somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানুষ কি তাহলে অমরত্ব পেতে যাচ্ছে?

২৩ শে নভেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কথাটা প্রথম শুনেছিলাম মুহাম্মদ জাফর ইকবালের মুখে, সময় টিভির ‘সরাসরিঃ মুহাম্মদ জাফর ইকবাল’ অনুষ্ঠানে। তিনি বলেছিলেন মানুষের জরার জন্য দায়ী ক্রোমোসমের অভ্যন্তরে এক কোণায় থাকা নির্দিষ্ট একটি বস্তু যাকে বলে টেলোমার। মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই কণিকাগুলোর আকার ছোট হতে থাকে। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন একে নিয়ে। কোনভাবে যদি এর আকার হ্রাস পাওয়ার হার কমানো যায়, তবে মানুষ আরো বেশিদিন বাঁচবে।
একই কথা পড়লাম হুমায়ুন আহমেদের সর্বশেষ বই রঙপেন্সিল এ। তিনি লিখেছেন,
“এখন বলা হচ্ছে মৃত্যুঘড়ি বা মৃত্যুঘণ্টা বলে কিছু নেই। মানবদেহ অতি অসাধারণ এক যন্ত্র। যন্ত্রের দিকে খেয়াল রাখলেই জরা আমাদের গ্রাস করবে না। বায়োলজিস্টরা এখন বলছেন, জরার মূল কারন টেলোমারস কনিকাগুচ্ছ। এরা ডি এন এ র অংশ, থাকে ক্রমোসমের শেষ প্রান্তে। যখনই কোন জৈবকোষ ভাঙে, টেলমারের আকার ছোট হতে থাকে। যখন জৈবকোষে আর কোন টেলমার থাকে না, তখন শুরু হয় জরা। আমরা ধিরে ধীরে মৃত্যুর দিকে আগুতে থাকি।
বায়লজিস্টরা পরীক্ষা করেছেন ইঁদুর নিয়ে। তাদের দেয়া হল টেলমারেজ (telomerase) এনজাইম। দেখা গেল, তাদের জরা প্রক্রিয়াই যে বন্ধ হল তা না, তারা ফিরতে লাগল যৌবনের দিকে।
.....................................................................................................................................................................
তারপর, একী! সত্যি কি মৃত্যুকে ঠেকানো যাচ্ছে? আমার হাতে টাইম পত্রিকার একটি সংখ্যা (ফেব্রুয়ারি, ২০১১)। প্রচ্ছদ কাহিনীঃ 2045, the year man becomes immortal. প্রচ্ছদ কাহিনী পরে জানলাম ২০৪৫ সালে মানুষ অমর হয়ে যাচ্ছে। মানুষের হাতে আসছে নতুন নতুন টেকনোলজি। টেকনোলজির বৃদ্ধি ঘটছে এক্সপোনেনশিয়ালি। ২০৪৫ এর কাছকাছি সময়ে মানুষ সিঙ্গুলারিটি তে পৌঁছাবে। সিঙ্গুলারিটি শব্দটি এসেছে Astro physics থেকে। এর অর্থ এমন এক বিন্দু যেখানে পদার্থবিদ্যার সাধারণ সূত্র কাজ করবে না। এর মানেই অমরত্ব। ২০৪৫ সাল পর্যন্ত আমি এমনিই টিকছি না। অমরত্ব পাওয়া এই জীবনে আর হল না। পৃথিবীতে ফিনকি ফোটা জোছনা আসবে। শ্রাবণ মাসে টিনের চালে বৃষ্টির সেতার বাজবে। সেই অপূর্ব অলৌকিক সংগীত শনার জন্য আমি থাকব না। কোন মানে হয়?”



টেলোমারকে তুলনা করা হয় জুতার ফিতার শেষপ্রান্তে থাকা প্লাস্টিকের সাথে। কারণ এরা এক ক্রোমোসমের সাথে আরেক ক্রোমোসমের ধাক্কাধাক্কি আর একসাথে লেগে যাওয়ার প্রবণতা হ্রাস করে। টেলোমার না থাকলে ক্রোমোসমের এক প্রান্ত অন্য ক্রোমোসমের এক প্রান্তের সাথে মিলে যেত, ক্ষতি করত কোষের genetic blueprint এর। ফলে কোষের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যেত, ক্যান্সারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেত।
কিন্তু কোষ বিভাজনের সাথে সাথে টেলমারের দৈর্ঘ্যও ছোট হতে থাকে, যখন তারা বেশি ছোট হয়ে যায়, তখন অই কোষ আর বিভাজিত হতে পারে না। এর নির্মম পরিণতি ওই কোষের ‘মৃত্যু’। আর বৃহৎ অর্থে, ওই প্রাণী মৃত্যুর দিকে এগুতে থাকে টেলমারের ছোট হয়ে যাওয়ার কারণে।
টেলমারের দৈর্ঘ্য হ্রাস রোধ করা গেলে কোষের জীবনকাল বাড়বে, এবং স্বাভাবিকভাবেই প্রাণীর জীবনকালও বেড়ে যাবে।
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×