somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেখে এলাম প্রতিক্ষিত মুভিঃ Doctor Strange in the Multiverse of Madness

০৯ ই মে, ২০২২ দুপুর ১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



অবেশেষে দেখেই ফেললাম মারভেলের জাদুকর ডাক্তার আজিবের দ্বিতীয় মুভিটা । এটাকে ঠিক মুভি রিভিউ বলা যাবে না । মুভি দেখার পরে আমার অনুভূতি বলা যেতে পারে । এবং সেই সাথে মুভিতে কাহিনীর কিছু বর্ণনা থাকবে । সবার আগে বলি যে এই মুভি আপনি পিসির পর্দায় দেখে মজা পাবেন না । মুভিটাকে পরিপূর্ণ ভাবে উপভোগ করতে আপনাকে অবশ্যই থিয়েটারে গিয়ে দেখতে হবে । যদিও টু ডিতেও মুভিতে রিলিজ হয়েছে তবে থ্রি ডিতে দেখলে সেরাটা উপভোগ করতে পারবেন ।

মুভি দেখতে যাওয়ার আগে অবশ্যই আপনাকে এই মুভির প্রথম পার্টটা দেখতে হবে । নয়তো লাফ ফিয়ে কোথায় এসে হাজির হয়েছেন সেটা হয়তো বুঝতে পারবেন না । অনেকে পরামর্শ দিবে যে এন্ডগেম আর স্পাইডারম্যান নো ওয়ে হোম দেখতে দেখতে হবে তবে আমার মনে হয় না যে এন্ডগেমটা দেখার দরকার আছে । তবে দেখলে ক্ষতি নেই । নো ওয়ে হোমটা দেখলে আপনার মার্ভেলের পুরো কাহিনী গুলো যেমন একটার পর একটা এগিয়ে যেতে থাকে সেই ব্যাপারটা ধরতে পারবেন ।
তবে WandaVision' নামে মার্ভেলের একটা টিভি সিরিজ আছে । সেইটা দেখে শেষ করবেন । তাহলে মুভির কাহিনী আরও ভাল করে মাথায় আসবে । মার্ভেলের আরেকটা এনিমেশন সিরিজ আছে । নাম ''Marvel Studios' What If...?'' । এটা দেখলে আপনার মাল্টিভার্স সম্পর্কে আরও পরিস্কার ধারনা আসবে । সেই সাথে মুভির কিছু চরিত্র কেন আসলো আর কিভাবে আসলো সেটাও আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে । ব্যাস এই টুকু । এবার দেখা যাক মুভির ট্রেইলার ।


যারা একেবারেই মুভি সম্পর্কে কোন ধারণা পেতে চান না তারা এরপর থেকে পড়া বন্ধ করে দিতে পারেন । আমি যদিও সম্পূর্ন স্পয়েলার দিবো না তবে কাহিনীর কিছু কিছু বর্ণনা দিবো এর পর থেকে ।


আমি মুভি দেখতে গিয়ে বেশ কয়েকবারই আশ্চর্য হয়েছি । কারণ হচ্ছে মুভির ট্রেইলার দেখে আমি যেমনটা মনে করেছিলাম মুভির ভেতরে আসলে তেমন কিছুই না । সম্পর্ন অন্য ভাবে মুভির কাহিনী এগিয়েছে । মানে মুভির ট্রেইলার দেখে অনেকের কাছেই মনে হতে পারে যে ডক্টর স্ট্রেইঞ্জের লড়াই টা আসলে হবে অন্য ইউনিভার্সের ডক্টর স্ট্রেইঞ্জের সাথে । আমি তো অন্তত এমনটাই ভেবেছিলাম । কিন্তু ....।

আবারও বলছি এরপর খানিকটা স্পয়েলার শুরু হবে । এখানেই শেষ করুন পড়া !


এই মুভির থিম হচ্ছে আমাদের বিশ্ব এক বিশ্ব নয় । আরও আছে আমাদের মতই অনেক ইউনিভার্স । মানে হল আমি যেমন এখানে সামুতে ব্লগ লিখছি এরকম হাজার হাজার অপু তানভীর আছে যারা একই ভাবে সামুতে এখন বসে বসে ব্লগ লিখছে । এবং হুবাহু একই রকম না হলেও আমাদের জীবন যাপন কাছাকাছি । যেমন এখানে আমার একটা প্রেমিকা আছে অন্য বিশ্বে আমার হয়তো দুইটা প্রেমিকা আছে এমন ! আমরা যা নিজেদের স্বপ্নে দেখি সেগুলো আসলে মূলত অন্য ইউনিভার্সে আমাদের সাথে যা হয় সেগুলো। এই হল মাল্টিভার্সের ধারণা ।

এখন এই এক ইউনিভার্সের মানুষ অন্য ইউনিভার্সে যাওয়ার উপায় নেই । কিন্তু এমন একটা ক্যারেকটার আছে যা কিনা এক ইউনিভার্স থেকে অন্য ইউনিভার্সে চলে যেতে পারে । সেই চরিত্রের নাম আমেরিকা । তার নিজের শক্তির উপর নিয়ন্ত্রন নেই । কেবল মাত্র সে যখন ভয় পায় তখনই পোর্টাল খুলে ফেলে আর অন্য ইউনিভার্সে চলে যায় । মুভির শুরুতেই দেখা যায় যে স্ট্রেইঞ্জের সাথে আমেরিকা পালাতে থাকে । তাদের পেছনে এক ভয়ংকর ডিমন তাড়া করে আসে । এই স্ট্রেইঞ্জ কিন্তু আমাদের বিশ্বের স্ট্রেইঞ্জ না । সে অন্য ইউনিভার্সের স্ট্রেইঞ্জ । এক সময় সে মারা পড়ে এবং আমেরিকা পোর্টাল খুলে চলে আসে আমাদের পরিচিত ইউনিভার্সে । এখানে ডক্টর স্ট্রেইঞ্জ তাকে সেই ডিমনের হাত থেকে রক্ষা করে । আমেরিকা তখন জানায় যে এই ডিমন তার পেছনে পড়ে আছে । এবং তাকে কিডন্যাপ করে তার শক্তি নিয়ে যেতে চায় ।

নায়করা যা করে । আমেরিকা কে রক্ষা করতে চায় । সাহায্যের জন্য সে গিয়ে হাজির হয় ওয়ান্ডার কাছে । কিন্তু সেখানে গিয়ে বড় ধাক্কাটা খায় । সেই সাথে আমিও বড় ধাক্কাটা খাই । কারণ আমি ভেবেছিলাম যে মুল ভিলেন হবে ডক্টর স্ট্রেইঞ্জের ইভেল ভার্শন । কিন্তু মুভির আসল ভিলেন হচ্ছে ওয়ান্ডা । সেই ই আমেরিকা কে ধরতে ডিমন পাঠিয়েছিলো ! এবং এখন সে জানে যে আমেরিকা কোথায় আছে । কেন সে এমন টা করছে সেটা মুভি দেখলেই বুঝতে পারবেন ।
মুভিটার ডক্টর স্ট্রেইঞ্জ হলেও আসলে এই মুভিটা দেখার পরে আপনার মনে হতে পারে যে স্কারলেট উইচ মানে ওয়ান্ডাই আসলে এই মুভির আসল চরিত্র । তার স্ক্রিন টাইণ চরিত্র গঠন অনেক বেশি শক্তিশালী এই মুভিতে ।

এরপর স্ট্রেইঞ্জ আসলে ওয়ান্ডার কাছ থেকে আমেরিকাকে রক্ষার জন্য পালিয়ে বেড়ায় । অন্য এক ইউনিভার্সে গিয়ে হাজির হয় । সেখানে আবার শীল্ড কিংবা এভেঞ্জার বলে কিছু নেই । সেখানে আছে ইলুমিনাটি । সেটাও সুপার হিরোদের গ্রুপ । এখানে মার্ভেলের পরিচিত কিছু সুপার হিরোদের দেখা যায় । কাদের কাছের দেখা যায় সেটাও বললাম না । কিছু সারপ্রাইজ থাকুক !

ওয়ান্ডা সেখানেও পৌছে যায় । এবং এক পর্যায়ে আমেরিকাকে নিয়ে চলে । আর অন্য দিকে স্ট্রেইঞ্জকে পাঠিয়ে দেয় অন্য একটা ইউনিভার্সে । এই ইউভার্সের অবস্থা এমন কেন সেটা আপনারা হোয়াট ইফ সিরিজটা দেখলে কিছুটা বুঝতে পারবেন ।
শেষ পর্যন্ত ডক্টর স্ট্রেইঞ্জ কিভাবে আমেরিকাকে ওয়ান্ডার হাত থেকে রক্ষা করে কিংবা আদৌও রক্ষা করতে পারে কিনা সেটার স্পয়েলার দিলাম না ।

মার্ভেলের মুভির সব থেকে ভাল দিক হচ্ছে আলো । মুভিতে সব সময় প্রচুর আলো থাকে । যা চোখকে আনন্দ দেয় । ডিসির মত এতো অন্ধকার নয় । এই মুভির বেলাতেও একই ব্যাপার । আর মার্ভেলের গ্রাফিক্স ভিজুয়াল ইফেক্ট নিয়ে কোন কথা বলার দরকার নেই নিশ্চয়ই । মুভিটা আপনাকে কোন ভাবেই বোর হতে দিবে না । একটা পর একটা ঘটনা ঘটতেই থাকবে । ভরপুর একশন । মুভির সব থেকে খারাপ দিক হচ্ছে মুভিটা যেন খুব ছোট । ভাল জিনিস খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায় । দুই ঘন্টার মুভি । চোখের পলকে শেষ হয়ে যায় । মুভি দেখার পরে মনে হবে যে শেষ হয়ে এতো দ্রুত !

সো, আর দেরি করবেন না । যদি সুযোগ থাকে তবে অবশ্যই থিয়েটারে গিয়েই দেখে আসুন । যদি আপনি সুপারহিরো মুভি পছন্দ করে থাকেন তাহলে সময় এবং অর্থের অপচয় হবে না এই টুকু বলতে পারি ।


pic source
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০২২ দুপুর ১:১৯
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফুল ট্যাঙ্ক স্বপ্ন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৬



শহরের সকালগুলো এখন আর আগের মতো নয়। সূর্য ওঠার আগেই পেট্রোল পাম্পের সামনে লম্বা লাইন পড়ে যায়। সেই লাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে রিদম—একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, আর জীবনের বাস্তবতায় আটকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে মমতা দিদি নিশ্চিত জিতে যেতেন যদি..

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৪৯


আগামীকাল পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপ। গোটা রাজ্যে এখন যে উত্তাপ চলছে, সেটা এপ্রিলের গরমকেও হার মানাচ্ছে। এক দিকে মমতা ব্যানার্জি, তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী, টানা তৃতীয় মেয়াদের পর চতুর্থবারও... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশি দৃষ্টিতে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ও ভারতের হিন্দুরাষ্ট্র হয়ে ওঠার প্রচেষ্টা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:০৬


কাল থেকে দুই ধাপে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শুরু হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ভারতের কেন্দ্রীয় শাসনক্ষমতা ও মতাদর্শ দ্বারা যেমন প্রভাবিত, তেমনি এর প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশেও প্রতিফলিত হয়। ভারতে যখন হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদী... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৬

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:২৩



আমার নাম শাহেদ। শাহেদ জামাল।
আজ আপনাদের বলবো আমার জেল জীবনের কথা। জেলখানার খাবারের মান ভালো না। ফালতু খাবার। একদম ফালতু। এত ফালতু খাবার হয়তো আপনি জীবনে খান... ...বাকিটুকু পড়ুন

-প্রতিদিন একটি করে গল্প তৈরি হয়-৫০

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯



একটি সাইকেলের জন্য কন্যা অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছে। সে মাটির ব্যাংকে টাকা জমিয়েছে।


ক্লাস ওয়ানে উঠলে তাকে বাই সাইকেল কিনে দেবো বলেছিলাম।

তো একদিন গেলাম, দেখলাম কিন্তু কিনলাম না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×