-বুঝাবুঝির কিছু নাই তো।
একটু বিরক্তি নিয়েই বলে ছক্কু।
-এই যেমন ধরেন দ্যাশের অনেক গরীব মানুষ এখন শীতে কষ্ট পাইতাছে। এগো জন্য গরম কাপড়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এইটাই হইল কারেন্ট ইস্যু। জনগণের জন্য করবেন। মানুষ জানবে। তারপর আপনার নাম দ্রুত ছড়াইয়া পড়বে। দরকার হইলে স্টুডিও থাইক্যা লিটনরে ভাড়া কইরা লইয়া যামু। হ্যায় ছবি তুলব। আপনে হাসি মুখে পোজ দিবেন। সেই ছবি আমরা পত্রিকায় পাঠাইয়া দিব।
-ফটু উঠব? গদগদ এক হাসিতে কোথায় য্যান হারাইয়া যান দিরান ভাই খানিক্ষণ।
-শীতকালে গরম কাপড়। আহারে এই মানুষগুলা আবার গরম কালেও কষ্ট পায় নিশ্চয়ই। তখন ওগো লাইগ্যা পাঙ্খা। বর্ষা কালে বৃষ্টিতে ভিজে। একটা কইরা ছাতা। অনেক খরচা তো রে ছক্কু।
-আপনেরে পাঙ্খা আর ছাতার কথা ভাবতে কইছে ক্যাডা? গরম কাপড়ের কথা ভাবেন। সেইডা এমন খরচাপাতির কিছু তো না। বাসা বাইতে পুরান কাপড় অনেক আছে। সেগুলা নিমু। মহল্লার বাইতে বাইতে যামু। তাগোটা লমু। এরপর না কুলাইলে বঙ্গ তো আছেই।
-তার থেইক্যা গুলিডির ব্যবস্থা আগে করলে হইতো না?
-গুলি মানে!!
- ওই যে একটু আগে পড়লি রাইফেলের গুলির অভাবে শুটিং ফেডারেশনে পেরাকটিস করতে পারতাছে না। কয়েক হাজার তো পুইতা থুইছি। ওইডি তুইল্লা লইয়া চল। লিটন ফটু উডাইব। চোদনারাও জানব দিরান অহনো আছে। বিচি আছে মানে ম্যাশিনভি আছে। প্যাচ করলে প্যাচ।
-কী কন এইডি ভাই। আর্মি নামছে। ল্যাংরা মফিজ, কানা বক্কররা আছে লৌড়ের উপর। আর আপনে কয়েন লইয়া যাইবেন, ছবিও উডাইবেন!! তারপর সোজা নাজিমুদ্দিন রোজ। তার আগে পিডা মাটিত পড়তো না। ক্রস ফায়ারো হয়্যা যাইতে পারেন। পত্রিকায় উঠব আপনারে নিয়া অস্ত্র উদ্ধারে যাওয়ার সময় সঙ্গীসাথীরা আপনারে ছিনাইয়া নিতে গুল্লি করছে। আপনে পালাইতে গিয়া হ্যাগো গুলিতে মরছেন। লাশের পাশে একটা কাটা রাইফেল, একটা ভাঙা পিস্তলও পাওয়া যাইব।
-ঠিকোই। বাদ দে তাইলে। তো এহন ক্যামনে কি? গরম কাপড় লইয়া কই যামু? কারে দিমু? ক্যামনে দিমু?
-হ। সামনাসামনি না দ্যাখলে বুঝতারবেন না। চলেন একজাগায় লইয়া যাই আফনারে। সুন্দর সুন্দর মাইয়ারা কি সুন্দর কইরা কাপড় টোকাইতাছে (চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




