somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বইয়ের বিজ্ঞাপন : বইমেলায় আমাদেরও বই...

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ১১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা জিনিস বুঝলাম। ওপরে ওপরে খাতির দ্যাখায় সবাই। কিন্তু কামের সময় কেউ কাউরে পুছে না। এইটা সামহোয়ার ইনেও সত্যি। এই সরাইখানায় এত পাবলিকের লগে খাতির। কিন্তু একটা বই বাইর করতে গিয়া বুঝলাম এই সবই আলগা, ঠুনকো। আমার স্বার্থে কারো কিছুই যায় আসে না।

যাউকগা। হযবরল জানাইল বইমেলায় চ নামে একটা বই সত্যিই আসতেছে, ব্লগারদের টাংকিবাজি লইয়া। সেই টেনশনে এমনিতে ঘুম আসে না। পথিকের বই বাইরাইব, শুভর বই বাইরাইব। মানলাম তারা পুরান লেখক। এরপর টাকলা কইশিক ও বই বাইর করতাছে। বাকি বিল্লাহ ছাপাকল দিয়া হেল্প করতাছে। আমি সেলিব্রিটি কবিদের একজন, সে তার বইয়ে আমার কবিতা রাখে নাই। কী অপমান! ঠিক করলাম আমিও বই লেখুম। বাকির দোকানে গেলাম কয় বাকি নাই। ভালো কইরা বইতেও দিলোনা, চা ও খাওয়াইল না। সেলিব্রিটি ব্লগার বলতে কী বুঝায় কোনো আইডিয়াই নাই তাগো।

যাক ফোন করলাম তারে। কয় বই ছাপাইয়া দেওয়া যাইব। পয়সা দেন। আমি একজন বিখ্যাত কবি, কবিতা লিখি, পাবলিক পইড়া ধইন্য হয়। কই ব্যাডা আমার কবিতা ছাপাইয়া ধইন্য হইব, তা না। আমার বলে উল্টা পয়সা দিয়া বই ছাপাইতে হইব! কইলাম ঠিক আছে পরে দিমু। ব্যাচাবিক্কিরি ভালো হইলে। কয় বাকির নাম বলে ফাকি। নিজের নামরে নিজেই বিকৃত করে এমন প্রকাশক আমার দরকার নাই।

তারপর ভাবলাম আমি তো পুরান বিখ্যাত। কয়েকজন অখ্যাতরে সুযোগ দিই। প্রমোট করি। শেখ জলিল কয় সে নিজেরটা নিজেই করবে। মৃন্ময় কয়েকটা লিখল- বেশি কান্নাকাটি। শরৎরে কইলাম, ভাব চোদায়। আলভী কয় আমি নাটক করি, আমার লেখা কবিতা আমার নাটকের নায়ক পড়ব, পাবলিক না। তারা শুনতে পারে। নাজমুল আলবাব, জেবতিক আরিফদের কথাবার্তায় মনে হইল তারা আমার খ্যাতিরে হিংসা করে। সো তারাও বাদ।

বিদেশে যোগাযোগ করলাম। হযবরল, হাসান মোরশেদ, সুমন চৌধরী- এদের প্রত্যেকেরই আলুর দোষ আছে। আমার অগোচরে আমারই এক প্রেমিকার লগে টেলিফোনে ফিসফিস আর ম্যাসেঞ্জারে দূরপাল্লার ইটিশপিটিশ। কিন্তু ল্যাখাল্যাখিতে ইনভলভ হইতে চায় না। তখন বউরে ডরায়। সবডিরে দেইখ্যা লমু পরে। ধুসর পোলাপাইন, কোবতে লিখব কি!

অবশেষে উদ্ধার করল আমারে চটি রাসেল। তার অগাধ ট্যাকা। ডলার আর কি। তো বই ছাপাইতে ট্যাকা দিব, কিন্তু তার অখাদ্য অশ্লীল কোবতেও রাখতে হইব। কী আর করা। বেচারা বউ ফালাইয়া দেশে আছে বহুদিন। আমার ডাল্লিঙের লগে তারো খুব খাতির। তো বইয়ে আমাদের সেই প্রেম উপাখ্যান। তিনজনের থ্রিসাম অ্যাকশন।

ভিন্ন মাত্রার এই উচ্চমার্গের কোবতের বইয়ের প্রতিটাই অসাধারণ। যারা রুচিশীল পাঠক তাদের ভালো লাগবে। রুচিহীনদেরো খারাপ লাগব না (রাসেলেরডি)। হক প্রকাশনী থাইক্যা বাইর হওয়া এই বইয়ের দাম বেশি না। তারপরো বেশী মনে হইলে দুইট্যাকা কম দিয়েন। সহব্লগার বইলা কথা। আপনেরা না কিনলে এই ধান্দাবাজিতো পুরাডাই পানিত যাইব।

প্যাক পাড়াইয়া মেলায় ব্লগাররা আসলে ও ধন্দে পড়তে পারেন। যদিও সব স্টলেই আমগো বই আছে। তয় অটোগ্রাফ ও ফটুগ্রাফসহ কিনতে চাইলে বাঙলা একাডেমির দিকে ফুচকার দোকানডির পিছনে আইবেন। রাসেল গান শুনাইব আপনাগো। প্রতি এক ঘণ্টা পরপর একটা হেড়ে গলায় চিৎকার শুইনা যে লোকজন লৌড় পারে, ওইডার লগে আমাগো মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির কুনু সম্পর্ক নাই।

সবশেষে একডা কথাই কই। কিনেন, পড়েন, নিজেরে জানেন। নাইলে মাহবুব সুমনের উজিটা ধার করুম। তখন কইলাম বই ঠিকোই কিনবেন। দামও দিবেন, ঘাড়ও খাইবেন, কানবেন ফাও।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৪৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়ন রোডম্যাপ: একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র রূপরেখা : পর্ব -১ ও ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১


প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।

বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।

সবুজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুদের পর্যবেক্ষণ, শিশুদের ভালোবাসা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩


Two for joy!

আমার চার বছরের নাতনি আলিশবা আমাকে ব্রীদিং এক্সারসাইজ করতে দেখলে সে নিজেও শুরু করে। যতটা পারে, ততটা মনোযোগের সাথে অনুকরণ করতে চেষ্টা করে। আমি ওকে দেখলে কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮



ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মানুষ' হওয়া খুব সোজা, 'মুসলমান' হওয়া কঠিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৪



একটু আগেই ভাবছিলাম, মানুষ হওয়াটা খুব সহজ। বাবা-মা জিংজিং করে আমাদের পৃথিবীতে এনেছেন, এতে আমাদের কৃতিত্ব কোথায়! কোন কৃতিত্ব নেই। আমরা অটো ভাবেই 'মানুষ' হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছি। দুইজন মানব-মানবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমাকে ভালোবাসি I love you

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৩:০২

তোমাকে ভালোবাসি বাতাসের মতো,
যেমন শিশুর কাছে বালি একটা খেলনা,
অথবা ঝড়ের মতো, যাকে কেউ বোঝে না।

I love you like the wind,
Playing like a child in the sands,
Or a storm that no... ...বাকিটুকু পড়ুন

×