মহাশুন্যে কৃত্রিম উপগ্রহে বসে নভোচারী পৃথিবী পর্যবেক্ষন করছেন । তার মেজাজ টা একটু খারাপ হয়ে আছে কারন এক টানা কাজ করতে হচ্ছে ! এদিকে ক্যাপ্টেন তার সুন্দরী সহকারীর সাথে মহা শুন্যে ঘুরতে বেরিয়েছে ।
ফাজিল ক্যাপ্টেন !
নভোচারি নিজে সেই সুন্দরী সরকারী কে নিয়ে বাইরে যাওয়ার প্লান করছিলেন ! কিন্তু বদ ক্যাপ্টেনের জন্য সেইটা হল না !
নভোচারী বিরক্ত মুখে পৃথিবীর পৃষ্ঠ/সারফেস পর্যবেক্ষন করতে লাগলেন আর রিডিং নিতে লাগলেন ! ঠিক তখনই একটা অবাক বিশ্ময় করা জিনিস তার চোখ পড়লো ! কয়েকবার চোখ ডলেও তিনি বারবার মনিটের দিকে তাকালেন ! নিজের চোখ কে যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না !
বারবার কেবল মনে হচ্ছিল এতো অসম্ভব ?
এতো বড় চোখ কি কোন প্রানীর হতে পারে ?
নীল চোখ ?
পাঠকের কি মনে হচ্ছে আমি কোন গল্প লিখছি ? হ্যা ! কিছুটা তো গল্পই তবে বাস্তব একটা গল্প ! ঐ দিন ঐ নভোচারী আসলেই কিন্তু পৃথিবীর পৃষ্ঠে এমন একটা নীল চোখ দেখতে পেয়েছিলেন !
এবং এখনও সেই চোখের অস্তিত্ব রয়েছে ! এবং এখনও নভোচারী রা এটা এটাকে একটা ল্যান্ডমার্ক হিসাবে ব্যবহার করে !
কি মনে হচ্ছে না আমার মাথায় সমস্যা দেখা দিছে ! মহাশুন্যে দেখা যায় এমন বড় চোখ কি পৃথিবীতে থাকা সম্ভব ?
জি হ্যা ! সম্ভব । তবে সেটা কোন মানুষ কিংবা প্রানীর চোখ না ! সেটা একটা মহাদেশের চোখ !
মহাদেশের চোখ ?
একটু আগে আমার এই কথা শুনে মনে হচ্ছিল আমি মনে হয় গঞ্জিকা খেয়ে পোস্ট লিখতে বসেছি আর এখন নিশ্চই মনে হচ্ছে "নাহ ! এই পাব্লিক তো কেবল গঞ্জিকা না, হেরোইনও খায় নিয়মিত"
যাই মনে করেন কিংবা লাইন টা পড়ে যাই মনে হোক না কেন আসলেই কিন্তু মহাদেশের চোখ বলে একটা জিনিস আছে এই এই পৃথিবীতে !
উপরের দুটো ছবির দিকে তাকান ভাল করে !
মধ্য আফ্রিকার দেশ মৌরিতানিয়ায় সাহারা মরুভূমিতে প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই নীল চোখ টি অবস্থিত ! অবশ্য ঐ খানে গেলে আপনি কিছু বুঝতে পারবেন না ! আপনাকে এই চোখ টা দেখতে স্পেসে যেতে হবে ! যদি সেটা সম্ভব না হয় তাহলে গুগুল আর্থ থেকে খানিকটা দেখতে পারেন ।
এই চোখটিকে বলে সাহারার চোখ বা রিচ্যাট স্ট্রাকচার !
প্রথমে প্রশ্ন আসতে পারে কিভাবে এই চোখের সৃষ্টি হয়েছে ? সত্যি বলতে কি এর সদ্বউত্তর এখনও পাওয়া সম্ভব হয় নি ! অনেকে মনে করে গ্রহানুর বিশেষ প্রভাবে এই চোখাকৃতি টা ধারন করেছে অথবা আগ্নেওগীরির অগ্নিউৎপাত থেকে এই রকম একটি চোখের সৃষ্টি ! কিন্তু নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারে না ! কেউ কেউ তো আবার এর পিছনে এলিয়েনদের হাত আছে বলে ধারনা করে !
আবার অনেক মনে করে কোন দেশ হয়তো গোপনে সেখানে কোন আনবিক বোমার পরীক্ষা চালিয়েছে তাই এর আকৃতি এমন হয়ে গেছে !
সব থেকে মজাদার ব্যাখ্যাটা পাওয়া যায় আরও কিছু বিজ্ঞানীদের কথা শুনে ! অনেকে মনে করেন রিচ্যাট স্ট্র্যাকচারের বর্ণনা প্লেটোর হারিয়ে যাওয়া শহর এটলান্টিসের সাথে অনেকাংশে মিলে যায় ! প্লেটোর বর্ণনানুসারে এটলান্টিস নামের গোলাকৃত্রিট দ্বীপ টি পানি এবং ভুমি দ্বারা সমবিভক্ত ছিল যা দুই ভাগ ছিল ভুমি আর তিন ভাগ ছিল পানি ! যেহেতু এটলান্টিস ছিল সমুদ্রের একটা অংশ সেহেতু যখন ভূমিকম্পে এটলান্টিস তলিয়ে যেতে শুরু করে তখন জল এবং মাটির সংমিশ্রনে একটা অসম্ভব মাটির বাঁধা সৃষ্টি হয়ে দ্বারায় সমুদ্রের জন্য সেটা কে সম্পূর্ন গ্রাস করার ক্ষেত্রে ! প্লেটো এতো বলেন যে এটলান্টিসে চারিপাশে কয়েকটি পাহার ছিল যা সমুদ্র থেকে শহরটিকে আজও বাঁচিয়ে রেখেছে কোথাও ! যাই হোক সেই এটলান্টিসের গঠন বর্ণনা অনেক টাই এই সাহারার এই নীল চোখের বর্ণনার সাথে মিলে যায় ! কিন্তু কোথায় আগরতলা আর কোথায় খাটের তলা ! ঐ শহর মধ্য আফ্রিকায় আসবে কিভাবে ?
তবে অনেকেই এটাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয় ! তারা বলেন যে এই রিচ্যার টি গঠিত হয়েছে প্রকৃতির খেয়ালে এবং সেখানকার ভূমি এবং পাথরের গঠনের জন্যই ! ওখানকার ভূমির গঠনই এরকম ডোমাকৃতির, চোখের আদলে উচু হয়ে পরে আবার নিচু হয়ে এসেছে এবং সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে উপরের মাটি আর বালু ক্ষয়ে যাওয়ায় মূল গঠনটা বের হয়ে এসেছে যা উপর থেকে দেখলে অনেক টা চোখের মত দেখায় ! নিচের ছবি দুটির মতঃ
তবে এটা সত্য যে এই চোখ টি সম্প্রতিকালের কোন সৃষ্টি নয় ! রিচ্যাট স্ট্র্যাকচারের ভিতরে উত্তর দিককার যে kimberlite plug এবং carbonatite পাথরের সন্ধান পাওয়া গেছে যেগুলো প্রায় ৯৪ ঠে ১০৪ মিলিয়ন বছর পুরানো । সুতরাং আমরা এটা নিঃসন্ধেহে বলতে পারি যে স্ট্র্যাকচার টি কমপক্ষে ১০০ মিলিয়ন বছর পুরানো !
তবে আমরা জানি যে ৪০০০০ বছর আগে সাহারা একটি বিশাল হ্রদের অস্তিত্ব ছিল আবার 6500BC তেও সাহারায় আদ্রতা বজায় ছিল সুতরাং একেবারে নিশ্চিত করে কিছুই কিন্তু বলা যায় না যে কিভাবে আসলে রিচ্যাট টি গঠিত হয়েছে ! এখনও এটা রহস্যই রয়ে গেছে !
গুগুল আর্থ থেকে দেখতে এমন লাগবে
নিজে গুগুল আর্থে দেখতে এই লিংকে দেন ! যদিও শিওর না কাম হবে কি না !
কিছু ভিডিওও দেখতে পারেন
লিংক দিয়ে দিলাম নিচে
আপাতত আজকে এখানেই !
তথ্য সুত্রঃ
The Richat Structure: Eye of the Sahara
The Mystery of the Giant Blue Eye of Africa in Mauritania by Antoine Gigal
Richat Structure, Mauritania
The Richat Structure: The Eye of the Sahara
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০১৪ রাত ১০:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



