে থাকে ! আসলে ঠিক ফ্ল্যাট বলা যাবে না এটা কে ! চিলেকোঠা আর কি ! একটু বড় চিলেকোঠা !
এই মেয়ের সাথে আমার প্রায়ই দেখা হয় ! বিশেষ করে নিচে নামার সময়ে সিড়িতে !
একটু লক্ষ্য রাখছিলাম যে মেয়েটা কোন ফ্ল্যাটে থাকে এটা বের করার কিন্তু আজকে সুন্দরী নিজেই ধরা দিল !
মেয়েটি বলল
-আপনাকে একটু ঝামেলায় ফেললাম ! আসলে গাড়িটার কয়েক জায়গার পেরেক খুলে গেছে ! এই জন্য ...
-আচ্ছা সমস্যা নাই !
আমি গাড়িটার সব পেরেক গুলো ঠিক মত আটকে দিলাম ! পিচ্চিটা চলে গেল । একবার মনে হল একটু বেশি সময় নিয়ে যদি ঠিক করতাম তাহলে মেয়েটা আরো কিছুক্ষন থাকতো !
আমি আবার আমার কাজে মন দিলাম !
ঠিক তখনই মেয়েটা আবার হাজির ! আমাকে বলল
-আপনি এই রোদের ভিতর না থেকে এই ছায়াটায় আসেন না কেন ?
-নাহ ! এই উপাই নাই ! আমি ঐ ছায়ায় গেলে নিচ থেকে বাড়িয়ালা এসে যাবে !
-ও ! আপনার জন্য কি পানি নিয়ে আসবো ? আপনি বেশ ঘামছেন !
আহা !!
কি মিষ্টি কথা !!
যদিও আমার পানিতে খুব বেশি ইন্টারেষ্ট নাই তবুও বললাম
-জি নিয়ে আসুন !
এই পর থেকেই শুরু ! যেই আমি কোন দিন নিজের পিসি ছেড়ে এক পাও নড়ি নাই সেই আমি এখন ছাদের সময় কাটাতে লাগলাম ! মোটামুটি কয়েক দিনের ভিতরেই বুঝে গেলাম যে মেয়েটা কেবল সন্ধ্যার দিকেই ছাদে আসে ! সাথে পিচ্চি টা থাকে ! আর ছুটির দিন গুলোতেই এরা থাকে বাড়িতে ! আর বাদ বাকী সময়ে রুমের দরজা সবসয় বন্ধ থাকে !
এবার থেকে মেয়েটি সাথে দেখা হলেই মেয়েটি একটু হাসতো ! টুকটাক কথাও বলতো ! আমার ভালই লাগলো ! তবে কেন জানি মন ভরতো না ! মনে হত মেয়েটা আর একটু কথা বলতো আমার সাথে ! ভাল হত তাহলে !
তবুও আমি ছাদেই থাকতে লাগলাম !
সন্ধ্যার সময়ে যখন মেয়েটা আসতোও কথা বলতাম মেয়েটার সাথে ! কিন্তু একদিন আমার টনক নড়লো !
যেদিন আমি ঠিক করলাম যে মেয়েটাকে আমার মনের কথা জানাবো সেদিনই আমার কাছে আসল কথাটা ধরা পড়লো ! যথারীতি আমি সন্ধ্যার সময়ে ! ঐ দিন ছুটির দিন ছিল ! সন্ধ্যার একটু পরেই মেয়েটা আসলো ! আমি কথা বলতে যাবো ঠিক তখনই মেয়েটার পিছনে একটা যুবক ছেলে আসলো ! যুবক ছেলেটার কোলে মেয়েটির ছোট্ট ভাই টি !
হঠাৎ যুবক ছেলেটি বলল
-এই বাবুকে একটু নাও !
মেয়েটি বলল
-দাও !! তুমি আবার এলে কেন ? তোমার না শরীর ভাল লাগছে না ! শুয়ে থাকো গিয়ে !
-আহা ! মাসের ভিতর একবার আসি ! তুমি একা একা থাকো ! আমি চাই এই সময়টা সব সময় তোমার সাথে থাকি !!
আমার মুখ হা হেয় গেল !
আমি এতো দিন বুঝতে পারি নাই ! এই মেয়ে বিবাহিত !! যেই পিচ্চিটাকে আমি মেয়েটার ভাই মনে করেছি আসলে সেইটা মেয়েটার পোলা !!
ও মাই গড !!
ও মাই গড !!
এই ভাবে ধরা খাইলাম আমি !! এই ভাবে মানুষ ধরা খায় !!
ফেবু লিংক
ই ভাবে ধরা খাইলাম আমি !! এই ভাবে মানুষ ধরা খায় !!
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন
এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)
এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সংকীর্ণ মন

রাস্তার মোড় যেনো সংকীর্ণ মন
ঘর উঠনে রাখবে আর কত কাল
চোখের নেশায় লালসার আগুন
জ্বলছে নিভবে না আর অমরণ
কখন মন জানালায় দেখেছ পায়রা
ভাবনার সফলী মাঠে যাচ্ছে উড়ে
দেখো নাই যে শান্তির পায়রা মন-
সংকীর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন
জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন
ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।