
ছবিতে যে গেট দেখা যাচ্ছে সেটা পার্কের প্রবেশ গেট । এমন আরো তিনটি গেট আছে । তবে এই গেট দিয়ে শুধু মানুষ চলাচল করে । বাকি গেট গুলোতে যারা পিকনিক করতে আসে তারা গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করতে পারে ।
জিন্দা পার্কের কথা অনেক আগে থেকে শুনে আসছি । কিন্তু যাওয়া হয়নি । তাই বন্ধুকে সংগে নিয়ে ঘুরে এলাম । ঢাকার কাছে এত সুন্দর একটা জায়গা আছে না গেলে বুঝতে পারতাম না । কোলাহল মুক্ত পরিবেশ আর সবুজ প্রকৃতি যারা ভালবাসেন তাদের জন্য একদম সঠিক জায়গা । একটা তথ্য দেই, এখানে ই ডুব ছবির স্যুটিং হয়েছে ।

টিকেটের দাম দেখে বুকটা একটু মোচড় দিয়ে উঠেছিল । দাম ১০০ টাকা । তবে নুহাস পল্লীর চাইতে কম এইটা স্বান্তনা দিছি মনেরে ।

ক্রিকেট বা ফুটবল খেলার জায়গা না পেলে এখানে গিয়ে খেলতে পারেন । ঢাকার মধ্যে তো মাঠ ই নাই ।

মাঠ থেকে সামনে একটূ এগোলেই এই সুন্দর মসজিদ দেখতে পাবেন । ডিজাইনেই মুগ্ধ হয়ে যাবেন ।

এটা কি বুঝতে পারিনি । কোথাও কোন ফলক চোখে পরল না । চারপাশ ঘুরলাম তাও কিছু দেখলাম না । মনে হয় মুঘল আমলের কোন জিনিশ ।

এটা আর একটা গেট । এখান থেকে আপনি আরো ভিতরে প্রবেশ করতে থাকুন ।

প্রথমে ভেবেছিলাম ছোট ঘর বসে থাকার জন্য । পরে দেখি টোনাটুনির রান্না ঘর । যদিও এখানে রান্না হয় না । এটা হাতের ডানে ই দেখতে পাবেন ।

এই রাস্তা ধরে সামনে এগিয়ে চলুন । অনেক কিছু আপনার জন্য অপেক্ষা করছে ।

ভদ্র লোক সেই, বড় সেই,
যে সত্যের উপাসক
- শেখ সাদী
এমন অনেক বানী দেখতে পাবেন ।

এটা রেস্টুরেন্ট । তবে খাবার হিসেবে দাম একটু বেশি ।

রেস্টুরেন্ট এর চেয়ার টেবিল এর ডিজাইন সুন্দর ।

এবার সোজা চলে আসুন এই লেক পেয়ে যাবেন ।

লেকের পাশে এই বাড়িটা আমাকে অবাক করেছে । ভেবেছিলাম এটা কি হতে পারে তাও গোল । পরের ছবিতে এটা বলছি ।

এবার বাড়িটার কাছে চলে এসেছি । ভেতরে ঢুকেই তো অবাক হয়েছি । এটা একটা লাইব্রেরি ।

লাইব্রেরিতে ঢোকার দরজা । এর আবার চার্জ আছে । তাছাড়া জুতা খুলে ঢুকতে হয় ।

লাইব্রেরির সামনে এই লেক ।

এই রাস্তাটা আমাকে কোন এক সিনেমায় দেখা রাস্তার কথা মনে করিয়ে দেয় ।

এই সাকো দিয়ে ছোট দ্বীপে যেতে পারবেন । বরিশালের মানুষ হওয়াতে পার হতে কোন কষ্ট হয়নি । যদিও আমাদের গুলো এত মজবুত আর চলাচলের জন্য এত সুবিধার ছিল না ।

সাকোর পুরো দৃশ্য । এটা মানুষের জন্য ফ্ল্যাট বক্স আকারে হাটার জন্য দেয়া হয়েছে ।

দ্বীপ থেকে পুরো লেকের দৃশ্য ।

পিগমীদের বাড়ি ঘর । ভিতরে ছবি তুলতে পারি নাই । লোকজনের কোন কাজ নাই ভিতরে ঢুকে ছবির পর ছবি তুলে যাচ্ছে ।

ঘরের উলটো দিকেই এই টিলা । সবুজ ঘাসে শুয়ে পরতে ইচ্ছে হবে ।

অনেক দিন ঘাসে শুয়ে থাকি না । তাই একটু শুয়ে নিলাম ।

সবুজ ঘাসের টিলা থেকে সোজা নেমে আসুন । পদ্ম পুকুর পেয়ে যাবেন ।

পুকুর পাড়ে গাছের রেল । সুন্দর করে ঘেড়াও দেয়া ।

তোমার যেখানে সাধ চলে যাও
- আমি রয়ে যাব এই বাংলার পরে;
দেখিব কাঠালপাতা ঝড়িতেছে ভোরের বাতাসে ।
-- জীবনানন্দ দাশ

আবারো জীবনানন্দ দাশ ।

লেকে ঘোরার জন্য বোট । তবে এটার জন্যও পে করতে হবে । আর সেটা কত নির্ধারন করে নিন ।

ফ্লোটিং ব্রিজ । যাদের সাহস কম তাদের না ওঠাই ভালো । এক কাপল উঠেছিল । তারপর সেই আপু কে নিয়ে আর আসতে আধা ঘন্টা লেগেছে ।

যাদের ভালবাসা বেশি তাদের জন্য গাছ দিয়ে লাভ আকা । তাড়াতাড়ি এই জায়গা ত্যাগ করেছি । ভালবাসা বাসি আমার জন্য না ।

হাটতে হাটতে টার্কির দেখা পেলাম । শান্ত শিষ্ট ভদ্র লোক এরা । দুষ্টামি করে না ।

গরুর খামার । গন্ধ আছে তাই কাছে না যাওয়াই ভালো ।

ডুব ছবিতে ব্যবহৃত সেই বাড়ি

আমি গাছ কম চিনি । তবে এটা মনে হয় পাম গাছ । বন্ধু এইটাই বলছে ।

কাঠের আসবাব পত্রের কাজ চলছে । মিস্ত্রীররা কাজে ভীষন ব্যস্ত । কারন শীতের সময় বিয়ে বেশি হয় ।

এবার বের হতে হবে । যেখান দিয়ে ঢুকেছি । সেখান দিয়েই বের হতে হয় । তবে বের হবার আগে এই ডাস্টবিন আমার মন খারাপ করে দিয়েছে ।

এই কাকা ফুল বিক্রি করছে । চাইলে আপনি কিনতে পারেন । তবে ফুলের প্রতি ভালবাসা থাকলে গাছে দেখতেই আপনার ভাল লাগবে ।

এবার যেতে হবে । তবে আজ যাচ্ছি কিন্তু যাচ্ছি না, আবার দেখা হবে
আপাতত ঢাকার কাছাকাছি এই জায়গাটা অসম্ভব সুন্দর । প্রাকৃতিক পরিবেশ আর পাখির ডাক শুনতে চাইলে আপনাকে যেতে হবে জিন্দা পার্ক । যারা বেশি ছুটি পান না । তারা এখানে আপনাদের সময়টা কাটাতে পারেন । কম সময়ে দারুন কিছু সময় উপভোগ করতে পারবেন ।
লোকেশনটা বলে দিচ্ছি , জিন্দা পার্ক নারায়ণগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ উপজেলায় দাউদপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। নারায়ণগঞ্জ রাজধানী শহর ঢাকার খুব নিকটেই অবস্থিত। আপনি কুড়িল ফ্লাই ওভার ধরে তিনশ ফিট রাস্তায় ঢুকে সোজা কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত চলে যাবেন । বামের রাস্তায় ঢুকে যাবে যেটা গাজীপুর এর দিকে গিয়েছে । সেখান থেকে দু থেকে পাচ মিনিট সোজা গেলেই দেখবেন সাইনবোর্ড আছে মেরিন সিটি । হাতের ডানের রাস্তায় নেমে যাবেন একটু ঢালু রাস্তা । সেই রাস্তা ধরে সোজা জিন্দা পার্কের গেটে । সবচেয়ে ভাল হয় গুগল ম্যাপ ব্যবহার করলে ।
আর সবার প্রতি একটা অনুরোধ । আপনার ঘুরতে যেতে আপনাদের চিপসের প্যাকেট, পানি-জুস এর বোতল আর অন্যান্য যেসব জিনিস যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক সেগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলুন ।
ধন্যবাদ । ভাল থাকুন । সুস্থ থাকুন । আপনার চারপাশ পরিস্কার রাখুন ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

