somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের টিকেট বিক্রয়: বিসিবি সভাপতি এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রীর নিকট একটি আবেদন

০২ রা জানুয়ারি, ২০১১ রাত ১০:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাননীয় বিসিবি সভাপতি এবং মাননীয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী মহোদয়, আপনারা জানেন আমদের দেশের মানুষ ক্রিকেট পাগল, তারা ক্রিকেট দেখতে ভালোবাসে। তরুণ প্রজন্ম আরও একটু বেশী মাত্রায় ক্রিকেট উন্মত্ত। তরুণদের এই উন্মত্ততা আরও একটু ভিন্নমাত্রা পেয়েছে চলতি বছরের বিশ্বকাপ আয়োজনে ভারত ও শ্রীলংকার সাথে বাংলাদেশ অন্যতম আয়োজক দেশ হওয়ায়। ক্রিকেটের প্রতি এই যে উন্মত্ততা, এই যে ভালোবাসা, এই যে আবেগ তা আজ ছড়িয়ে পড়েছে ‍যুবক থেকে শিশু, শিশু থেকে বৃদ্ধ-সবার মাঝে, ছড়িয়ে পড়েছে পাড়া থেকে পাড়ায়, শহর থেকে গ্রামে, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে, ছড়িয়ে পড়েছে এক লক্ষ চুয়াল্লিশ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুরে।
বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজনের মতো এমন এক বিশাল এবং ঐতিহাসিক ঘটনার স্বাক্ষী হতে পারাটা যে কারো জন্যই ‌ একটা স্বপ্নিল ব্যাপার। তাই এদেশের ক্রিকেট পাগল আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সকলে একটা টিকেট চায় স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার জন্য, ইতিহাসের অংশ হওয়ার জন্য। তারা একটি টিকেটের জন্য উদগ্রীব, উন্মত্ত।

মাননীয় বিসিবি সভাপতি এবং মাননীয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী মহোদয়, আমরা জেনেছি, আয়োজক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আইসিসি’র কাছ থেকে মোট ১৫ হাজার টিকেট বিক্রয় করার অনুমতি পেয়েছে। আপনি যেমন জানেন এই ১৫ হাজার টিকেট চাহিদার তুলনায় ছিটেফোটাও নয়, তেমনি আমরা যারা সাধারণ ক্রিকেট অনুরাগী তারাও এটা বুঝি। তারপরও সকলেই একটা টিকেট পেতে ‍চাই। আপনি নিশ্চয়ই এই চাওয়াকে দোষারোপ করতে পারেন না।

মাননীয় বিসিবি সভাপতি এবং মাননীয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী মহোদয়, গত ২রা জানুয়ারি হতে আপনি সিটি ব্যংকের মাধ্যমে সারাদেশে প্রায় ৬০০ বুথের মাধ্যমে বিশ্বকাপের টিকেট বিক্রয় করার ব্যবস্থা নিয়েছেন। আর এই বিক্রয় প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে “আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে”। আপনি নিশ্চয়ই পত্রিকার পাতায় দেখেছেন যে কিভাবে ক্রিকেট পাগল তরুণরা রাতভর বুথের সামনে লাইন দিয়ে দাড়িয়ে থেকে টিকেট পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করেছে। আবার এমন অনেকেই আছে, যাদের একটা টিকেট পাওয়ার খুব ইচ্ছা আছে কিন্তু সারারাত লাইনে দাড়িয়ে, ক্লাশ মিস করে, অফিস মিস করে টিকেটের জন্য অপেক্ষা করার সময় ও সুযোগ নেই।

মাননীয় বিসিবি সভাপতি এবং মাননীয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী মহোদয়, যারা লাইনে দাড়িয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করছে তাদের ৫ শতাংশও টিকেট পাবে না এটাও নিশ্চয়ই আপনি বুঝেন। যাদের ভাগ্য ভালো তারা হয়তো ভাগ্যগুনে একটা টিকেট পেতে পারেন। সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করলে এটিকে ভাগ্যের পরীক্ষাই বলা যেতে পারে। তবে আপনি যে ভাগ্য পরীক্ষার আয়োজন করেছেন তা অসম। কারণ ইচ্ছা থাকলেও অনেকে লাইনে দাড়িয়ে নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করার সময় ও সুযোগ পাবেনা।

একটি আবেদন:

টিকেট বিক্রির এই পক্রিয়াটিকে পরিবর্তন করে লটারি ভিত্তিক করার জন্য আবেদন করছি। এক্ষেত্রে বিশ্বকাপের টিকেট পাওয়ার ভাগ্য পরীক্ষাটি সুষম হবে। সবাই সমান ভাবে অংশগ্রহন করতে পারবে। কোন প্রকার হুড়োহুড়ি করতে হবে না। রাতের পর রাত লাইনে দাড়িয়ে থাকতে হবে না, ক্লাশ মিস করতে হবে না, অফিস মিস করতে হবে না।
লটারি করার জন্য তিন ধরণের প্রযুক্তি বা ব্যবস্থা কে কাজে লাগানো যেতে পারে। সমগ্র লটারির প্রক্তিয়াটি হবে তিনটি ব্যবস্থার সমন্বয়ে।

১. মোবাইল ফোন: মোবাইল ফোন থেকে একটি নির্দিষ্ট নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে লটারিতে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। চার্জ হবে ২ টাকা। ফিরতি এসএমএস-এ আবেদনকারীকে একটা লটারি নম্বর দেওয়া হবে। এছাড়া তার মোবাইল ফোন নম্বরও রেকর্ড রাখা হবে।

২. অনলাইন: একটি ওয়েব সাইট খোলা হবে যাতে একটা ফর্ম দেওয়া থাকবে এবং সেই ফর্ম পূরণ করে লটারিতে অংশগ্রহণ করা যাবে। এক্ষেত্রে আবেদনকারীর ইমেইল ঠিকানায় একটি ফিরতি ইমেলে তার লটারি নম্বর পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

৩. সনাতন কাগজের লটারির টিকেট: কাগজের টিকেট ছাপানো হবে। মূল্য রাখা যেতে পারে ২ থেকে ৫ টাকা।

লটারি ‍অনুষ্ঠানের সময় সব লটারি নম্বর একটি ডেটাবেসে নিয়ে কম্পিউটার ভিত্তিক লটারি করা হবে। লটারীতে বিজয়ীরা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তাদের লটারির কাগজ, মোবাইল নম্বর, এবং ইমেইলে ‍পাঠানো লটারি নম্বরের প্রিন্ট দেখিয়ে ব্যংকের নির্দিষ্ট বুথ হতে তাদের টিকেট সংগ্রহ করবেন।

বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো আড়াই মাস সময় বাকি আছে। এখনই ব্যবস্থা নিলে ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে সমগ্র পক্রিয়াটি সম্পন্ন করা সম্ভব।

মাননীয় বিসিবি সভাপতি এবং মাননীয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী মহোদয়, আপনি জানেন বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো বিশাল ‍আয়োজনের টিকেটও লটারির মাধ্যমে বিক্রয় করা হয়ে থাকে। যদি এমন একটি ব্যবস্থা করা হয় তাহলে আগ্রহী সবাই টিকেটের জন্য আবেদন করতে পারবে এবং ভাগ্যই চূড়ান্ত করবে কারা গ্যলারিতে বসে খেলা দেখতে পারবে।
ক্রিকেট লাভিং জেনারেশনের কথা চিন্তা করে কি আপনারা এমন একটা ব্যবস্থা করতে পারেন না?

সকল ক্রিকেট প্রেমীদের পক্ষে,
একজন ক্রিকেট ভক্ত, আবু সালেহ সুমন
৭টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×