ভূবন নামে এক ছেলে-
আমার-ই গ্রামের
ভিন্ন পাড়ার ।
সহজ, সরল, কিছুটা সুস্মিতও
অন্তত আমার তো তাই মনে হয় ।
খুব ভাল সম্পর্ক না থাকলেও –
সে মনের কথা বলত আমায়, কিংবা সবাইকেই ।
সে বলেছিল,
সে মরে যাবে, আত্ম-হত্যা করবে সে ।
তার আগে চুকিয়ে দেবে
সকল দেনা ।
আমি বলেছিলাম কৌতুক ভেবে-
মরবেই যখন
এখনই
মরে যাও
চুকোবার কি আছে
মরে গেলে কে ধরবে ?
না ধরবেনা-
গাল দেবে ।বলেছিল সে ।
আমি বুঝতে পারিনি তার কথার
সামঞ্জস্যতা
আমার মতের সাথে না মেলার কারনে ।
বছরখানেক পরে-
আমি স্কুলে । শুনলাম
ভূবন মরেগেছে ।
ফাজলামি মনে হল ভূবনের নিজের
কথারই মত ।
বিশ্বাস হল;যখন দেখলাম-
তার মরদেহ ।
তার জন্য মনে জাগলো স্নেহ –
প্রকাশের উপায় নাই ।
লেখা-পড়া ছিলনা –
নাম টুকু লিখতে জানত শুধু ।
তাই কোন শেষ চিঠি পাওয়া যায়নি
বলে গেছে তবু
নিচু জাতের ছেলের সাথে তার বোন
পালিয়ে বিয়ে করেছে ।
তাই পরিবার তাকে ত্যাগ করেছিল,
মাতৃ স্নেহ তবু পারেনি ।
সেই অভিমানেই ভূবন মরেছে ।
চারি ধারে তার জয়গান
ছেলেটা ভাল ছিল ।
বুঝলাম তার কথার অর্থ
তার মনুষ্যত্ব ।
তখনই একদিন আমাদের পাড়ার
গন্য মান্য পুরহিতের
বানি শুনি ।
যে আত্ম হত্যা করে –
সে তো পাপি,
তাকে দেখলে চিতায় চড়ালে –
তার সমস্ত পাপ গছতে হয়
করতে হয় প্রাশ্চিত্য ।
তুমরা বামুনেরা যে –
ধর্মের নামে
খুন করে । আত্ম হত্যার নাম দিয়ে
সমাজে চালাও, তোমাদের প্রাশ্চিত্য –
কি হতে পারে ??
আমার এই প্রশ্নই আমায়
প্রথমবার
মানুষের মৃত্যুতে হাঁসিয়ে ছিল –
হাঁ! হাঁ! হাঁ!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



