somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ তরুণীর সুইসাইড কর্মসূচি!

২৮ শে এপ্রিল, ২০১৪ সকাল ১১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


-আপনার সমস্যা কি ?
-কোন সমস্যা নেই !
-তাহলে এখানে কি করছেন ?
-আপাতত কিছু না ! তবে আপনি যা করতে এসেছেন আমিও ঠিক সেই কাজ টাই করতে এসেছি !

নীলা কিছুটা সময় সামনে দাড়ানো ছেলেটার দিকে তাকালো ! ছেলেটার হাতে একটা কাগজের ঠোঙগা ! সেখান থেকে একটু পরপর কিচু একটা নিয়ে মুখে দিচ্ছে ! বাদাম মনে হয় ! বয়স খুব বেশি হলে ২৩/২৪ হবে ! ওর থেকে দুএক বছর বড় হবে হয়তো ! তবে ছেলেটার শেষ কথাটা নীলাকে বেশ খানিকটা ধাক্কা দিল ! নীলা এখানে কি করতে এসেছে এটা ছেলেটার কিছুতেই জানার কথা না ! তাহলে এই কথা কেন বলল ছেলেটা ?

-আপনি কি বলতে চান ?
-বলতে চাচ্ছি যে আপনি যে উদ্দেশ্য এই রেল লাইনের ধারে বসে আছেন আমিও ঠিক একই উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে বসে আছি !
-দেখুন ! লাইনে আসুন ! কি বলতে চান সোজাসুজি বলেন !
ছেলেটি এবার নীলার পাশে বসতে বসতে বলল
-আমি তো লাইনে আসার জন্যই এখানে এসেছি ! আমি ঠিক করেছি সুন্দরবন এক্সপ্রেসে নিচে কাটা পড়ে মবরো ! সুইসাইড করবো আর কি ! আপনিও তো তাই করতে এসেছেন এখানে । তাই না ?
-কি বলছেন এসব ?

নীলার কথা শুনে ছেলেটি অদ্ভুদ ভাবে হাসলো ! কিছুক্ষন অন্য দিকে তাকিয়ে থেকে বলল
-আমি জানি ! এখানে মানুষ মরার জন্যই আসে ! গত কয়েকমাসে এখানে প্রায় ছয়জন মারা গেছে !
নীলা কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারলো না ! চুপ করে রইলো ! কিছু অবশ্য বলারও নাই ! নীলা আসলেই এখানে মরার জন্য এসেছে !

সকাল বেলা ঠিক করেছে কাজটা করবে ! নীলার রাগ উঠলে মাথায় কিছুই ঠিক থাকে না ! হাতের কাছে প্রথমে যা পায় তাই ভেঙ্গে ফেলে ! তারপরেও রাগ কমে না ! তখনই মরে যেতে ইচ্ছা করে ! রাগ টা তখন অভিমানে রূপান্তর হয় ! সকালবেলাতেই ঠিক এমন হয়েছে ! প্রথমে ভেবেছিল গলায় দড়ি দিয়ে মরবে কিন্তু ঘরে সিলিংসের সাথে ঝুলানোর মত শক্ত কিছুই খুজে পেল না !
ভাবল ঘুমের ঔষধ খেয়ে মরবে কিন্তু গতবারে এই চেষ্টা করেছিল । হলে থাকে, তাই লোকজন ভর্তি ! ওকে ঠিকই বাঁচিয়ে দিয়েছে ! আর দোকান থেকে ঘুমের ঔষধ কেনা টা অনেক ঝামেলার বিষয় !
তারপর চিন্তা ভাবনা করে এই ট্রেনের নিচে কাটা পরে মরাই ওর কাছে সহজ মনে হল ! তাছাড়া জায়গাটা ওদের ক্যাম্পাস থেকে কাছেই ! এখানে আগেও অনেকে মরেছে ! ওর জন্য সহজ হবে !

ছেলেটি বলল
-এই রোদে এখানে না আসলেই কি হত না ? আপনার চামড়া তো পুড়ে যাচ্ছে ! মারা যাবার পর যখন পত্রিকায় ফটো উঠবে তখন তো তখন ভাল উঠবে না ! কালো দেখাবে !
নীলা খানিকটা অবাক হয়ে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে রইলো ! বলে কি ছেলেটা ?
এখানে সে মরতে এসেছে নাকি চামড়ার যত্ন নিতে এসেছে । মরে গেলে চামড়া পুড়ায় কি যায় আসে ? নীলা বলল
-আপনি কি আমার সাথে ফাজলামো করার চেষ্টা করছেন ?
-না ! সত্য বলছি ! যখন ট্রেন টা আপনার শরীরের উপর দিয়ে চলে যাবে এবং পত্রিকায় সেই ছবিয যখন ছাপানো হবে তখন আসলেই দৃশ্যটা দেখতে কারো ভাল লাগবে না ! তার উপর দিয়ে গায়ের রং যদি পুড়ে যায় তাহলে কেমন লাগবে বলুন !

নীলা আবারও ছেলেটার দিকে তাকিয়ে রইলো ! কিছু বলল না !
এই ছেলের সাথে কথা বলার কোন মানে নেই ! তার থেকে অন্য দিকে যাওয়া যাক !
নীলা উঠতে গেল ! তখনই ছেলেটা বলল
-আরে কোন দিকে যান ? ঐ দিকে গেলে কেউ আপনাকে দেখে ফেলতে পারে ! তখন কিন্তু আর সুইসাইড করতে পারবেন না !
নীলা উঠতে গিয়েও বসে পড়লো আবার ! এদিকে ছেলেটা একমনে ঠোঙগা থেকে বাদাম নিয়ে খেয়েই চলেছে !
নীলা বলল
-আপনিও কি সুইসাইড করতে এসেছেন ?
-ইয়াপ !
-বাদাম খেতে খেতে ?
-হুম ! সেই কৌতুক টা পড়েন নাই ? এদেশের ট্রেনের টাইম টেবিল বলে তো কিছু নাই ! তার যদি ক্ষুদা লাগে তাই সাথে করে বাদাম নিয়ে এসেছি ! আপনি খাবেন ?

এই বলে ছেলেটি বাদাম এগিয়ে দিল নীলার দিকে ! এবং অবাক করার বিষয় নীলা নিজেও বাদাম নিয়ে মুখে দিল !

ছেলেটির ঘড়ির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে নীলা বলল
-কি দেখছেন ?
-না । ট্রেন লেট মনে হয় ! দেড়টার সময় ট্রেন আসার কথা ! এখন একটা চল্লিশ বাজে ! দেখছেন কি অবস্থা ! ঠিক মত মরবো সেটারও উপায় নেই !
-হুম ! আসলেই মরেও শান্তি নেই !
ছেলেটি হঠাৎ বলল
-এই বারই প্রথম ?
নীলা ছেলেটির কথা ঠিক মত বুঝতে পারলো না !
-কি প্রথম ?
-এই সুইসাইডের চেষ্টা ?
-নাহ !
-আরও করেছেন ?
-হুম !
ছেলেটি বলল
-কেইস টা কি ? ভালবাসা !
নীলা কিছুটা সময় আবার চুপ করে থেকে বলল
-হুম !
-সমস্যা কার ? আপনার নাকি তার ?
-তার অবশ্যই !

ছেলেটা কেন জানি হেসে ফেলল ! নীলার দিকে তাকিয়ে বলল
-সত্যি কি তার ?
নীলা গোমড়া মুখে বলল
-না ! সব টুকু তার না ! আমার নিজেরও আছে ! আমি অল্পতেই রেগে যাই আর মুখে যা আসে তাই বলে ফেলি ! আর.....
-আর ?
-আর আমি সরি বলতে পারি না !
-তো ? ব্রেক আপ হয়ে গেছে ?
-হুম !
-এই সুইসাইড ?
-হুম !
-আপনি তো দেখছি আচ্ছা বেকুন টাইপের মেয়ে ?
-মানে ?
-মানে কিছু না ! বেকুব মেয়েদের সাথে কথা বলতে ভাল লাগে না ! দেন, আমার বাদামের ঠোঙনা ফেরৎ দেন !

নীলাকে অবাক করে দিয়ে ছেলেটি নীলার হাত থেকে বাদামের ঠোঙগা টা নিয়ে নিল । তারপর নীলার দিকে তাকিয়ে বলল
-আজকে আপনার সাথে আমি মরবই না ! আপনার মত বেকুব মেয়ের সাথে মরলে আমার মান সম্মান থাকবে না ! হু !

এই বলে ছেলেটি উঠে চলে গেল ! নীলার হঠাৎই এমন মেজাজ খারাপ হল ছেলেটার উপর কিন্তু কিছুই বলতে পারলো না ! কোন মানুষ আজ পর্যন্ত ওর সাথে এমন ব্যবহার করে নি ! আর এই ছেলের সাহস কত বড় !
দাড়া ! ওকে একটা শিক্ষা দিতে হবে ! আবীর কে বলে একটা শিক্ষা দেওয়া বে !

নীলা আর দেরী না করে নিজের জিন্সের পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করলো ! ফোন করলো আবীর কে !

-কোথায় তুমি ?
-কেন ?
-এক্ষুনি আসো !
-কোথায় আসবো ?
-কাঠাল তলায় আসবা ! একটুও দেরি করবা না বলে দিলাম !





-দোস্ত ! কাম হইছে ! ও ফোন দিছে !
-হবে ! আমি বলেছি না !
-এখন ?
-যা ! তার কাছে গিয়ে একদম সোজা হয়ে থাক !
-থ্যাকংস দোস্ত ! এমনিতে ভয়ে ছিলাম ! প্রতিবার একটা করে ঝগড়া হয় আর ও এমন একটা বোকামী করে ফেলে ! ভাগ্য ভাল এইবার তোর বুদ্ধি শুনেছিলাম !
-যা যা জলদি যা ! দেরি করিস না !

আবীর আর দেরি করে না ! দ্রুত হাটা দেয় কাঠাল তলার দিকে !


সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ২:১৪
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×