somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জ্যোতলং পর্বতে ওঠার গল্প ....

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সরকারিভাবে তাজিংডং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত। । কেউক্রাডং হচ্ছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাহাড় ! কিন্তু বাংলাদেশের সব থেকে উচু পাহাড় গুলোর তালিকাতে তাজিংডং এর অবস্থান ৫ নম্বরে । কেউক্রাডংয়ের অবস্থান ছয় নম্বরে। এর থেকেও আরও চারটা উচুর পর্বত শৃঙ্গ রয়েছে । তাদেরই একটা জ্যোতলং পর্বতশৃঙ্গ । এটি বান্দরবানের থানচিতে অবস্থিত । উচ্চতা হিসাবে এটা বাংলাদেশের দ্বিতীয় উচ্চ পর্বত । আর ওঠার পথ বিবেচনা করলে এর থেকে ভয়ংকর কিছু আর সম্ভবত হতে পারে না !

যাত্রার শুরুটাই আমাদের খারাপ ভাবে হয়েছিলো । প্রথমে তো বাস এসেছিলো ঘন্টাখানেক দেরীতে । এরপর কুমিল্লা হোটেলে খাওয়া দাওয়া শেষ করে রওয়ানা দিতেই বাস নষ্ট হয়ে গেল । মোট চার ঘন্টা বসে থাকতে হল রাস্তার উপরে । যখন বান্দরবান পৌছালাম তখন সকাল সাড়ে নয়টা । হোটেল থেকে সকালের নাস্তা করে চাঁদের গাড়ি দিয়ে থানচির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিতে দিতে সাড়ে দশটা বেজে গেল ।

বান্দরবান শহর থেকে থানচি কিংবা রুমার যাওয়ার এই পথটা আমার বেশ পছন্দ । আঁকা বাঁকা পাঁকা রাস্তা দিয়ে গাড়ি এগিয়ে চলে, এক পাশে উচু পাহাড় অন্য দিকে নিচু খাদ তারপর দিগন্ত বিস্তৃত পাহাড় । যত তাকিয়ে থাকি ততই যেন তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে । থানচি পৌছাতে তিন সাড়ে তিন ঘন্টা লাগে । বলিপারা আর্মিক্যাম্পে এন্ট্রি করাতে একটু সময় লাগে । টুরিস্ট বেশি হলে এখানে অনেক সিরিয়াল দিতে হয় !

থানচি পৌছে, দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষ করে সব রকম এন্ট্রি করিয়ে আমরা এবার উঠলাম ট্রলারে। চিকন ট্রলার । এক সাথে চার পাঁচজন উঠতে পারে । থানচি থেকে আমরা পৌছাবো রেমাক্রিতে । এই ট্রলার জার্নিটাও বেশ চমৎকার । এখন যেহেতু শীতকালের শেষ খালে পানির পরিমান একদম কম । কোথাও কোথাও হাটু পানি, কোথাও পাথর বের হয়ে আছে । তার মধ্য দিয়ে ট্রলার এগিয়ে চলছে । মাঝের একটা স্থানে বিশাল বিশাল সব পাথর । রাজা পাথর, রানী পাথর নামে পরিচিত । সেই পাথরর ভেতরে একে বেঁকে এগিয়ে চলছে আমাদের ট্রলার । স্রোতের বিপরীতে । মাঝে মাঝে পানি এতোই কম যে আমাদের ট্রলার থেকে নেমে পড়তে হয়েছে । এই ট্রলার জার্নিটা আমার অনেক দিন মনে থাকবে । বিশেষ করে সূর্য ডুবতে বসেছে । আমরা সেই বিকেলের অল্প আলোতে পানির উপর দিয়ে ছুটে চলেছি । মাঝে মধ্যে পানির নিচে তাকাচ্ছি, স্বচ্ছো পাথর দেখা যাচ্ছে । সব মিলিয়ে অতূলনীয় এক অভিজ্ঞতা ।

রেমাক্রিতে পৌছাতে পৌছাতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেল । রেমাক্রি ফলসটা অবশ্য এখন প্রাণহীন । শীতকালে এখানে পানি থাকে না বললেই চলে তাই এই সময়ে গেলে রেমাক্রির আসল সৌন্দর্য্য দেখা যাবে না । আমরা অবশ্য সেই সৌন্দর্য্য দেখার জন্য যাইও নি । অনেকে রাতে এখানেই থাকে । সকাল বেলা রওয়ানা দেয় নাফাকুমের উদ্দেশ্যে । আমাদের অবশ্য এখানে থাকার উপায় নেই । আমার যেতে হবে দালিয়ান পাড়াতে । রাতে ওখানে থাকতে হবে । খুব ভোরে আমার ট্রেকিং শুরু হবে ।

সন্ধ্যার সময়েই আমরা রেমাক্রি থেকে রওয়ানা দিলাম দালিয়ান পাড়ার উদ্দেশ্য । ততক্ষনে অন্ধকার নেমে এসেছে । আমরা আস্তে আস্তে এগিয়ে চলছি অন্ধকারে । এর আগেও আমি অন্ধকারে পথ চলেছি পাহাড়ে । তাই এই পথ চলা নতুন কিছু ছিল না । দালিয়ান পাড়া পর্য্ত ট্রেকিং টা খুব বেশি কঠিনও ছিল না । কেবল উচুতে ওঠো এবং নামো নিচে । এই ভাবে এগিয়ে চলছিলাম সামনে । ভয় লাগছিলো না । কিন্তু সারাদিনের ক্লান্তি এসে ভর করেছিলো শরীরে । মনে হচ্ছিলো যেন আর চলতে পারবো না । মাঝে দুইবার বিরতি নিয়ে অবেশেষে পৌছালাম দালিয়ান পাড়াতে । তখন রাত সাড়ে নয়টা । দেখলাম পুরো পাড়া ঘুমিয়ে পড়েছে । ঢাকাতে রাত সাড়ে নয়টা কোন রাত হল !

আমরা যে ঘরে থাকবো তারাও ঘুমিয়ে পড়েছিলো । তবে আমাদের গাইড যে ছিল মূলত তার বউয়ের বাড়িতেই আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে । একটা ব্যাপার জেনে বেশ অবাক হয়েছিলাম । এই পাড়াতে স্বামী আর স্ত্রীর আলাদা আলাদা বাড়ি । বিয়ের পরেও তাদের দুইজনের আলাদা আলাদা বাড়ি রয়েছে । আমাদের গাইডডের নাম ছিল বাহাদুর । তার স্ত্রীর বাসায় আমরা ছিলাম !

দেখলাম পাড়ার সবাই ঘুমিয়ে পড়লেও ঢাকা থেকে আরেকটা গ্রুপ সেখানে আমাদের আগে গিয়েছিলো । তাদের বেশ কয়েকজন পাশের উঠানে বসে গল্প করছে । যাই হোক আমরা ঘরে উঠলাম । কলপাড়ে গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে এলাম । কয়েকজন আবার গোসল করলো । তখনই বাহাদুর সাহেব তাদের খোয়াড় থেকে মুরগি বের করে করলেন । মুরগি আলু ভর্তা ডাল আর ভাত দিয়ে রাতের খাবার বেশ ভাল হল । একটাই সমস্যা সেটা হচ্ছে খাবারে ঝাল হয়েছিলো প্রচুর ! খাওয়া শেষে দ্রুত শুয়ে পড়লাম । পরদিন আবার আমাদের কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে !

পরদিন সকাল উঠে ভাত ডিম ডাল আর আলু ভর্তা খেয়ে যখন রওয়ানা দিলাম তখন সকাল সাড়ে ছয়টা । সময়টা একটু দেরি হয়ে গেল । আর ঘন্টা খানেক আগে রওয়ানা দেওয়া দরকার ছিল । ভুলটা তখন বুঝতে না পারলেও ফেরার পথে ঠিকই বুঝতে পেরেছিলাম । যাইহোক আমাদের পথ হাটা শুরু হল । আজকে সারা দিনে আর আমরা ফিরে আসতে পারবো না । পুরোটা সময় আমাদের পাহাড়েই কাটাতে হবে । সাথে করে পানি আর শুকনো খাবার নিয়ে নিলাম । তারপর হাটা শুরু করলাম । সকালের দিকে একটু শীত শীত করছিলো । রাতেরও বেস শীত পড়েছিলো । তবে ঘন্টা খানেক হাটার পরেই সেই শীত শীত ভাবটা চলে গেল । কিন্তু তাই বলে গরম অনুভব হচ্ছিলো না । কারণ সূর্য উঠে গেলেও আমার কাছে সূর্যের আলো পৌছানোর কোন পথ ছিল না ।

এরপর আমরা কেবল হাটতেই থাকলাম । এই যে হাটার অভিজ্ঞতা, এটা কোন ভাবেই লিখে প্রকাশ করার উপায় নেই, এমন কি ছবি দেখে কিংবা ভিডিও দেখেই এই অভিজ্ঞতা বুঝানোর কোন উপায় নেই । এটা কেবল যে এই পাহাড়ে সামিট করেছে কেবল সেই বুঝতে পারবে । সব কষ্ট শেষ করে আমরা যখন জ্যোতলংয়ের চুড়ায় উঠলাম তখন একটা বাজে । আমি একটু আগে আগেই উঠে পড়েছিলাম । আমার টিমের লোকজন একটু পিছিয়ে ছিল । আধা ঘন্টা আমি একদম একা ছিলাম চুড়ায় । এতো নির্জন আর নিস্তব্ধতা আমি এর আগে কোন দিন অনুভব করি নি । মাঝে মধ্যে কোন নাম জানা পাঠির ডাক ভেসে আসছে ব্যাস এই হচ্ছে শব্দ !
আধা ঘন্টা পরে টিমের বাকি সদস্যরা উঠে এল । ছবি তোলা হল, নাম লিখে সামিট বক্সে রাখা হল । তারপর আবারও ফেরার পথ ধরতে হল ! ভয় হচ্ছিলো যে যে পথ পাড়ি দিয়ে এসেছি এখন সেই পথেই ফেরৎ যেতে হবে ।

বেলা দুইটার সময় ফিরতি পথ ধরলাম । যারা পাহাড়ে উঠেন, তারা জানেন যে পাথুড়ে আর খাড়া পাহাড়ে ওঠার চেয়ে নামাটা আরও কঠিন । আমরাও সেটা টের পাচ্ছিলাম হাড়ে হাড়ে । একটা সময়ে আমাদের সাথে আনা সব পানি শেষ হয়ে গেল । নিচে অনেক টা দুরে ছোট একটা ঝর্নাতে রয়েছে পানি । সেখানে যেতে কত সময় লাগবে সেটা আমরা কেউ জানি না । নামতেছি তো নামতেই । এদিকে পানির জন্য কেমন যেন করছে ।

এই ব্যাপারটা আপনাদের সাথে হয় কিনা জানি না তবে আমার সাথে হয় । দিনে আমি পানি কম খাই । পানির পিপাসাতে খুব বেশি কাতর হই না । আর যে পথে আমরা যাচ্ছি/নামছি সেখানে গরম খুব বেশি নেই । কিন্তু এই যে পানি শেষ, পানি নেই এই একটা অনুভূতি এটাতেই আমাকে খানিকটা কাবু করে দিচ্ছিলো । বারবার কেবল মনে হচ্ছিলো যে পানি কখন খাবো কখন ! কয়েকবার এমন স্থানে এসে হাজির হলাম যেখান থেকে পানি পড়ছে ঠিকই তবে পানি নেওয়ার কোন উপায় নেই । সেটা মনের হতাশাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছিলো !
যাক এক সময়ে সেই ঝর্নার কাছে এলাম । সেখানে দাড়িয়েই এক লিটার পানি খেয়ে ফেললাম । মনে হচ্ছিলো যেন এমন স্বাদের পানি আমি আর কোন দিন খাই নি।

আবারও আমাদের পাথর বেয়ে নামা শুরু হল । মাঝ পথেই অন্ধকার নেমে এল । হাটার গতি কমে এল আরও । কিভাবে যে পুরো অন্ধকারের ভেতরে আমরা আবার পাড়াতে ফিরে এলাম সেটা কেবল আমরাই জানি । এই বর্ণনা দেওয়া কোন ভাবেই সম্ভবত না ।

এর আগে আমি বেশ কয়েকটা পাহাড়ে উঠেছিলো । কোন পাহাড়েই এই অভিজ্ঞতা আমার হয় নি । বান্দরবানের সব পাহাড়ই কষ্টের । তবে এর থেকে কঠিন আর ভয়ংকর পথ বুঝি আর একটাও নেই । পথ যেন আর শেষ হয় না । তবে আশার কথা যে আমাদের টিমের কেউই বড় রকমের আহত হয় নি, টুকটাক কেটেকুটে গিয়েছিলো ঠিকই তবে বড় রকমের কিছু হয় নি । আমি অবশ্য একবার পথ থেকে ছিটকে খাদের দিকে পড়ে গিয়েছিলাম । তবে ভাগ্য ভাল যে সেখানে বাঁশের ঝাড় ছিল । সেখানে আটকে গিয়েছিলাম । নয়তো এই পোস্ট হয়তো আর লেখা হত না ! আমরা ক্লান্তির সর্ব শেষ পর্যায়ে পৌছে গিয়েছিলাম সবাই । মনে হচ্ছিলো যেন আমাদের পা আর চলবে না । যদি এমন একটা উপায় থাকতো যে না হেটে আমরা পাহাড়ে থাকতে পারবো তাহলে বুঝি আমাদের কেউই আর হাটতো না । কিন্তু জায়গাটা এমনই একটা জায়গা যে এখানে না হেটে কোন উপায় নেই । একবার সেখানে গেলে আপনাকে হেটেই ফিরে আসতেই হবে ।

পাড়াতে পৌছাতে পৌছাতে রাত এগারোটা । যেখানে আমাদের আটটা সাড়ে আটটার ভেতরেই চলে আসার কথা । ঐ রাতের বেলা গোসল করলাম । খেয়ে দ্রুত শুয়ে পড়লাম । শরীর এতোই ক্লান্ত ছিল যে অন্য কোন দিকে আর কোন হুস রইলো না ।

পরের দিন আমার যোগি হাফং যাওয়ার একটা সিডিউল ছিল । কিন্তু আমরা সবাই বুঝতে পারছিলাম যে আমাদের শরীরের যে অবস্থা তাতে কারো পক্ষেই আবারও সারা দিন হেটে ঐরকম আরেকটা পাহাড়ে ওঠা সম্ভব না । তাই সেই পরিকল্পনা আমরা বাতিল করলাম । এইবার কেবল জ্যোতলং সামিট পর্যন্তই থাকুক । পরের বার আমরা জোগি হাফংয়ে উঠবো ।

পরের দিন তাই একটু বেলা করেই উঠলাম । যতবার পাহাড়ে আমরা উঠেছি আমাদের সব সময় টাইট সিডিউল থাকে । আজকে ঐখানে যেতে হবে, এখান থেকে ওখানে পৌছাতেই হবে... এমন একটা চাপ থাকেই । কিন্তু পরের দিনটা আমাদের আসলে কোন কাজ ছিল না । আমরা পাড়া ঘুরতে থাকলাম, আড্ডা দিলাম, মাফিয়া খেললাম, পাড়ার গাছ থেকে কুল পেড়ে নিয়ে এলাম, সেটা আবার ভর্তা করে খেলাম সবাই । নিজেরাই রান্না করলাম দুপুর এবং রাতের । সন্ধ্যার সময় ক্যাম্প ফায়ার করলাম । সাথে গান । সব মিলিয়ে চমৎকার একটা দিন ।

পরদিন আবার সকাল বেলা ওঠা । ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া শেষ করে আবার দালিয়ান পাড়া থেকে রেমাক্রির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়া । আসার দিন এই পথ টুকু আমরা অন্ধকারের ভেতরে এসেছি বলে কিছুই দেখতে পারি নি । তবে আজকে সকালে রওয়ানা দিলাম বলে চারিদিকের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে করতে এগোতে থাকলাম । আসার দিন একটা স্থানে থেমে আমরা কফি বানিয়ে খেয়েছিলাম। সেই জায়গাতেও থামলাম বেশ কিছু সময় । মাঝে একটা দোকান পড়লো । সেখানে আবার রং চা পাওয়া যায় । সবাই মিলে চাও খেলাম সেখানে ।

রেমাক্রিতে বেশ কিছু সময় পার হয়ে গেল । আমাদের জন্য যে নৌকা ঠিক করা ছিল সেই বেটার কোন খোজ ছিল না । প্রায় দুই ঘন্টা সেখানেই কেটে গেল । একটা সময়ে অবশ্য তারা এল । আমরা একই খাল ধরে ফিরে এলাম থানচি । এবার অবশ্য আমরা যাচ্ছিলাম স্রোতের অনুকুলে । তাই নামতে হল না আগের বারের মত ।

থানচি থেকে দুপুরের খাবার খেয়ে তারপর চাঁদের গাড়িতে করে বান্দরবান শহরে । সেখান থেকে ঢাকা !

চোখের পলকে কেমন করে চারটা দিন পার হয়ে গেল সেটা বলে বোঝানো যাবে না । ঢাকাতে এসেও যেন বারবার মনে হচ্ছিলো সেই পাহাড়েই পড়ে আছি । পাহাড়ের মায়া বড় কঠিন মায়া । একবার আটকা পড়লে কিছুতেই সেখান থেকে বের হওয়া যায় না । নিচে কয়েকটা ছবি যুক্ত করে দিলাম । যদিও কেবল ছবি দেখে একশ ভাগের এক ভাগও উপলব্ধি করা যায় না !




এটা হচ্ছে থানচি ব্রিজ ।


আমাদের টিমের একাংশ চিকন ট্রলারে উঠছে । আমাদের ট্রলার ছেড়ে দিয়েছে ।



ট্রলার এগিয়ে চলছে । চারপাশের ছবি


এটা বর্তমান রেমাক্রিফলসের ছবি । বর্ষাকেল গেলে এই খালের অন্য রূপ দেখা যায় ।



আমাদের গাইড পানি গরম করায় ব্যস্ত । এখানে আমরা কফি বানিয়ে খেয়েছিলাম রাতের বেলা ।



পরদিন সকালে আমরা জ্যোতলং পথে। এরপরের সব ছবিও যাবার পথে


এগুলো সব যাওয়ার পথে তোলা । অবশ্য আর শ দুয়েক ছবি রয়েছে । এতো ছবি তো পোস্ট করা সম্ভব না ! কয়েকটা দিলাম কেবল।

এই সেই পাহাড়ের চুড়া । এখান সামনে দেখা যাচ্ছে মায়ানমার ।

এই স্যান্ডেলটা পায়ে দিয়ে উঠেছি । কী ভয়ানক অবস্থা এর !


ফেরার পথে মনে হচ্ছিলো এই পথে কিভাবে উঠেছিলাম আমি !




পরদিনের দালিয়ান পাড়ায় । খুব চমৎকার সাজানো গোছানো আর পরিস্কার একটা পাড়া ।


দালিয়ান পাড়া থেকে রেমাক্রির দিকে ফিরে যাচ্ছি ।


যেই দোকানে চা খেয়েছিলাম

এই যে একটা প্রাথমিক বিদ্যালয়

এটা হচ্ছে সেই জায়গা যেখানে প্রথমদিন কফি বানিয়ে খেয়েছিলাম ।

সব শেষে আমাদের জ্যোতলংয়ের চুড়ায় আমাদের সবার ছবি



আপাতত এই হচ্ছে জ্যোতলং ট্যুরের গল্প । আবার কবে যাঅ পাহাড়ে কে জানে !
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:০৫
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"The Mind Game"...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২১ দুপুর ১২:৩২

"The Mind Game"...[/su


জাপানিরা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে যে ভাত- সেটার নাম 'স্টিকি'। মানে ভাতের দানা একটার সাথে আরেকটা লেগে থাকে।
'আমার ধারণা ছিল, স্টিকি ভাত কাঠি দিয়ে সহজে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

সহজ মৃত্যু, কঠিন মৃত্যু

লিখেছেন আবীর চৌধুরী, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২১ দুপুর ১:০৮

আমার দাদী তরমুজ খেতেন না। কারণ উনার মা তরমুজ খেয়ে মারা গিয়েছিলেন।
আমার মা উৎসুক হয়ে ঘটনাটা জিজ্ঞেস করেছিলো দাদুকে। দাদু বলেছিলো, উনার মা একটি কাটা তরমুজ এর অংশ, কাটার পরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০১

লিখেছেন শাহ আজিজ, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২১ বিকাল ৫:১১



মত্যু ১০১ ছাড়িয়েছে গেল ২৪ ঘণ্টায় ।

বুকটা কেপে উঠল থরথর করে।

আজতক ১০০০০ ছাড়িয়ে গেছে করোনা মৃত্যু ।

এ আমাদেরি হেলাফেলার ফসল ।

কাউকে দোষ দেবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার 'কাকতাড়ুয়ার ভাস্কর্য'; বইমেলার বেস্ট সেলার বই এবং অন্যান্য প্রসঙ্গ

লিখেছেন কাওসার চৌধুরী, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২১ রাত ১২:৩৭


'অমর একুশে বইমেলা' প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির প্রথম তারিখ থেকে শুরু হলেও এবার করোনা মহামারির জন্য তা মার্চের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়েছে। বাংলা একাডেমি আয়োজনটা যাতে সফল হয় সে চেষ্টার কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

করোনা কালে যেভাবে লুকানো জব মার্কেট থেকে একটি চাকরী খুঁজে নিবেন

লিখেছেন শাইয়্যানের টিউশন (Shaiyan\'s Tuition), ১৭ ই এপ্রিল, ২০২১ সকাল ১০:১৭



আপনি যদি ইন্টারনেট ঘাটেন, তাহলে দেখতে পারবেন, সেখানে লুকানো কাজের বাজার সম্পর্কে হাজার হাজার আর্টিকেল আছে। এই আর্টিকেলগুলো থেকে বুঝা যায়- এই কাজের বাজারে থেকেই ৭০-৮০% চাকুরী প্রার্থী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×