somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাকার ২৭ নম্বর সমুদ্রবন্দর থেকে

১৩ ই জুন, ২০২৪ রাত ১১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চারটার দিকে বাসায় ফেরার কথা ছিল । তবে বৃষ্টির কারণে ঘন্টা খানেক পরেই রওয়ানা দিতে হল । যদিও তখনও বৃষ্টি বেশ ভালই পড়ছিল । আমি অন্য দিন ব্যাগে করে রেইনকোন নিয়েই বের হই কিন্তু আজকে কোন এক কারণে ব্যাগটাই নেই নি । অবশ্য সোজা বাসায় আসবো বলে একটু ভিজলে কোন সমস্যা নেই । আমার এক সময়ে অন্যতম পছন্দের কাজ ছিল বৃষ্টিতে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়া । চুয়াডাঙ্গা থাকতে আমি বৃষ্টি হলেই সাইকেল নিয়ে বের হয়ে পড়তাম । ঢাকাতে এসেও অভ্যাসটা ছিল বটে তবে সময়ের সাথে কমে এসেছে । কাল থেকে লম্বা ছুটি শুরু হচ্ছে, মনে হল আজকে একটু ভেজাই যায় । যদি জ্বর আসেও তবুও বাড়িতেই চলে যাবো, খুব একটা সমস্যা হবে না ।
সাইকেল নিয়ে বের হয়ে গেলাম ।

বৃহস্পতিবারের এই দিনে রাস্তায় প্রচুর জ্যাম থাকে । অন্তত আমি যে রাস্তায় ফিরি সেই রাস্তাটা পুরোটাই জ্যাম হয়ে থাকে । তবে আমাকে খানিকটা অবাক করে দিয়েই দেখলাম যে জ্যামের পরিমান বেশ কম । তবে জ্যামে এসে পড়লাম মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে আড়ং পর্যন্ত আসতে গিয়ে । এই রাস্তায় সারি সারি গাড়ি দাড়িয়ে রয়েছে । অবশ্য কারণটা বুঝতে পারলাম আরো একটু পরেই ।

২৭ নম্বর থেকে আড়ং পর্যন্ত মিরপুররোড সমুদ্র তৈরি হয়ে গেছে । আমি সাইকেল নিয়ে সেই সমুদ্রেই নেমে গেলাম । এই পাশটাতেও তাও যাওয়া যাচ্ছে ঐ পাশে অবস্থা বেশ খারাপ । দেখলাম একটা লেগুনা বন্ধ হয়ে দাড়িয়ে রয়েছে রাস্তার মাঝে, পানির মধ্যে । সম্ভবত ইঞ্জিনে পানি ঢুকেছে । এক যাত্রী পানির ভেতরে নেমে হাটা দিতেই পেছন থেকে হেল্পার চিৎকার করে বলছে ভাড়া দিয়ে যেতে । আরও কয়েকটা সিনএজি দেখলাম বন্ধ হয়ে দাড়িয়ে রয়েছে । মানুষজন পানির ভেতরে হাটছে বাধ্য হয়ে । এমনি পানি ফুটপাত পর্যন্ত ডুবিয়ে দিয়েছে ।

আমি দাড়িয়ে থাকা গাড়ি গুলোর ভেতরে সাইকেল এগিয়ে নিয়ে চললাম । আমার স্নিকারের ভেতরে পানি ঢুকে গেছে । প্যান্টটা একটু গোটানো দরকার ছিল তাহলে একেবারে এভাবে ভিজতো না ! আমার পানির ভেতরে এই সাইকেল চালাতে বেশ মজা লাগে । এই রাস্তাটা আমার খুব ভাল করেই চেনা । তাই কোথায় কী গর্ত আছে সেটা আামর মোটামুটি জানা । নির্ভয়েই সাইকেল চালাতে পারছিলাম ।

আমি যখন একদম প্রথম ঢাকাতে আসি তখন বর্ষায় প্রথমবারের মত আমি ২৭ নম্বরের পানি দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম । প্রতিদিন এই রাস্তায় যাওয়া আসা করি, তাই এই রাস্তা পানির নিচে ডুবে যাওয়ার ব্যাপারটা আমার ঠিক বিশ্বাস হচ্ছিল না । একেকটা বাস যাচ্ছে আর ঢেউয়ের যে একটা প্রবাহ সৃষ্টি করছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না । আমার মনে আছে সেদিন আমি প্রায় ঘন্টা খানেকের উপরে এই ২৭ নম্বরে দাড়িয়ে দাড়িয়ে পানি দেখছিলাম । সেদিনও একটা বাসের ইঞ্জিনে পানি ঢুকে সেটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমার সব কিছু দেখতে এতো মজা লাগছিলো । পানি জমে যাওয়ার ব্যাপারটা আমার বরাবরই খুব ভাল লাগে । বর্ষায় আমাদের বাড়ির সামনে পানি জমে যায় । আমি সব সময় চাইতাম এই পানি যেন সহজে না কমে !

ঢাকাতে ১৫ বছর ধরে রয়েছি । এই ২৭ নম্বর রাস্তাটা যে কতবার খুড়াখুড়ি করা হল, কত ড্রেন তৈরি হল আবার ভাঙ্গা হল কিন্তু যেই লাউ সেই কদুই রয়ে গেল । মাত্র একঘন্টার বৃষ্টিতেই এই রাস্তা ডুবে সমুদ্র বন্দরে পরিনত হয় ! অবশ্য একটু যে উন্নতি যে হয় নি সেটা বলা যাবে না । আগে তো রাপা প্লাজা থেকে ধানমন্ডির দিকে যাওয়ার রাস্তা একেবারে অক্সফোর্ড স্কুল পর্যন্ত একেবারে ডুবে যেত । ডুবে যেত মানে একেবারে মহাসমুদ্রের মত অবস্থা ! এখন সেটা বন্ধ হয়েছে । তবে সাতাশের মোড় থেকে আড়ংয়ের রাস্তার কোন উন্নতি আর হল না ! এটা এখনও সমুদ্রবন্দরে পরিনত হয়েই চলেছে !

মোবাইলটা পলিথিনে মোড়া ছিল বলে সেটা আর বের করি নি । নয়তো কয়েকটা ছবি এড করে যেত !
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুন, ২০২৪ রাত ১১:২৬
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর (Lighthouse)

বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×