somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক পরীর গল্প !!

২১ শে আগস্ট, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা ছিল ছোট্ট পরী । সে সারা দিন আপন মনে খেলা করতো ! কত শত গান গাইতো । নাচতো আপন মনে ! ফুলের বাগানে ঘুরে বেড়াতো !



প্রতিদিন বিকেল বেলা সেই ছোট্ট পরী তার বাবা-মার হাত ধরে ঘুরে বেড়াতো ! বাবা আর মা কে সে অনেক ভালবাসতো !



রাতে বাবাকে ছাড়া ঘুমাতোই না !
পরীর বাবা প্রতিদিন পরীকে গল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়াতো !



একদিন পরীর বাবা পরীকে ছেড়ে অনেক দুরে চলে গেল ! পরী অনেক কাঁদলো ! কিন্তু পরীর বাবা আর ফিরে এল না !
পরীর মা অনেক বুঝালো ! কিন্তু পরী তবুও কাঁদতো !
আর আগের মত নাচতো না ! গাইতো না ! একা একাই থাকতো !



এই ভাবেই পরী আস্তে আস্তে বড় হতে থাকলো !



একদিন হঠাৎ করে পরীর জীবনে এক ডায়নীর ছায়া পড়লো ! ডায়নী পরীর কত ক্ষতি করতে চাইতো কিন্তু পরীর কোন ক্ষতি করতে পারতো না ! তবুও ডায়নী টা পরীর পিছনে লেগেই থাকতো !




পরীর তখন আর একটু বড় ! দুর দেশে হাজির হল পড়া লেখার জন্য !
কত কিছু শিখতো ! কত কিছু জানতো ! আবার পরীর নিজের ভিতর নিজেকে ফিরে পেল !
আবার পরী গাইতে শুরু করলো । নাচতে শুরু করলো !




এমন একদিন পরী বনের ভিতর আপন মনে গাইছিল ! হঠাৎ করেই এক রাজকুমারের সাথে পরীর দেখা হয়ে গেল !
রাজকুমার অনেক দিন থেকে পরীর গান শুনে আসছিল লুকিয়ে লুকিয়ে !




প্রথম দেখা তেই পরীর প্রেমে পরেছে ! সব কিছুর ছেড়ে পরীর কাছে আসতে চাইলো সে !
পরীও সেই রাজকুমার কে ভালবাসলো !




কিন্তু সেই ডায়নী এখন পরীর পিছু ছাড়ে নি ! সেই ডায়নী রাজকুমার কে মন্ত্র দিয়ে তার সব স্মৃতি ভুলিয়ে দিল ! পরীর সব কথা রাজকুমারের মন থেকে হারিয়ে গেল !




পরী আবার একা হয়ে গেল ! পরী আবার একা একাই দিন কাটাতে লাগলো ! সব কিছু ভুলে থাকতে পরী নিজেই নিজের এক জন কাল্পনিক বন্ধু বানিয়ে নিল !
সেই কাল্পনিক বন্ধুর সাথেই পরীর দিন কাটতে লাগলো ! এতো কিছুর মাঝেও পরী গান গাইতো ! আপন মনে নাচতো ! আট নিজের কাল্পনিক বন্ধুর সাথে কথা বলতো ! এভাবেই দিন কেটে যাচ্ছিল পরীর




আস্তে আস্তে পরীর গুনের কথা মানুষ জন জানতে শুরু করলো ! দুরদুরান্ত থেকে মনুষ আসতো পরীর সাথে কথা বলার জন্য ! পরীর কন্ঠের গান শোনার জন্য !
পরী কিন্তু কারো সাথে দেখা করতে পারতো না ! সেই ডায়নী যাবার আগে পরীকে মন্ত্র দিয়ে আটকে রেখে গিয়েছিল ! সেই মন্ত্রের তোড় সে একটা বোতলে ভরে নিয়ে গেল নিজের সাথে । নিজের গলায় ঝুলিয়ে !
পরী ঘরের পাশে একটা বড় বারান্দা ছিল কাঁচে ঘেরা ! পরীর যখন গান গাইতে ইচ্ছা কর‌তো তখন বারান্দায় এসে গান গাইতো ! মানুষজন বারান্দার নিচে দাড়িয়ে গান শুনতো !




এমনই করে দুর দেশের আরেক সাধারন ছেলে আসলো পরীর গান শোনার জন্য ! সবাই যখন চল গেল গান শুনে সেই ছেলেটি তবুও বসে রইলো পরীকে দেখার জন্য ! পরীর কন্ঠ ঠিক তার বড় বোনের মত ! ছেলেটির বড় বোনও তাকে ঠিক এই ভাবেই গান শোনাতো !
ছেলেটির বড় বোন মারা গেছে অনেক দিন আগে !
সেই একবার পরীর সাথে দেখা করতে চাইলো !




কিন্তু পরী দেখা দিল না !
এভাবে যখন সাত দিন সাত রাত পার হল তখনও ছেলেটি সেই জায়গায় বসে রইলো !
তখন পরীর একটু মায়া হল !





প্রহরীকে বলে সে ছেলেটি কে নিজের প্রাসাদের ভিতর নিয়ে এল ! পরী পর্দায় আড়াল থেকেই দেখতে কে দেখতে লাগলো !
যখন ছেলেটি কে খাবার দেওয়া হল সে খেতে অস্বীকৃতি জানালো ! সে বলল যে সে পরী কে নিজের চোখে না দেখে কিছু খাবে না !




পরী কি করবে কিছুই ভেবে পেল না ! পরী বলল তার দেখা করতে হলে সেই ডায়নি বুড়িকে মেরে তার গলায় ঝুলানো লকেট নিয়ে আসতে হবে ! আর লকেটক টা আনতে হবে ঠিক তার জন্মদিনের চার দিনের মাথায় ! তা না হলে দেখা হবে না !





ছেলেটি তখনই বের হয়ে গেল ! কারন হাতে সময় ছিল খুব কম !
সাত দিন সাত রাত পার করে ছেলেটি সব থেকে উচু পাহারে গিয়ে হাজির হল যেখানে ডায়নী বুড়ি ছিল !
ডায়নি বুড়ির কে মেরে ছেলেটি বুড়ির গলার গলায় ঝুলনো বোতল নিয়ে আবার রওনা দিল পরীর প্রসাদের উদ্দেশ্য !




ঠিক ঠিক পরীর জন্মদিনের চার দিনের মাথায় হাজির হল পরীর রাজ প্রসাদের সামনে ! আজকে পরীর সাথে তার দেখা হবে ! বোতলে রভেতরে ধোঁয়া জাতীয় কিছু ছিল । ছেলেটি সেই ধোঁয়া প্রসাদের চারি পাশে ছিটিয়ে দিল ! মন্ত্র দুরে হয়ে গেল ! এখন পরী মুক্ত !
পরী কি এখন বের হবে ?
তার মত একজন সাধারন ছেলের সাথে দেখা করবে ! তবুও ছেলটি দারিয়েই রইলো !
এতো দিন পরে ছেলেটি তার হারানো কাউকে ফিরে পাবে ! এই আশায় ছেলেটি দাড়িয়ে রইলো !
আজ কি তার সাথে পরীর দেখা হবে ? ঐ তো সূর্য অস্ত যাচ্ছে । ঠিক তখন প্রাসাদের দরজা খুলে গেল ! এই তো বেড়িয় আসছে !
কেউ একজন বেড়িয়ে আসছে !





পরী আপুর জন্মদিনে ঢাকাতেই ছিলাম না ! কি করি !! একটু দেরী হয়ে গেল ।
যাক না !
আমি জানি পরী আপুর কাছে এটা কিছু মনেই হবে না !
একটু দেরীতে হলেও আপু তোমাকে জানাই শুভ জন্মদিন !!

ঠিক পরীর মতই যেন সুন্দর হয় তোমার জীবন !!
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্বর্গে এখন বাচ্চা বিক্রি শুরু হয়েছে।

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৬ ই আগস্ট, ২০২২ সকাল ১১:০৭






স্বর্গে এখন বাচ্চা বিক্রি শুরু হয়েছে। আমরা এখন এমন এক স্বর্গে বাস করছি যেখানে মা তার একমাত্র সন্তানকে বিক্রি করে বেঁচে থাকতে চান। কি দুঃখের, কি লজ্জার দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

গামারি

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৬ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:০৯



২০১৬ সালের মার্চ মাসের সকালে কাধে ছোট একটি ব্যাগ ঝুলিয়ে বেড়িয়েছি বাড়ি থেকে। গাজীপুরের টাকশাল-শিমুলতলী পথ ধরে রেল লাইনে উঠে পায়ে হেঁটে চলে যাবো রাজেন্দ্রপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত। ভাওয়াল-গাজীপুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি গরীব আমার ১৩ টাকায় একটি ডিম ১৫ টাকায় একটি সাগর কলা কিনে খাওয়ার অবস্থা নেই।

লিখেছেন ভার্চুয়াল তাসনিম, ১৬ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ২:১২

প্রিয় রাষ্ট্র,
গতকাল মাত্র শোক দিবস চলে গিয়েছে। আপনি কি দেখেছেন? এই শোক দিবসে দেশের আপামর জনসাধারণ শোক পালন না করে ডিম নিয়ে মেতে ছিল। বুঝেছি মেনেছি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে অস্থিতিশীল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভিন্ন নিক থেকে ব্লগিং করার কথা ভাবছি

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ২:৩৩


" কষ্টের পোস্টে কিছু লিখতে যে সূক্ষ অনুভূতি আর সংবেদনশীলতা দরকার, তা আজকের চাপের পৃথিবীত বজায় রাখা মুশকিল। কেউ কেউ হয়তো পারেন- যেমন স্বপ্নবাজ সৌরভ।" - নিমো... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্টের সন্তান বিভক্তি

লিখেছেন পথিক৬৫, ১৬ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৪:৪০

বরগুনায় পুলিশ ছাত্রলীগ পেটাল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, "বাড়াবাড়ি হয়েছে"। ঘটনার পরের দিনই এসপি সাহেব বদলির নোটিশ পেলেন। দেশের মিডিয়া এই ঘটনাকে নিয়ে হুমরি খেয়ে পড়ল। কার পক্ষ নিবে- পুলিশ নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×