somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রহস্যের কঙ্কাল হ্রদ বা স্কেলেটন লেক !

২৮ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আপনি পাহাড় বেয়ে উঠছেন ! এমন সময়ে পাহাড়ের পাদদেশে একটা হ্রদ দেখতে পেলেন ! একটু পানি খাওয়ার জন্য হ্রদের কাছে গিয়ে যেই পানি খেতে যাবেন তখনই দেখতে পেলেন হ্রদের কিনারে মানুষের মাথার খুলি পড়ে রয়েছে ! এবং তাকিয়ে দেখলেন কেবল একটা না ! সারা লেক এবং লেকের কিনারে মানুষের মাথার খুলি, হাতের হাড় পায়ের হাড় !
কেমন লাগবে শুনি ?
যদি খুব বেশি সাহসী না হন তাহলে ঘুরে দৌড় মারার সম্ভাবনা শত ভাগ ! সাহসী হলে হয়তো দাড়িয়ে রহস্য বোঝার চেষ্টা করবেন ! তবে মনে একটা প্রশ্ন আপনার জাগবেই যে এই জনমানব শূন্য পাহাড়ে এতো গুলো মাথার খুলি আসলো কিভাবে ?

আসলে ঠিক এমন একটা ঘটনাই ঘটেছিল ১৯৪২ সালে ! ভারতের রুপকুন্ডে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭০০০ ফুট উচ্চতায় পাহারের পাহেরের পাদদেশে একটা ছোট্ট উপত্যকায় এমন এটা লেকের সন্ধান পান ব্রিটিশ ফরেস্ট গার্ডের একটা দল ! জমাট বাঁধা সেই লেকের পানিতে এবং এর আশে পাশে দেখা যায় বেশ কিছু মানুষের হাড় মাথার খুলি আর কত কিছু !
যখন গ্রীষ্মকালে বরফ গলা শুরু করে তখন আরও হাড় গোড় খুলি আবিস্কার হয় ! প্রায় ২০০ লোকের কঙ্কাল পাওয়া যায় সেই লেক থেকে ! সেখান থেকেই কঙ্কালের হ্রদ বা স্কেলেটন লেক নামে জায়গাটা পরিচিত !



স্কেলেটন লেক উত্তর ভারতের নেপাল সীমান্তের কাছে অবস্থিত যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৮০০ মিটার উপরে অবস্থিত এবং বেশির ভাগ সময়েই বরফে ঢেকে থাকে ! প্রথম বারের মত যখন কঙ্কাল গুলো আবিস্কার হয় তখন প্রথমেই ধারনা করা হয় যে সেগুলো হয়তো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার কোন জাপানিজ সৈনিকদলের হয়ে থাকবে ! যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে হয়তো পালিয়ে কিংবা লুকিয়ে থাকার সময়ে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকবে !
আবার কেউ কেউ মনে করলো আসলো কঙ্কাল গুলো ভারতীয় সৈন্যদের ! কাস্মীরের জেনারেল জরাওয়ার সিং এবং তার দলের ! তিব্বত যুদ্ধ চলা সময়ে হঠাৎ করে জেনালের জটাওয়ার সিং তার সৈন্য দল নিয়ে গায়েব হয়ে যান ! ধারনা করা হয় যে এই লেকে এসে বিরূপ আবাহাওয়ার কারনে জেনারেল মারা পড়েন !
কিন্তু স্থানীয় মিথ আছে যে কঙ্কাল গুলো আসলে হিমালয় দেবীর অভিসাপের ফলে মারা কোন বিদেশী পর্যটক কিংবা বনিক দলের ! মিথ বলে হিমালয় দেবী তার এলাকায় বহিরাগতদের কিছুতেই সহ্য করতেন না ! একবার একদল লোক হিমালয় দেবীর এলাকায় ঢুকে পড়ে তখন ক্ষিপ্ত হয়ে দেবী তাদের উপর পাহাড় ধস নামান !



এরকম আরও অনেক কথা প্রচলিত আছে ! অনেক টা সময় এই কঙ্কাল লেকের রহস্যটা রহস্যই রয়ে যায় ! কিন্তু ২০০৪ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফির একদল বৈজ্ঞানিক কঙ্কাল হ্রদের উপর পরীক্ষা নিরীক্ষা চালায় ! এবং আশ্চার্য এক আবিস্কার করে বসে ! তারা সেখান থেকে বেশ কয়েকটি কঙ্কাল নিয়ে আসে যেটাতে কিছু মাংস এবং চুল লেগেছিল ! সারা বছর বরফ দিয়ে আচ্ছাদিত থাকার কারনে সেগুলো কোন রকমে টিকে আছে !
ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আশ্চার্য একটা তথ্য সামনে আসে !
হাড় খুলী গুলো প্রায় ১২০০ বছর পুরোনো ! ৮৫০ এডি সময়কার ! ভাবা যায় ?
এবং আরও একটি চমকানোর মত তথ্য পাওয়া যায় সেই সমস্ত হাড়গোড় পরীক্ষা করে ! তা হলো কঙ্কালগুলো দুটি আলাদা বৈশিষ্ট্যের দলভুক্ত। একদলের ডিএনএর বৈশিষ্ট কাছাকাছি পর্যায়ে অর্থাৎ তারা একই শ্রেনী কিংবা পরিবারের অন্তভুক্ত এবং অন্য দল সম্ভবত তাদের গাইড জাতীয় কেউ ছিল যারা ঐ দলটাকে পথ দেখিয়ে এই উপত্যকা পার করিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল !




এখন প্রশ্ন জাগতে পারে যে তারা কিভাবে মারা গিয়েছিল ? কেউ কি তাদের কে হত্যা করেছিল ? কঙ্কাল গুলো পরীক্ষা করে আরও জানা যায় যে গোল জাতীয় শক্ত কিছু আঘাতে তাদের মৃত্যু হয়েছে এবং সেই গোল জাতীয় জিনিস টা খুব বেশি বড়ও নয় ! টেনিল বলের কাছাকাছি হবে ! এবং আঘাত গুলো কেবল মাথায় আর কাধে ! সারা শরীরে আর আঘাত নেই ! এর অর্থ, কেবল একটাই হতে পারে যে উপর থেকে হঠাৎ করে কিছু তাদের উপর পরেছে ! এবং মাথা গোজার ঠাই না পেয়ে তারা সেই শক্ত গোলাকার কিছুর আঘাত পেয়ে মারা গেছে !




ধারনা করা হয় যে কোন বরফ নয় বরং প্রচন্ড শিলা বৃষ্টির কারনে সেই অভিযাত্রীদের মৃত্যু হয় ! হ্যা এটা সত্যি যে শিলা বৃষ্টির শিলাখন্ডের আয়তন স্বাধারনত এতো বড় হয় না কিন্তু পরিসংখ্যান বলে যে বড় শিলাখন্ড কিংবা শিলাবৃষ্টির অভিজ্ঞতা পৃথিবীর মানুষের আছে ! সব থেকে ভয়ানক যে শিলাবৃষ্টি হয়েছিল ইএসএতে যার শিলাখন্ডের দৈর্ঘ্য ছিল আট ইঞ্চি এবং ওজন ছিল প্রায় দুই পাউন্ড ! তাছাড়া ইতিহাতের সব থেকে ভয়ানক শিলাবৃষ্টিটি হয়েছিল এপ্রিল ৩০, ১৮৮৮তে উত্তর ভারতের জেলা গুলোতে । এতে প্রান হানি হয় প্রায় ২৩০ জনের এবং এই বৃষ্টিতে শিলাখন্ড গুলো প্রায় কমলালেবুর মত বড় ছিল !



তাই ধারনা করা হয় কঙ্কাল হ্রদের মানুষ গুলোর উপর এই শিলাবৃষ্টিই আঘাত এনেছিল এবং উপত্যকার কোথাও মাথা গোজার মত স্থান না পেয়ে তারা মারা গিয়েছে ! আসলে কঙ্কাল হ্রদের মানুষ গুলো কিভাবে মারা গিয়েছিল তার রহস্য হয়তো কোন দিনই জানা যাবে না ! এভাবে রহস্য হয়ে বেঁচে থাকবে আমাদের পৃথিবীর বুকে !


কয়েকটি ভিডিও দেখতে পারেন
ভিডিও এক
ভিডিও দুই
ভিডিও তিন
ভিডিও চার



তথ্য সুত্রঃ
Skeleton Lake of Roopkund, India
Mystery Solved – The Skeleton Lake of India
The Skeleton Lake of Roopkund, India






সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৩:১৫
২১টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×