somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অতিপ্রাকৃত গল্পঃ ফুড ডেলিভারি সার্ভিস (পর্ব এক)

০১ লা জুলাই, ২০২০ রাত ৮:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবি গুগল



একটা সময়ে দুপুরের খাবার খেয়েই আমাকে দৌড় দিতে হত টিউশনিতে। দুপুরে ঘুমানোর উপায় ছিল না। কিন্তু লকডাউনের পর থেকে টিউশনী দুটোই বন্ধ হয়ে গেল । হাতে আমার অফুরন্ত সময় । ক্যাম্পাসে যেতে হয় না । কিন্তু সমস্যা হচ্ছে টিউশনী চলে যাওয়ার কারণে আমার হাত খরচে টান পড়তে শুরু করলো । বাসায় আমার টাকা চাইতে কখনই ভাল লাগে নি । বাধ্য হয়ে অন্য কাজ খুজতে শুরু করলাম । পেয়েও গেলাম একটা । ডেলিভারি ম্যানের কাজ ! তাও আবার রাতের বেলা ।

রাতের কাজ করতে হয় বলেই আমাকে এখন দুপুর বেলা ঘুম চলে আসে । আজকেও সেই রকম পরিকল্পনাই ছিল কিন্তু জেনির কারণে সেটা বাস্তবায়ন করা সম্বব হল না।
জেনি ফোন দিয়েছে । তার নাকি জরুরী কথা আছে ! আমাকে বলতেই হবে ! এবং আমাকে তা শুনতেই হবে । এটার সাথে নাকি আমার নিজের নিরাপত্তাও জড়িত ।

ঠিক হল দুপুরের খাবার আমরা এক সাথে খাবো ! নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত স্থানে পৌছে গেলাম । ডেলিভারি শুরুর পর থেকে অন্তত এই ব্যাপারটা আমার ভেতরে বেশ ভাল ভাবেই পেয়ে বসেছে । যে কোন স্থানে সময় মত গিয়ে পৌছানো । রেস্টুরেন্টে গিয়ে দেখি জেনি আগে থেকেই সেখানে বসে আছে । ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আমার বুঝতে কষ্ট হল না যে সে কিছু একটা নিয়ে চিন্তিত কিংবা বলা যায় কিছুটা ভীত সে ! আমরা রাত তিনটা পর্যন্ত ডেলিভারির কাজ করি । তারপর আমাদের ছুটি । আমি সোজা বাসায় গিয়ে ঘুম দেই । জেনির চোখের দিকে তাকিয়ে মনে হল ও একদমই ঘুমাতে পারছে না কদিন ধরে । চোখের নিচে কেমন কালো দাগ হয়ে গেছে । সেই সাথে চোখ গুলো যেন একটু বেশি ভেতরে ঢুকে গেছে ।
আমাকে দেখতেই জেনি খানিকটা হাসলো । শুকনো হাসি । মেয়েটা আসলেই কিছু নিয়ে চিন্তিত ।
আমি একটু হেসে বললাম, কি খবর? এতো জরূরী তলব ?

জেনি আমার দিকে তাকিয়ে বলল, আমি আর কাজ করবো না ?
আমি খানিকটা অবাক হয়ে বললাম, সেকি কেন ?
-না, আমি কাজ করবো না । তোমারও উচিৎ কাজ টা না করা !

বুঝতে পারলাম যে জেনির সাথে খারাপ কিছু হয়েছে কিংবা ও এমন কিছু দেখে ফেলেছে সেটা ওর দেখা উচিৎ হয় নি । আমি একটা বড় করে নিঃশ্বাস ফেললাম । মেয়েটাকে প্রথম যেদিন দেখেছিলাম সেদিনই মনে হয়েছিলো এই মেয়েটা কাজটা করতে পারবে না ঠিক মত । আজকে ঠিকই আমার ধারনাটা সত্যিই হল । বললাম, কি হয়েছে বলবে আমাকে ?
-তুমি কি জানো আমরা কাদের খাবার সরবারহ করছি ?
-না ! আমি জানি না । আমি জানতে চাইও না । আমাদের চাকরির প্রথম শর্তই তো এটা ছিল ! কি ডেলিভারি করছি আর কাদের ডেলিভারি করছি সেটা নিয়ে মোটেও কৌতুহল দেখানো যাবে না । আমি তো দেখাই নি । তুমি কেন দেখাচ্ছো ?
-আমি ...... আমি .....

জেনি কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল ! আমি ওর উদ্দিগ্ন চোখের দিকে তাকিয়ে রইলাম কিছুটা সময় । মেয়েটাকে কিছু যেন একটা শান্তি দিচ্ছে না । মেয়েটা কি ডেলিভারি করার সময় কিছু দেখেছে ? এমন কিছু জেনে ফেলেছে যা তার জানার কথা না !

টিউশনী বন্ধ হয়ে গিয়ে আমি যখন অতৈ সাগরে পড়তে যাচ্ছিলাম তখনই ক্যাম্পাসের বড় ভাই আমাকে এই কাজের সন্ধ্যানটা দিলেন । ডেলিভারি ম্যান শুনে প্রথমে একটু সংকোচ হচ্ছিলো । কিন্তু অর্থের পরিমানটা শুনে আমার চোখ কপালে উঠলো । প্রতিদিন দুই হাজার টাকা !
মানে মাসে আমি ষাট হাজার টাকা আয় করতে পারবো ! কেবল ডেলিভারি করার জন্য এতো টাকা ! কি ডেলিভারি করবে ? অবৈধ কিছু নাতো ? পুলিশি ঝামেলা আছে নাকি ?
আমি বড় ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলল, এতো টাকা দিচ্ছে, কি ডেলিভারি করতে হবে ভাই ?
বড় ভাই খানিকটা বিরক্ত কন্ঠে বলল, সেটা তোমার জানতে হবে না । তবে কোন অবৈধ কিছু না ।
আমি বললাম, না মানে এতো টাকা দিচ্ছে যে ?
বড় ভাই বলল, এসব নিয়ে তোমাকে মোটেও ভাবতে হবে না । তোমার কাজ হবে কেবল খাবার পৌছে দেওয়া । একটা রেস্টুরেন্ট থেকে শহরের নানান স্থানে তোমাকে খারাব নিয়ে যেতে হবে ।
বড় ভাই একটু থামলেন । মোবাইল বের করে কি যেন দেখলো সে । তারপর আবারও বলল, কোন ভয় পেও না । কোন অবৈধ জিনিস পত্র না । পুলিশের ঝামেলাতে তোমাকে পড়তে হবে না । আর যদি কোন সময়ে পুলিশের ঝামেলা হয়ও তবে তোমাকে রক্ষা করা হবে । সেই মোতাবেগই কন্ট্রাক্ট সাইন করা হবে !
এবার আমি আবারও চমকালাম । সামান্য ডেলিভারি ম্যানের কাজের জন্যও কন্ট্রাক্ট !
বড় ভাই বলল, চল আমার সাথে গেলেই দেখতে পারে । আজ রাত পোনে বারোটার দিকে আমি তোমাকে নিয়ে যাবো ! ঠিক আছে ?
আমি আর কিছু জানতে চাইলাম না । এই দুঃসময়ে দিনে দুই হাজার টাকা পাওয়া মুখের কথা না । এমন কি অবৈধ জিনিস হলেও আমি সম্ভবত কাজ করতে দ্বিধা বোধ করতাম না ।

বড় ভাই বাইক নিয়ে আমার বাড়ির সামনে এসে হাজির হলেন সময় মত । আমি তার পেছনে চেপে বসলাম ! আমি থাকি মোহাম্মাপুরে । রেস্টুরেন্টটা ধানমন্ডিতে । পৌছাতে খুব বেশি সময় লাগলো না ।

অদ্ভুত একটা রেস্টুরেন্ট । কোন নাম নেই । ধানমন্ডির সব থেকে অভিজাত স্থানে রেস্টুরেন্টটা অবস্থিত । দুই তলা বিল্ডিং । নিচ তলাকে গ্যারেজ । খুব বেশি হলে চার থেকে থেকে পাঁচটা গাড়ি ধরবে । উপর তলাতে মুল রেস্টুরেন্ট । পাশ দিয়ে লেক চলে গেছে । বাইরে থেকে দেখতে বেশ চমৎকার আর একটা অভিজাত অভিজাত ভাব রয়েছে । সারা দিন সেটা বন্ধ থাকে । চাকরি শুরুর পর থেকে আমি দিনের বেলাতে বেশ কয়েবার গিয়েছি । সাটার টেনে বন্ধ করে দেওয়া থাকে সকল কাঁচের গ্লাস গুলো । রেস্টুরেন্ট চালু হয় রাত বারোটার পর থেকে ।

আমি ভীত আর খানিকটা সংকুচিত ভাবে সিড়ি দিয়ে উপরে উঠলাম । ভেতরে ঢুকতেই কেমন একটা অদ্ভুত অনুভূতি হল মনে । কেন যে এই রকম অনুভূতি হল সেটা আমার কাছে পরিস্কার নয় । তবে বড় ভাই সাথে না থাকলে আমি যে কোন সময় দৌড় দিতাম, সেটা খানিকটা নিশ্চিত । এই ভয়ের অনুভূতিটা হওয়ার কি কারণ সেটা বুঝতে পারলাম না !

রেস্টুরেন্টের ভেতরে মৃদু আলো খেলা করছে । মাঝে মাঝে সেই আলো দিক পরিবর্তন করছে । ভেতরের পুরো অংশটুকুর চেহারা কেমোন বদলে যাচ্ছে । আর চারিদিকে একটা মিষ্টি গন্ধ ছেঁয়ে আছে । আমি অনেক চেষ্টা করেও গন্ধটা চিনতে পারলাম না । বড় ভাই আমাকে একটা টেবিলে নিয়ে বসালো । আমি চারিদিকে তাকাতে শুরু করলাম । বন্ধুদের সাথে ধানমন্ডির অনেক রেস্টুরেন্টেই আমি গিয়েছি । কিন্তু এটা সব থেকে আলাদা । স্পষ্টই এখানে যারা আসে তরা সব অভিজাত আর পয়সাওয়ালা মানুষ । বড় বড় কাঁচে ঘেরা জানলা গুলো সব ভারী পর্দা নিয়ে ঘেরা । আলো বাইরে যাবে না ।
বড় ভাই আমাকে রেখে কোন দিকে গেল আমি টের পেলাম না । চারিদিকে ভাল করে লক্ষ্য করতে শুরু করেছি । দেখলাম আমি ছাড়াও আরও একজন মানুষ রয়েছে রেস্টুরেন্টের ভেতরে । একেবারে কোনার দিকে বসে আছে । আপন মনে কফি খাচ্ছে । এতো দুরে বসার কারনে আমি তার চেহারা পরিস্কার দেখতে পাচ্ছি না । তবে কেন জানি মনে হল সে মাঝে মাঝে আমার দিকে চোখ তুলে তাকাচ্ছে ।

বসার কিছু সময় পরেই দেখলাম একজন আমাকে এক কফি দিয়ে গেল । কফি জিনিসটা আমার বেশ লাগে । কাপে চুমুক দিতেই পুরো শরীর টা যেনএকটু দুলে উঠলো । এমন চমৎকার কফি আমি আমার পুরো জীবনে খেয়েছি বলে মনে পড়লো না । আমার মনের ভেতর থেকে মুহুর্তের ভেতরেই সব দ্বিধা আর দ্বন্দ গায়েব হয়ে গেল । যে অস্বস্তিটা কাজ করছিলো সেটাও কেটে গেল ।

কফি শেষ করার সাথে সাথে একজন কোর্ট টাই পরা ভদ্রলোক আমার সামনে এসে বসে পড়লেন । মনে হল যে আমার কফি শেষ করার জন্যই তিনি বসে ছিলেন । আমার দিকে তাকিয়ে বলল, অপু তাহলে কাল থেকেই কাজ শুরু করে দাও !
কোন রকম ভনিতা না করেই তিনি কথাটা বললেন। আমি তার দিকে তাকালাম । বয়স খুব বেশি মনে হল না । খুব বেশি হলে ত্রিশ । তবে চেহারাতে কোন উজ্জল্য নেই । কেমন যেন একটা মন খারাপ করে ব্যাপার আছে । বিশেষ করে চোখ দুটো যেন বড় বেশি শান্ত । এক ভাবে তাকিয়ে থাকলে কেমন যেন লাগে !
লোকটা কথা বলার পর একটা কাগজ বের করে দিলেন আমার দিকে । তাকিয়ে দেখলাম একটা কন্ট্রাক্ট পেপার । সেখানে নানা রকম রুলস লেখা । কয়েকটা রুলস আমার দৃষ্টি কাড়লো । একটা কোন ভাবেই কোন কৌতুহল দেখানো যাবে না । কি ডেলিভারি করছি কিংবা কাকে করছি সেসব নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না । আরেকটা হচ্ছে খাবার ডেলিভারিতে দেরি করা যাবে না মোটেও । এক মিনিটও না !
আমি বললাম, ঢাকা শহরে আসলে সময় সময় কোথাও যাওয়াই মুসকিল । আপনি তো জানেন !
-সেটা নিয়েও তোমাকে খুব বেশি ভাবতে হবে না কারণ তোমার ডেলিভারি শুরু হবে রাত বারোটার পরে । রাস্তা ফাঁকা থাকবে ।
এবার আমি সত্যিই অবাক হয়ে গেলাম । রাত বারোটা ! তার মানে কি আমাকে সারা রাতই কাজ করতে হবে ? আর কে রাত বারোটার পরে অর্ডার দিবে শুনি !
লোকটা আবারও আমার দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে বলল, প্রতিদিন খুব বেশি ডেলিভারি করতে হবে না তোমাকে দুইটা থেকে তিনটা ! রাত তিনটার ভেতরেই সব কাজশেষ হয়ে যাবে! প্রতিটা ডেলিভারি প্যাকেটের গায়ে সময় ও ঠিকানা লেখা থাকবে সেগুলো ঠিক ঠিক সেই সময়েই পৌছাতে হবে ! একটুও যেন দেরি না হয় ! আবারও বলছি কোন ভাবেই দেরি করা যাবে না । বুঝতে পেরেছো কি?
আমি বললাম, জি।
লোকটা আবার বলল, পথে কোন সমস্যা হবে না । যদি সমস্যা হয় তাহলে সেটা তোমাকে আগে থেকে কিংবা ফোনের মাধ্যমেই জানিয়ে দেওয়া হবে !
আমি এই ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারলাম না । আমার যাওয়ার পথে কোন সমস্যা হলে সেটা এরা কিভাবে জানবে ? কে জান !
লোকটা আবারও বলল, আর যে কোন সমস্যাতে আমরা তোমাকে রক্ষা করবো । এটা নিয়ে তোমাকে চিন্তা করতে হবে না।
আমি এই লাইন গুলো কন্ট্রাক্টও দেখলাম । সেখানে বলা হয়েছে যে আমাকে সব রকম নিরাপত্তা দেওয়া হবে । এতো সুযোগ সুবিধা তো ভাল ভাল মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি গুলোও দেয় না । আর এরা কি না সামান্য একজন ডেলিভারি ম্যানকে দিচ্ছে ! আমি আর কিছু ভাবলাম না ! আর কিছু ভাবার নেইও । প্রতিদিন হাজার দুই টাকা মানে হচ্ছে এই দুঃসময়ে বেশ কিছু দিন নিশ্চিন্তে কেটে যাওয়া !
আমি ডেলিভারি বয় হয়ে গেলাম । নিজের সাইকেল ছিল । সেটা চেপেই কাজ শুরু করে দিলাম পরদিন থেকেই ।

জেনির কথায় আবার বাস্তবে ফিরে এলাম। জেনি বলল, তুমি কি বুঝতে পারছো আমাদের চাকরিটা ছেড়ে দিতে হবে ?
আমি এবার একটু বিরক্ত হলাম । তবে সেটা আমি মুখে প্রকাশ করলাম না । আমি চাকরিটা করছি মোট ৫৫ দিন । একদিনও মিস করি নি । এই ৫৫ দিনে আমার পকেটে এক লাখ দশ হাজার টাকা এসেছে । টাকা দিতে একটা দিনও তারা দেরি করে নি । এমন চমৎকার একটা চাকরি আমি কেন ছেড়ে দিবো শুনি !
আমি বললাম, কেন শুনি?
জেনি গলার স্বর একটু নামিয়ে বলল, শোন ওরা মানুষ না ! বুঝেছো ? ওরা মোটেও মানুষ না ! তুমি বুঝতে পারছো না !
আমি বললাম, কেন মনে হল যে ওরা মানুষ না ?
-আমি দেখেছি ওদের ! সত্যিই বলছি আমি ওদের দেখেছি !
আমি বললাম, তুমি নিশ্চয়ই কন্ট্রাক্টে সাইন করেছিলে ? মনে আছে ? সেখানে কি লেখা ছিল মনে নেই তোমার? তুমি কেন দেখেছো ?

জেনি যেন একটু সময়ের জন্য থেমে গেল । কিছু যেন মনে করার চেষ্টা করলো । তারপর বলল, শোন ওসব কথা বলে লাভ নেই । আমি ওদের আসল চেহারা দেখে ফেলেছি । ওরা মানুষ না । কি ভয়ংকর ওদের চেহারা ! আর খুব বোটকা গন্ধ ওদের শরীরে । এমন কি ওরা রেস্টুরেন্টেও আসে । ওদের গায়ের গন্ধ লুকানোর জন্য এক ধরনের সেন্ট ব্যবহার করে যাতে বাইরের মানুষ ওদের চিনতে না পারে !

আমি কিছু বলতে গিয়েও বললাম না । কারণ আমার ঠিক একই অনুভূতি হয়েছে যখন আমি প্রথম প্রথম খাবার ডেলিভারি করতে গিয়েছিলাম । আমার সেদিনের কথা এখনও পরিস্কার মনে আছে । আমার চাকরির প্রথম দিন ছিল সেদিন । আমি ঠিক সময় মত হাজির হয়ে গেলাম রেস্টুরেন্টে । বারোটার বাজার কিছু সময় আগেই । রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করলাম । সেই অনুভূতিটা মনের ভেতরে জেগে উঠলো । ভেতরে ঠিক সেই গত দিনের মত মৃদু আলো দেখতে পেলাম । আজকে দেখতে পেলাম আগের দিনের মতই দুরে একজন বসে আছে কফির কাপ হাতে নিয়ে । একটা টেবিলের উপরে এক কাপ কফি রাখা । কাউকে বলে দিতে হল না যে কফির কাপটা আমার জন্যই রাখা হয়েছে । আমি কোন বাক্য ব্যয় না করে সেই টেবিল চলে গেলাম । কোন দিকে না তাকিয়ে কাপে চুমুক দিলাম । মাথার ভেতরে একটা তৃপ্তির অনুভূতি বয়ে গেল । সত্যিই এই কফির কোন তুলনা হয় না । বেশ সময় নিয়েই কফি শেষ করলাম । কফি শেষ করতেই একজন এসে হাজির হল আমার সামনে । হাতে একটা প্যাকেট । আমার হাতে সেটা দিয়ে কফির কাপটা নিয়ে চলে গেল কোন কথা না বলেই ।
প্যাকেটটা বেশ ভারী । একটা বড় ডিকশনারী সাইজের প্যাকেট ! ভেতরে কি আছে কে জানে ! প্যাকেটটার উপরে একটা কাগজ টেপ দিয়ে আটকানো রয়েছে । সেখানে একটা ঠিকানা লেখা । ধানমন্ডির কাছেই । নিচে আমার জন্য কয়েকটা লাইন লেখা ।

প্যাকেটা ডেলিভারি দিয়ে ফেরৎ আসবে । পেমেন্ট আগেই দেখা হয়েছে । রাত দেরটার আগে পৌছানো চাই । একটুও যেন দেরি না হয় !

আমি কাধে করে একটা ব্যাগ নিয়ে এসেছিলাম । প্যাকেটটা ব্যাগে ভরে নিলাম । তারপর নিচে সাইকেল নিয়ে রওয়ানা দিয়ে দিলাম । ঠিকানাটা গুগল ম্যাপসে এন্টার করতেই একেবারে পয়েন্ট আকারেই ঠিকানাটা পাওয়া গেল । আমি মোবাইলটা মোবাইল ক্যারিয়ারে সেট করে সাইকেল চালাতে শুরু করলাম ।

একটার বাজার কিছু পরেই আমি বাড়ির সামনে এসে হাজির হলাম । বাড়ির সামনে এসে খানিকটা চমকাতে হল আমাকে । ঠিকানা দেখে নিশ্চিত হলাম যে আমি সঠিক স্থানেই এসেছি। আমি ভেবেছিলাম ধানমন্ডির ভেতরে বাসা যেহেতু নিশ্চয়ই অনেক আধুনিক বাড়ি হবে । কিন্তু এই বাড়িটা মোটেই আধুনিক নয় । একেবারে পুরানো এক তলা বাড়ি । পুরো বাড়িটা উচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা । তবে গেটটা একটু নিচু । সেটা দিয়েই বাড়ির ভেতরটা দেখা যাচ্ছে । গেট দিয়ে বেশ কিছুটা সামনে এগিয়ে গেলে বাড়িটা । বাড়ির সামনে বেশ কিছুটা ফাঁকা স্থানে নানান গাছপালায় ভরে আছে । গেটের বাইরে থেকেও আমি অযত্নের ছাপ দেখতে পাচ্ছি। গেটের ঠিক সামনেই একটা ৬০ পাওয়ারের আলো জ্বলছে । পুরো বাড়ি অন্ধকার । আর কোন আলো নেই। নেই কোন আওয়াজ।

আমি কিছু সময় বোকার মত তাকিয়ে রইলাম বাড়িটার দিকে । যদিও রাস্তার পাশেই বাড়ি এবং আশে পাশে আরও বেশ কিছু উচু উচু বিল্ডিং রয়েছে তবে এই বাড়ির ভেতরে ঢুকতে কেমন যেন ভয় ভয় করতে লাগলো । গেটের কাছে কি কেউ আছে ?
আমি সাইকেলটা দাড় করিয়ে দু একবার ডাক দেওয়ার চেষ্টা করলাম ।
কেউ আছেন ?
ফুড সার্ভিস ! অর্ডার এসেছে !

কোন আওয়াজ এল না ! কি করবো বুঝতে পারলাম না । এভাবে চলে যাওয়ার তো কোন উপায় নেই । গেট দিয়ে কি ঢুকবো ভেতরে ?
মন সায় দিল না । কারণ এই ভাবে রাতের বেলা কারো বাড়ির গেট দিয়ে ঢোকাটা মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না । চোর বলে পুলিশে দিতে পারে ! তবে যেহেতু অর্ডার এসেছে তার তো জেগে থাকার কথা ! তারপরেও ভেতরে ঢুকতে সাহস হচ্ছে না ।
আবার চলেও যেতে ভরশা পাচ্ছি না । ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি একটা বিশ বেজে গিয়েছে । দেড়টা বাজতে আর বেশি সময় বাকি নেই।

উপরওয়ালার নাম নিয়ে গেটে মৃদুভাবে হাত দিলাম । আমাকে খানিকটা অবাক করে দিয়েই গেটটা খুলে গেল । গেট বন্ধ নয় । ধীরে ধীরে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলাম । অন্ধকার রাত । চারিদিকটা একেবারে সুনশান নিরব। বাড়ির সামনে দিয়ে একটা পাকা রাস্তা চলে গেছে যদিও এটা প্রধান রাস্তা না । ধানমন্ডির আবাসিক এলাকার রাস্তা । বাড়িটা একেবারে শেষ মাথায় । আশে পাশে বড় বড় অনেক বিল্ডিং রয়েছে । তবে এই বাড়ির ভেতরটা যেন অন্য কোন জগতের । বেশ কিছু গাছ পালা রয়েছে । উপরের দিকে তাকালে বলতে গেলে কিছুই দেখা যায় না ।

আমি গাছে ঘেরা বাড়ির লনের রাস্তা দিয়ে বাড়ির দিকে এগিয়ে চললাম । চারিদিকে উচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা । তার উপরে আবার কাঁটা তার দেওয়া । মানুষজনকে বাড়ি থেকে দুরে রাখার জন্যই এই ব্যবস্থা । অথচ বাড়ির গেট খোলা ! আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না ব্যাপারটা । অন্তত একটা দারোয়ান তো থাকার কথা গেটে ! হাটছি আর চারিদিকটা আরও ভাল করে দেখছি । গেটের কাছের আলো এতো দুর এসে ভাল ভাবে পৌছায় না । বাড়ির ভেতর থেকে কোন আলো আসছে না । তবে এই অন্ধকারের ভেতরেও চারিদিকে অযত্নের ছাপ বোঝা যাচ্ছে স্পষ্ট ! অনেক দিন কেউ বাগানের পরিচর্যা করে না । গেট থেকে বাসা পর্যন্ত রাস্তাটাও পরিস্কার করে না কেউ । বাসায় কি কেউ থাকে না ?
আমি কি পরিত্যাক্ত এক বাড়িতে চলে এসেছি ?
কিন্তু ঠিকানা যা দেওয়া আছে আর বাড়ির নাম্বারটা রয়েছে সেটা থেকে তো ভুল হওয়ার কথা না !
তবে গেট দিয়ে এই পর্যন্ত আসতে আমার মনে একটা অনুভূতি খুব তীব্র ভাবেই কাজ করছে । সেটা হল কেউ আমার দিকে তাকিয়ে আছে । আমার প্রতিটা পদক্ষেপ যেন সে লক্ষ্য করছে ! কোথা থেকে লক্ষ্য করছে সেটা আমার জানা নেই তবে কেউ দেখছে আমাকে !
আশে পাশের কোন বিল্ডিং থেকে কি ?
আমি জানি না ! মনের ভেতরে সেই ভয়টা আস্তে আস্তে বাড়ছে । কিছুতেই শান্ত করতে পারছি না । এই ভয়টা আমি কেন পাচ্ছি কে জানে ! আমার কি এখনই চলে যাওয়া উচিৎ এখান থেকে ?
হঠাৎই একটা শব্দ হল !
শুকনো পাতা মাড়িয়ে কেউ এগিয়ে আসছে । বুকের ভেতরটা ধরাৎ করে উঠলো । এমন একটা নির্জন বাড়িতে কেউ যদি আমার উপরে হামলা করে বসে তাহলে হয়তো আমার লাশও খুজে পাওয়া যাবে না ।
ঐ তো ! আরেকবার !
আরেকবার হল আওয়াজ টা !
আমি দৌড় দিতে যাবো তখনই দেখতে পেলাম তাকে । অন্ধকারের ভেতরেও জ্বলজ্বল করছে চোখ দুটো ! আমার দিকে একভাবে তাকিয়ে আছে ! আমি দৌড়াতে যাবো তখনই ব্যাপারটা বুঝে ফেললাম !
একটা বেড়াল !
আমার দিকে আছে । আমি বেড়ালটাকে চিনতে পেরেছি এটা জানান দিতেই সেটা মিয়াও বলে ডেকে উঠলো !
আমি কিছুটা সময় বোকার মত সেটার দিকে তাকিয়ে রইলাম ! তারপর আবারও প্রধান বাড়ির দিকে হাটা দিলাম !


যখন দরজার কাছে এসে দাড়ালাম তখনও ৫ মিনিট বাকি আছে । মোবাইলের আলো জ্বেলে দরজাটা ভাল করে দেখলাম ।
নাহ !
এই দরজা নিয়মিত খোলা হয় !
অন্তত দিনে একবার হলেও কেউ এটা খোলে । তার মানে ভেতরে লোক থাকা খুব সম্ভব ! পাশের কলিংবেল দেখতে পেলাম ।

আমি আর খুব একটা চিন্তা না করে কলিংবেলে চাপ দিলাম ।
একবার !
দুবার ।
তারপর আরেকবার !
আরেকবার চাপ দিতে যাবো ঠিক তখনই দরজার ওপাশ থেকে একটা গাঢ় আওয়াজ ভেসে এল !
পার্সেল দরজার সামনে রেখে চলে যাওয়া !

আওয়াজটা এতোটাই আকস্মিৎ এল যে আমি খানিকটা চমকে উঠলাম । আরেকটু হলে আমার হাত থেকে মোবাইলটা পড়ে যেত । তবে সামলে নিলাম । সাথে সাথেই একটা তীব্র বোটকা গন্ধ নাকে এল ! গন্ধটা দরজার ওপাশ থেকে আসছে সেটা আমার বুঝতে কষ্ট হল না !

গন্ধটা পরিচিত মনে হল বেশ । একটু আগেই আমি ডাস্টবিনের সামনে দিয়ে এসেছিলাম । অনেক দিনের পচা ডাস্টবিন পরিস্কার করতে গেলে যেরকম গন্ধ বের হয় ঠিক সেই রকম গন্ধ ।
এরা কি গোসল করে না নাকি !
নাকি বাড়ির ভেতরটা ডাস্টবিন বানিয়ে ফেলেছে !
কে জানে !
যাক আমার কি !

আমি প্যাকেটটা দরজার কাছে রেখে কয়েক মুহুর্ত দাড়িয়ে রইলাম । ঠিক বুঝতে পারছিলাম না কি করবো । আশা করেছিলাম যে দরজা হয়তো খুলে যাবে । তবে সেটা খুলল না । পাশে একটা বেড়াল দেখেছি । বেড়ালটা যদি এসে খেয়ে নেয় !
নিক ! আমার সেটা চিন্তা করার দরকার নেই । আমাকে পার্সেল রেখে চলে যেতে বলা হয়েছে । বেড়াল খেল কি কুকুর খেল সেটা আমার দেখার বিষয় না !

আমি আর দাড়ালাম না । গেটের দিকে হাটা দিলাম । গেট দিয়ে যখন বের হয়েছি তখনই পেছন থেকে দরজা খোলার আওয়াজ পেলাম । চারিদিকে এতো সুনশান নিরবতা বিরাজ করছে যে আওয়াজটা আমি পরিস্কার শুনতে পেলাম । খুব ইচ্ছে হল যে আমি একটু ফিরে যাই কিন্তু সেই কৌতুহলটা দমন করে নিলাম । চাকরীর প্রধান শর্তই হচ্ছে কৌতুহল দেখানো যাবে না ।

পরের দিন আবারও নির্ধারিত সময়ে পার্সেল নিতে গেলাম । রেস্টুরেন্টে দেখি আবার জন্য আবারও এক কাপ কফি অপেক্ষা করছে । দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো যে সদ্যই টেবিলে এনে রাখা হয়েছে। যেন তারা ঠিকই জানতো আমি এখনই এসে হাজির হবে । আজকে কফির কাপের সাথে একটা নীল খাম রয়েছে । খামটা খুলতেই সেখান থেকে চকচকে দুটো এক হাজার টাকার নোট বের হয়ে এল । আমার মনটা ভাল হয়ে গেল । মনের ভেতরে একটা সুক্ষ ইচ্ছে কাল রাত থেকেই কাজ করছিলো যে আজই আমি চাকরিটা ছেড়ে দেব কিন্তু চকচকে নোট দুটো দেখে সেই ইচ্ছেটা একেবারেই চলে গেল ! আমাকে তো আস্বস্ত করা হয়েছেই যে আমার কোন ক্ষতি হবে না যদি আমি কোন প্রকার কৌতুহল না দেখাই ।

গত দিনের মত আজও দেখতে পেলাম একজন কফি খাচ্ছে একেবারে পেছনের একটা টেবিলে । এবং সেই অনুভূতিটা আজও আমার হল যে সে আমার দিকে মাঝে মাঝেই তাকাচ্ছে । যথারীতি কফি খাওয়া শেস হওয়ার সাথে সাথে সেই ওয়েটার লোকটা এসে হাজির । হাতে পার্সেল । বিনা বাক্য ব্যয়ে সেটা দিয়ে খালির কাপ নিয়ে চলে গেল ।

প্রথম প্রথম আমি যখন নতুন কোথাও পার্সেল পৌছাতে যেতাম, আমার মনে একটা ভয় কাজ করতো । বেশির ভাগ পার্সেলের ঠিকানাই হত নির্জন কোন বাড়ি । আজ পর্যন্ত নতুন এপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ে আমি কোন পার্সেল দিতে যায় নি । প্রথম দিনের সেই বাড়িটাতে সপ্তাহে একবার গিয়েছি । প্রতিবারই সেই কালো বেড়ালটার সাথে আমার দেখা হয়েছে । চার-পাঁচতলা বিল্ডিংয়ে পার্সেল পৌছেছি বেশ কয়েকবার তবে সেই বিল্ডিং গুলো সবই পুরানো । এই রেস্টুরেন্টের কাস্টোমারেরা যেন নতুন বিল্ডিংয়ে থাকেই না ।
এবং প্রতিবারই আমি যখন গেটের কাছে পার্সেল নিয়ে গেছি, প্রতিবারই গেটের ওপাশ থেকে আমাকে কেউ বলেছে পার্সেল যেন আমি গেটের কাছে রেখেই চলে যাই । আজ পর্যন্ত আমি কোন কাস্টোমারের চেহারা দেখি নি । কেবল কন্ঠস্বর শুনেছি ।
কেবল একটা বাক্যই ।
দরজার সামনে পার্সেল রেখে চলে যাও ।

আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, স্থান আলাদা হলেও সব গুলো স্থানেই গলার ভয়েজ যেন আমার কাছে একই মনে হয়েছে । মনে হয়েছে যেন এখই লোক ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে আমার কাছ থেকে পার্সেল গ্রহন করছে । গলার স্বর গাঢ় আর থেবড়ানো । কোন মানুষের গলার স্বর যে এমন হতে পারে সেটা আমার ধারনার বাইরে ছিল । প্রথম প্রথম আমার বেশ ভয়ভয় করতো । তবে সপ্তাহ দুই যেতে না যেতেই আমার ভয়টা আস্তে আস্তে কমে এল । আর প্রতিদিন দুই এক হাজার টাকার নোট আসছিলো পকেটে । এটাও ভয় কাটাতে সাহায্য করলো বেশ ।

প্রথম প্রথম একটা করে ডেলিভারি থাকলেও আস্তে আস্তে সেটা বাড়তে থাকলো । একটা থেকে দুইটা, দুইটা থেকে চারটা । সাইকেল নিয়ে আমার সামলাতে হিমসিম খাচ্ছিলাম । কারন ডেলিভারি শেস করতে হত তিনটার আগেই । বারোটা থেকে তিনটা ।
বিশ দিনের মাথায় আমাকে রেস্টুরেন্ট থেকে একটা স্কুটি কিনে দেওয়া হল । আমার কাজে তারা খুবই সন্তুষ্ট । তারা চায় আমি যেন তাদের সাথে দীর্ঘদিন কাজ করি । বছর খানেক এখানে কাজ করলেই এই স্কুটিটা আমার হয়ে যাবে । আমাকে কেবল শর্ত মেনে কাজ করে যেতে হবে ।

এতো ভাল একটা চাকরি, আর এই মেয়ে বলে কিনা ছেড়ে দিতে !
জেনি আমার দিকে অনুনয় করে বলল, প্লিজ তুমি চাকরিটা ছেড়ে দাও ! এরা মানুষ না !
আমি জেনির দিকে তাকিয়ে বললাম, আচ্ছা তুমি কি দেখেছো আমাকে বল !
জেনি এদিক ওদিক তাকিয়ে নিল একটু ! তারপর আমার দিকে আরও একটু এগিয়ে এল । তারপর বলল, তুমি জানো যে পার্সেল আমরা নিয়ে যাই তার ভেতরে কি আছে ?

আমার মনে যে কৌতুহল হয় নি এমন না । অনেকবার মনে হয়েছে যে একটু প্যাকেটা ফুটে করেই দেখি ভেতরে কি আছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা আর করা হয় নি । কি দরকার বাবা ! ওরা তো বলেছেই যে ভেতরে কোন অবৈধ জিনিস পত্র নেই । তাহলে আর কি সমস্যা !
জেনি আবারও আমার দিকে তাকিয়ে বলল, তুমি জানো ঐ পার্সেলের ভেতরে কি থাকে ?
প্রশ্নটা করবো না করবো না করেও, করেই ফেললাম, কি থাকে ?




শেষ পর্ব




ব্লগার কল্পদ্রুম এর গল্পানুঃ দশচক্রের তিন চক্র এর প্রথম অনু গল্প ক্ষুধা থেকে এই গল্পের সুচনা ।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০২০ রাত ১০:৫১
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৪৫ বছরের অপ-উন্নয়ন, ইহা ফিক্স করার মতো বাংগালী নেই

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৫:০৫



প্রথমে দেখুন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলো; উইকিপেডিয়াতে দেখলাম, ১০৩ টি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি আছে; ঢাকা ইউনিভার্সিটি যাঁরা যেই উদ্দেশ্যে করেছেন, নর্থ-সাউথ কি একই উদ্দেশ্যে করা হয়েছে? ষ্টেমফোর্ড ইউনিভার্সিটি কি চট্টগ্রাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ মাতানো ব্লগাররা সবাই কোথায় হারিয়ে গেল ?

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৪

ইদানিং সামু ব্লগ ব্লগার ও পোস্ট শূন্যতায় ভুগছে। ব্লগ মাতানো হেভিওয়েট ব্লগাররা কোথায় যেন হারিয়ে গেছেন।কাজের ব্যস্ততায় নাকি ব্লগিং সম্পর্কে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। আমি কিছু ব্লগারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ৬৪

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৫



সুরভি বাসায় নাই। সে তার বাবার বাড়ি গিয়েছে।
করোনা ভাইরাস তাকে আটকে রাখতে পারেনি। তবে এবার সে অনেকদিন পর গেছে। প্রায় পাঁচ মাস পর। আমি বলেছি, যতদিন ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ অমঙ্গল প্রদীপ (পাঁচশততম পোস্ট)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:১৪

প্রদীপের কাজ আলো জ্বালিয়ে রাখা।
কিন্তু টেকনাফের একটি ‘অমঙ্গল প্রদীপ’
ঘরে ঘরে গিয়ে আলো নিভিয়ে আসতো,
নারী শিশুর কান্না তাকে রুখতে পারতো না।

মাত্র বাইশ মাসে দুইশ চৌদ্দটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণপ্রজাতন্ত্রী সোমালিয়া দেশে চাকরি সংকট

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১১ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:২০



গণপ্রজাতন্ত্রী সোমালিয়া সরকার মন্ত্রী পরিষদে কতোজান বিসিএস অফিসার আছেন? তাছাড়া সততার সাথে সোমালিয়া সরকার চাইলেও সঠিক ও যোগ্য মন্ত্রীপদে কতোজন বিসিএস অফিসার দিতে পারবেন?

(ক) মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় - একজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×