
যারা ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করেন, তাদের নিউড ফিডে গতদুই দিনে একবার হলেও এই ভিডিও ফুটেজটা এসেছে। ফুটেজটাতে দেখা যাচ্ছে একদল পেঙ্গুইনের মধ্যে কিছু সংখ্যক পেঙ্গুইন যাচ্ছে খাদ্যের সন্ধানে পানির দিকে আর আরেকটা দল কলোনির দিকে ফেরত যাচ্ছে। কিন্তু একটা পেঙ্গুইন দুই দিকের একদিকেও যাচ্ছে না। কেবল কিছু সময় স্থির হয়ে দাড়িয়ে রইলো, দুই দিকে দেখলো তারপর ৭০ কিলোমিটার দুরের পাহাড়ের দিকে হাটা দিল। প্রশ্নটা হচ্ছে, পেঙ্গুইনটা পাহাড়ের দিকে হাটা দিল কেন?
এই প্রশ্নের উত্তর আসলে কী? কেন সে নিরাপদ বাসস্থান ছেড়ে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে অজানা অচেনা পাহাড়ি পথের দিকে হাটা দিল?
একটা কারণ হতে পারে যে মানুষ নিজেকে সেই পেঙ্গুইনের অবস্থানে দেখতে পাচ্ছে। আমাদের সবার মাঝেই এই সুপ্ত বাসনাটা সব সময় কাজ করে। সব কিছু ছেড়ে ছুড়ে দিয়ে অজানার পথে পাড়ি দেওয়া। পাহাড়, সমুদ্র কিংবা অজানা কোন পথে যাত্রা শুরু করা। কিন্তু সংসারের টানে আমাদের বেশির ভাগেরই যাওয়া হয়না। কিন্তু কিছু মানুষ ঠিকই গৃহত্যাগী হয়। সব কিছু ছেড়ে দিয়ে অজানার পথে চলে যায়। নিরাপদ ছাদের নিচে বসবাস করা থেকেও তারা দুর্গম পাহাড়ি কিংবা মরুর পথে এফিয়ে যাওয়াকেই শ্রেয় মনে করে।
এই পেঙ্গুইনের ভিডিও দেখে আরেকটা মুভির কথা মনে পড়ল। আপনাদের মাঝে অনেকেই হয়তো দেখে থাকবেন। মুভিটা একটা বাস্তব ঘটনাকে অবলম্বন করে বানানো।

মুভিতে গল্পের নায়কের আধুনিক জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা জন্মে। সে তার সব টাকা পয়সা দান করে দিয়ে, কাউকে কিছু না জানিয়ে অ্যালাস্কা যাওয়ার জন্য রওয়ানা দেয়। পথের মাঝে কত মানুষের সাথে পরিচয় হয়। জীবনকে পুরো মাত্রায় উপভোগ করে।
অনেকের কাছেই জীবনের কোন মানে নেই। আপনি যদি আপনার জীবনের দিকে তাকিয়ে দেখেন আপনার জীবন আসলে আলাদা কিছুই নয়। সকালে ঘুম থেকে উঠলেন। খাওয়াদাওয়া কাজ বিকেলে আড্ডা রাতে ঘুম। সকালে আবারও সেই একই রুটিন। তারপর একদিন মরন। মরনের পরে আপনার কথা আসলে কে মনে রাখবে? কে আপনার প্রয়োজন অনুভব করবে? হয়তো আপনার সন্তানেরা কিছু কাঁদবে, তারপর আপনার নাতির জেনারেশন পার হলে কেউ আপনার কথা মনেও রাখবে না। আপনি এই পৃথিবীতে ছিলের অস্তিত্বই গায়েব হয়ে যাবে।আমার দাদার নাম কেবল আমি জানি। দাদার বাবা কে ছিল আমার কোন আইডিয়াই নেই। তাহলে এই জীবনের আসলে মানে কী? এই ভাবনাটা অনেক মানুষের মধ্যেই আসে।
তবে এই ক্লিপটা কিন্তু আজকের নয়। ২০০৭ সালে ভের্নার হের্টসোক একটা ডকিউমেন্টারি বানিয়েছিলেন। এনকাউন্টার এট দ্য এন্ড অব দি ওয়ার্ল্ড নামে। সেই খানকার একটা ক্লিক হচ্ছে এই ছোট ৫০ সেকেন্ডের ক্লিকটা ।
১৫ বছর আগে ইউটিউবে একটা ভিডিও আপলোড হয়েছিল।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


