
আলিপুরদুয়ারের আদিম ক্ষুদ্রতম উপজাতি হল টোটোরা । ভূটানের ছোট ছোট পাহাড়তলির গা ঘেঁষে নদী নালা পেরিয়ে এদের বাস । বর্তমানে ছিন্ন হয়ে আসা আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাট থানার অন্তর্গত টোটো গ্রামই হল বর্তমানে এদের বাস । জলদাপাড়া অভয়ারন্য থেকে সাত / আট কিমি গেলে এদের গ্রামটি দেখতে পাওয়া যাবে ।

হাউড়ি, কাংদুংতি, দাতিংতি দীপ্তি, চয়াতিং, নিতিংতি, জৈপ্তি, গোয়াতি, নামামতি, কিতিংতি, মুটি, উদিংতি, মোরমতি এই নদীগুলি আর পদুয়া , হিসপা, দাম্পি, দ্রপুংলাকা এই চারটি পাহাড় ঘিরে রেখেছে টোটো উপজাতিকে । কিন্তু পাহাড়ে বৃষ্টি মানে এরা বিচ্ছিন্ন বাদামি রঙের কালো চুলের উপজাতি । প্রচলিত ধারনা অনুযায়ী ভূটান - ব্রিটেন যুদ্ধের সময় বন্দুকে টোটা বয়ে নিয়ে যেত এরা । পরে গো মাংস ভক্ষনের জন্য সমস্যা হলে কোচবিহারের মহারাজা এদের তাড়িয়ে দেন । তখন থেকেই এরা বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করছে এবং টোটো নাম বহন করছে ।

এদের বিয়ের আচারটি একটু অন্যরকম । ছেলে মেয়েকে পছন্দ করলে ছেলের বাবা দুহাড়ি মিষ্ট জাতীয় বা ইউ আর একটি মুরগি নিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিতে মেয়ের বাড়ি যাবে । একে বলা হয় বাগদান । তবে বিয়ে এখানে দুপ্রকার । ছোট বয়সে বা সাত/ আট বছর বয়সে এই বাগদানের মাধ্যমে বিয়ে হয় । আর বড় বিয়ে হল কোনও মেয়েকে ছেলে তার বাড়ি নিয়ে যাবে । পরে গর্ভবতী হলে দুজনেই বিয়ের কথা বলবে । যাকে বলে নিয়াংকোষ । তবে এদের সমাজে কোনও পনপ্রথা বা ব্যাভিচারের নমুনা নেই। অনেকটা সাবলীল ও সংস্কারমুক্ত । উপজাতীয় প্রথা মেনে এরা মৃতদেহ সমাধীস্থ করে ।

আধুনিক শিক্ষা চালু হলেও এরা মনের দিক দিয়ে অনেকটা উদার । সমাজপতিরা বেশ কড়া । এরা খুব পরিশ্রমী । প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে এরা এগিয়ে চলেছে । যেকোনও বয়সে বাদিলনওয়া বা অন্নপ্রাশনে এরা বিশ্বাসী । এদের যৌনতা নিয়ে উদার মনোভাব এক অন্য স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে ।

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকার টোটোগ্রামকে পর্যটন মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করেছে । এখানে অনেকের বাড়িতে হোমস্টের ব্যবস্থা করায় জলদাপাড়া ঘুরতে গেলে খুব সহজেই ঢুঁ মারা যায় ভারতের অন্যতম একটি আদিম উপজাতিদের গ্রামকে ।
ছবি ও তথ্য - ক্রিডিট ২৪ ঘন্টা ওয়েভ পেজ।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০১৮ বিকাল ৩:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


