
গল্পের শুরুতে আছেন হরিচরণ বাবু । তিনি শান বাধানো ঘাটে বসে স্মৃতি চারনে ব্যস্ত । তার তিন বছর এর মৃত কন্যাকে মনে করেন । কিন্তু তার এক অদ্ভুত ঘ্রাণ এসে বিভোর করে তোলে । কোন এক নীল রঙা দেব শিশু কে কোলে নিয়ে বসে আছেন তার গা থেকে নীল রক্ত ঝরছে । এক দিন দেখেন এক রাজপুত্রের মত এক ছেলে বসে আছে । তার শশী মাস্টার আবার কে? এই ছেলে কোথা থেকেই বা এলো?
১৯০৫ সালের পটভূমিকাতে লেখা এই বইটায় অনেকগুলা চরিত্র। বেশ অনেকগুলো চরিত্র, চক্রাকারে একে অন্য কে কেন্দ্র করে ঘুরছে, যেভাবে আমরা ঘুরি রোজ। মজার ব্যাপার হল এটা তে ইতিহাসের অনেক ঘটনা থাকলেও এটি ইতিহাস নয়। অনেকের কাছে হরিচরণ,লাবুস চরিত্রগুলো কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলোর দু’জন, কিন্তু সক্ষম থাকা সত্ত্বেও এরা নিরুত্তাপ, বিশেষত লাবুস। ভালো লাগছে।আবার ধনু শেখ, শশাংক পাল, মাওলানা ইদরিস, জুলেখা, অম্বিকা, শরীফা আর নানা চরিত্রের ভীড় এই বইয়ের দিক কে অসাধারণ করে তুলেছে ।
এখানে ধনু শেখ হচ্ছে এক ধুর্ত মানুষ । যে নাম মাত্র মুসলমান । যিনি চালাকি করে এক হিন্দু কে গো-মাংস খাওয়ান । হিন্দু ধর্মে ইহা ঘোর মহাপাপ । তার আবার এক লঞ্চ আছে যার নাম হিন্দু দের মত । কিন্তু কেউ জানে না কেন এই নাম । সময়ের এক ফোড় অসময়ের দশ ফোড় এর সমান ।
এবার বলি সেটা হলো, আমার দেখা হুমায়ূন আহমেদ এর অন্যতম সেরা বই । যিনি এক সাথে রবি থেকে বিভূতিভূষণ, ম্যাক্সিম গোর্কি আর ইতিহাস এর অন্য চরিত্রের সম্পর্ক ঘঠিয়েছেন । এক কথায় দুঃসাধ্য এক কাজ করেছেন । যদিও বইটি শেষ হয়েও হয়নি শেষ এর মত ।
অসাধারণ অমর এক সৃষ্টি ।
বইঃ মধ্যাহ্ন
লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৪:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



