somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শার্টে নেই গুলির ছিদ্র, অথচ বুকে আঘাত! আবু সাঈদের মৃত্যু রহস্য কি তবে চিরকালই ধামাচাপা পড়ে থাকবে?"

১৭ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কাউকে মহিমান্বিত করতে গিয়ে যারা মিথ্যার আশ্রয় নেয়, তারা ভুলে যায় যে সত্যের আলোয় একদিন সব অন্ধকার কেটে যায়! ২০২৪ সালের সেই ঘটনার পেছনের আসল সত্যটা কি অবশেষে সবার সামনে চলে আসছে?
বন্ধুরা, আমরা সবাই জানি যে সত্যের আগমন ঘটলে মিথ্যার দেয়াল ভেঙে পড়তে বাধ্য। শাক দিয়ে মাছ ঢাকার দিন এখন শেষ, কারণ এটা অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগ। মানুষের চোখের ঘোর কাটতে এখন আর বেশি সময় লাগে না।

গতকাল আবু সাঈদের স্মরণ সভায় খোদ মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর মুখে যখন হতাশার সুর শোনা গেল—কেন মানুষের উপস্থিতি এতো কম—তখনই বোঝা গেছে যে সাধারণ মানুষ আসল সত্যটা বুঝতে শুরু করেছে। প্রতারণার দিন যে শেষ, এই শূন্য সভাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের সেই মর্মান্তিক মৃত্যু আজ দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এক বড় রহস্যের বেড়াজালে আটকে আছে। যে আন্দোলনের সুবিধাবাদীরা একে নিজেদের ব্যবসার হাতিয়ার বানিয়েছিল, তাদের সাজানো গল্পগুলো এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। আইনি অসংগতি, সাক্ষীদের বয়ানের অমিল আর মিডিয়ার ওপর চাপ—সবকিছু এখন একদম স্বচ্ছ!

সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্যকর ও পরস্পরবিরোধী তথ্যটি উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ স্বয়ং আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি থেকে। দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম 'প্রথম আলো' এবং 'বাংলাদেশ প্রতিদিন'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালতে প্রথম সাক্ষী হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতে আবু সাঈদের বাবা কান্নাভেজা কণ্ঠে স্পষ্ট জানান যে, গভীর রাতে যখন লাশ বাড়িতে এনে দাফনের জন্য গোসল করানো হচ্ছিল, তখন তিনি দেখতে পান—আবু সাঈদের মাথার পেছন থেকে অনবরত রক্ত ঝরছিল!
একই জবানবন্দিতে তিনি বুকে অসংখ্য গুলির চিহ্নের কথাও বলেন। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং ছবি-ভিডিওর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণে দেখা যায়, তার শরীরে থাকা কালো শার্টটিতে কোনো দৃশ্যমান গুলির ছিদ্রই ছিল না!

এখন বড় প্রশ্ন হলো—যদি রাবার বুলেটের আঘাতে বুকে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে থাকে, তবে কাপড়ে কোনো ছিদ্র রইল না কেন? আর মাথার পেছনের সেই গভীর ক্ষত ও রক্তক্ষরণের প্রকৃত রহস্যই বা কী, যা প্রথম দিকে প্রাতিষ্ঠানিক ভাষ্যে সম্পূর্ণ চেপে যাওয়া হয়েছিল? এমনকি পরবর্তীতে প্রধান প্রসিকিউটরের পক্ষ থেকে এই বক্তব্য নিয়ে এক ধরণের বিভ্রান্তি তৈরি করে গণমাধ্যমগুলোকে প্রতিবেদন সংশোধন করার প্রচ্ছন্ন চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে।

ফরেনসিক রিপোর্ট এবং আইনি প্রক্রিয়াতেও রয়েছে বিশাল ধোঁয়াশা। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বারবার প্রশ্ন তুলছেন, কেন রাবার বুলেটের কোনো টুকরো পরীক্ষা করা হলো না? অতীতে যেখানে অসংখ্য রাজনৈতিক কর্মী রাবার বুলেটের আঘাত নিয়ে দিব্যি বেঁচে ফিরেছেন, সেখানে আবু সাঈদের ক্ষেত্রে এই বুলেট কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে এমন প্রাণঘাতী হয়ে উঠল?

১৬ জুলাইকে সরকার যতই 'শহীদ দিবস' ঘোষণা করুক না কেন, সত্যের অপলাপ করে কোনো কিছুকে চিরকাল টিকিয়ে রাখা যায় না। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে গিয়ে একটি নির্মম মৃত্যুকে যেভাবে সাজানো হয়েছে এবং তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, তার সঠিক ও নিরপেক্ষ বিচার আজ সময়ের দাবি। বাংলাদেশের মানুষ আর কোনো রাজনৈতিক ফায়দার নাটক দেখতে চায় না, তারা প্রকৃত বিচার ও নিখাদ সত্য দেখতে চায়।
আপনার কী মনে হয়? গণমাধ্যমে প্রকাশিত বাবার এই জবানবন্দি, পোশাকে গুলির চিহ্নের অনুপস্থিতি এবং তদন্তের এই বিশাল ফাঁকফোকর কি কোনো বড় সত্য লুকিয়ে রাখার অপচেষ্টা? কমেন্টে আপনার মূল্যবান ও যৌক্তিক মতামত জানান।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৬
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সত্যকে স্বীকার করার সাহস কি আমাদের হারিয়ে যাচ্ছে?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

সত্যকে স্বীকার করার সাহস কি আমাদের হারিয়ে যাচ্ছে?

আমাদের দেশে এখন অদ্ভুত এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। আপনি কোনো দলের সমালোচনা করলে- আপনি সেই দলের শত্রু।
আপনি কোনো দলের একটি ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অংশ।
জুলাইয়ের পর- সেই পুলিশ কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×