somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা স্বপ্ন ভঙ্গের কারখানা এবং মৃত্যুর মিছিল

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




“ সম্পদহীনদের জন্য শিক্ষাই সম্পদ” কথাটি ব্লগার চাঁদগাজী স্যারের । এটা কতটা সত্য । আমাদের দেশের দিকে তাকালে তা বুঝে ওঠা মুশকিল । কেননা আপনি আমাদের দেশে মেধার বা শিক্ষার গুরুত্ব মানুষ কে বলে বুঝিয়ে মানাতে পারবেন না । যদিও এটা আমাদের মেনে নিতে কষ্ট হয় । তবে এটাই সত্য । আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার কোন কাঠামো নেই । কোন সুন্দর ব্যবস্থাপনা নেই । কোন সিলেবাস বা নিয়ম নেই । শুধু বছরের শুরুতে আপনি সবার হাতে বই পৌছে শিক্ষার সঠিক মান আনতে পারবেন না । মান বাড়াতে আপনাকে সেই অনুযায়ী কাজও করতে হবে । সেটার উপর কতটা নজরদারী রাখছেন । আপনি বছর বছর এ প্লাস আর গ্রাজুয়েট বের করছেন কিন্তু তাদের মানের দিকে কতটা খেয়াল রাখছেন । শুধু পাস দিয়ে আপনি যাচাই করছেন শিক্ষার মান । কোয়ান্টিটির দিকে না তাকিয়ে কোয়ালিটির দিকে তাকান ।

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা দিন দিন ভেঙ্গে পরছে । এর দায় ভার কার । ছাত্র ছাত্রীরা শুধু পাস করার জন্য ছুটে বেরাচ্ছে । জিপিএ সিজিপিএ নিয়ে হতাশায় ভুগছে । এগুলো একজন মানুষের মানসিক বিকাশ বাধা গ্রস্থ হচ্ছে । আর সে থেকে ছাত্রছাত্রীরা অন্ধকারে চলে যাচ্ছে যার মধ্যে তারা সুইসাইড এবং মাদকাসক্তি সহ বিভিন্ন ভাবে তাদের নিজের জীবন কে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে । তারা বুঝেই উঠতে পারছে না আসলে তাদের জীবনের লক্ষ্য কি । আর একজন শিক্ষক হিসেবে এবং শিক্ষার জন্য আপনাদের দায়িত্ব হচ্ছে ছাত্রছাত্রীর এই দিকে লক্ষ্য রাখা । তাদের মানসিক দিক্কের প্রতি খেয়াল রেখে আপনাকে সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে । আপনি শিক্ষক তাই বলে যা খুশি তাই আপনি করতে পারেন না । ছাত্রছাত্রীরা আপনার কাছ থেকে শিখবে ক্ষমা আর দয়াশীলতা । অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে ন্যায়ের পথে থেকে অন্যায়ের সাথে লড়াই করা ।

গত কিছু দিনে ছাত্রছাত্রীদের আত্মহত্যা বেড়েছে । একজন মানুষ কখন আত্মহত্যা করে বা সেই পর্যায়ে চলে যায় সেটা একবার আমাদের ভেবে দেখা উচিত । আমি নিজেও এই পড়াশুনা নিয়ে অনেক হতাশ । কারন যে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়েছে সে ব্যাংকের ক্যাশিয়ার পদে চাকরি করে । ডাক্তার মন্ত্রনালয়ে জব করে । তাহলে সে ডাক্তারি কেন পড়েছে । আচ্ছা এসব বাদ দেই । কারন সবার ই নিজস্ব পছন্দ থাকে । তবে যারা ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার তারা কেন সাধারন চাকরিতে ঢুকে যায় সেটাই আমি বুঝতে পারি না । আবার কোম্পানিরা বলে তারা নাকি যোগ্য লোক পায় না । আচ্ছা যোগ্যতার মাপ কাঠি তো আপনারা ঠিক করেছেন রেজাল্ট দিয়ে তবে কেন তারা যোগ্য নয় ।

যাইহোক সুইসাইড নিয়ে কথা বলছিলাম । ভিকারুন্নিসা স্কুলের যে ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে সেটার দায়ভার এখন কে নেবে । সে কেন আত্মহত্যা করেছে সেটার দিকে নজর দেয়া যাক । সে তার বাবা মায়ের অপমান সহ্য করতে পারেনি তার ছোট্ট মন । আর কিভাবেই বা নেবে, সেও তো মানুষ । মার খেয়ে সহ্য করা যায় কিন্তু কথার বান আপনি কিভাবে সহ্য করবেন । যে ছাত্রীর বাবা মায়ের বুক আপনি খালি করলেন তা পূরন করতে পারবেন ।




শিক্ষকের দায়িত্ব ছাত্রছাত্রীকে তার ভুল ধরিয়ে দিয়ে সঠিক পথে নিয়ে আসা । তাদের ন্যায় আর অন্যায়ের পার্থক্য তুলে ধরা । ভাল মন্দ বোঝানো । এখন এখানে দেখা যাচ্ছে মেয়েটা মোবাইল ফোন নিয়ে স্কুলে এসেছে এবং পরীক্ষার হলে বসেছে । এটা বড় ধরনের অপরাধ স্কুলের ক্ষেত্রে । আমি এটাকে অপরাধ ই বলব । কারন মোবাইল ফোন ব্যবহার করার জন্য অবশ্যই একটা বয়সে দরকার আছে । আমি এবং আমার ছোট বোন কলেজে ওঠার পর ফোন ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছি । তবে এটা সবার পারিবারিক ব্যাপার । এটা যে পরিমানের অপরাধের পর্যায়ে পরে তাতে বাবা মায়ের কাছে নালিশ দেয়া পর্যন্ত যাওয়া লাগে না । তাকে সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে বা হালকা ধমক দিয়ে ছেড়ে দেয়া যেত । এছাড়া বাবা মা কে ডাকার পর মোবাইল ফোন তাদের কাছে হস্থান্তর করতে পারত । তারা সেটা না করে উলটো বাবা মা কে অপমান করে টিসির হুমকি দেয় । কারন তারা জানে ক্ষমতা তাদের হাতে ।

আবার অন্য দিকে এটা লঘু পাপে গুরু দন্ডের মত হয়ে গিয়েছে । আমার মতে শুধু ছাত্রীকে শাস্তি দিয়ে ছেড়ে দিলেই হতো তার বাবা মা কে টেনে আনাটা একটু বেশি হয়ে গিয়েছে । স্কুল কতৃপক্ষের কি এতটুকু ধারনা নেই যে তারা ছাত্রছাত্রীদের কি শিখিয়েছে । তারা শিক্ষক কিন্তু আসলে তারা কি শিক্ষা দিচ্ছে । তারা শিক্ষক তাদের কাছ থেকে সবাই শিখবে । কিন্তু তারাই যখন নিজেদের মুর্খতা প্রমান করেন তখন আসলেই মনে হয় আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা হচ্ছে স্বপ্ন ভাঙ্গার কারিগর ।

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা গত কিছু দিনে অনেক গুলো প্রান কেড়ে নিয়েছে । স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সব জায়গাতেই মৃত্যুর মিছিল থামছে না । আপনাদের কি মনে হয় না এরা কেন আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে । কেন তারা নিজের জীবন নিয়ে এত হতাশ । এই দায়ভার কি একটুও আপনাদের উপর বর্তায় না ।

শিক্ষা ব্যবস্থায় কোয়ালিটি দরকার কোয়ান্টিটি না ।

ভাল থাকুন । সুস্থ থাকুন । আপনার চারপাশ পরিস্কার রাখুন ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:৪৩
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নেতানিয়াহুও গনহত্যার দায়ে ঘৃণিত নায়ক হিসাবেই ইতিহাসে স্থান করে নিবে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০৭ ই মে, ২০২৪ রাত ১২:৩৮

গত উইকেন্ডে খোদ ইজরাইলে হাজার হাজার ইজরাইলি জনতা নেতানিয়াহুর সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে।
দেখুন, https://www.youtube.com/shorts/HlFc6IxFeRA
ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে নেতানিয়াহুর এই হত্যাযজ্ঞ ইজরায়েলকে কতটা নিরাপদ করবে জনসাধারণ আজ সন্দিহান। বরং এতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

খুন হয়ে বসে আছি সেই কবে

লিখেছেন জিএম হারুন -অর -রশিদ, ০৭ ই মে, ২০২৪ রাত ২:৩১


আশেপাশের কেউই টের পাইনি
খুন হয়ে বসে আছি সেই কবে ।

প্রথমবার যখন খুন হলাম
সেই কি কষ্ট!
সেই কষ্ট একবারের জন্যও ভুলতে পারিনি এখনো।

ছয় বছর বয়সে মহল্লায় চড়ুইভাতি খেলতে গিয়ে প্রায় দ্বিগুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাম গাছ (জামুন কা পেড়)

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ০৭ ই মে, ২০২৪ সকাল ৯:০৩

মূল: কৃষণ চন্দর
অনুবাদ: কাজী সায়েমুজ্জামান

গত রাতে ভয়াবহ ঝড় হয়েছে। সেই ঝড়ে সচিবালয়ের লনে একটি জাম গাছ পড়ে গেছে। সকালে মালী দেখলো এক লোক গাছের নিচে চাপা পড়ে আছে।

... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনির্বাণ শিখা

লিখেছেন নীলসাধু, ০৭ ই মে, ২০২৪ দুপুর ১:৩১



রাত ন’টার মত বাজে। আমি কি যেন লিখছি হঠাৎ আমার মেজো মেয়ে ছুটতে ছুটতে এসে বলল, বাবা একজন খুব বিখ্যাত মানুষ তোমাকে টেলিফোন করেছেন।

আমি দেখলাম আমার মেয়ের মুখ উত্তেজনায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ইয়াম্মি খুব টেস্ট=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই মে, ২০২৪ বিকাল ৪:১৪



©কাজী ফাতেমা ছবি
সবুজ আমের কুচি কুচি
কাঁচা লংকা সাথে
ঝালে ঝুলে, সাথে চিনি
কচলে নরম হাতে....

মিষ্টি ঝালের সংমিশ্রনে
ভর্তা কি কয় তারে!
খেলে পরে একবার, খেতে
ইচ্ছে বারে বারে।

ভর্তার আস্বাদ লাগলো জিভে
ইয়াম্মি খুব টেস্ট
গ্রীষ্মের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×