somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটা অসমাপ্ত জীবন

২৫ শে জুলাই, ২০১৪ সকাল ১০:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সুন্দর বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে তার সংসার জীবন শুরু। তখন মাত্র দ্বাদশ শ্রেণী অতিক্রম করেছে সেই ১৯৮১ সালের কথা। স্ত্রী মাত্র ক্লাশ ফাইভ পাশ। এখনও বাস্তবতাকে বুঝতে শিখেনি।বাড়িতে দুই মা মানে আব্বার দুই বিয়ে। এক দিক থেকে ভাল ছোট মায়ের কোন সন্তান বেচে নেই।ভাই বোনের মধ্যে সেই বড় তাই বিশাল সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত শিক্ষার গন্ডি দ্বাদশ শ্রেণী পেরুতে না পেরুতেই ঘারে সংসারের এক বিরাট বোঝা নিতে হল তাও একান্ত অনিচ্ছায়। যদিও তার মাঝে কিছু তাগিদ বা কামনা বাসনা দোলা দিচ্ছিল। কয়েক ঘর দুরে এক সুন্দরীর প্রেমে তার মনটা হাবুডুবু খাচ্ছিল। বারবার চিন্তায় আসছিল তাকে একান্ত আপন করে পা্ওয়ার। কোন ভাবে এটা আবছায়াভাবে আব্বার কাছে ধরা পড়ে যায় আর সেইটাই হল কাল। এক একান্ত কাছের না হলেও কিছুটা ঘনিষ্ট আত্মীয়ের মেয়ের সন্ধান পেয়েই ছেলেকে ধুমধাম করে বিয়ে দিয়ে দিল।এমনটি চায়নি বা যেভাবে চেয়েছিল সেভাবে পায়নি বলে মনের একটা অংশ সবসময় কেন জানি এটাকে সেভাবে গ্রহণ করতে পারিনি এইকারণে মনটা সবসময় ভারী হয়ে থাকত তবুও একান্ত বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে সেই ছোট্ট মেয়েটিকে বউ হিসেবে মেনে নিয়ে সংসার নামক উচু নিচু পথটাতে পাড়ি জমানো।

হয়তবা সংসারটা সুখের হত কিন্তু পরিবারটা এমনভাবে সাজানো ছিল সেখানে সুখ পাওয়াটা বড় কষ্ট। নিজের মাকে কেনা ভালবাসে? কিন্ত সেই মায়ের কিছু অন্যায় আবদার তো অযৌক্তিক মনে হলে তার প্রতি এই দিক থেকে কিছুটা হলেও ভক্তি কম থাকাটায় স্বাভাবিক, বিশেষ করে দাদীর অকৃতিম ভালবাসায় সে বড় হয়েছে তাই দাদীর প্রতি মায়ের অযৌক্তিক আচরণগুলো সে কখনও মেনে নিতে পারিনি তাই বলে মাকে সেটা বুঝতে দেয় নি এখানে তার বড় ধৈর্যের পরিচয় বলে সে মনে করে। তবু মার বিপক্ষে কিছু না বললেও পক্ষে না বলাতে মাকেও কিছুটা অসন্তুষ্ট বলে মনে হত। আবার ধর্মপরায়ণ বলে ভয়ও আছে মা অসন্তুষ্ট হলে পরকালের জবাবদিহিতার পাল্লাটা ভরী হয়ে যাবে।

সেই ছোট কাল থেকে দেখে আসছে মার সাথে দাদীর মুখ বলাবলি দা-কুড়ুল সম্পর্ক আবার মা-বাবার মধ্যে মন কষাকষি। এসব থেকে সর্বদা দুরে থাকার একটা উত্তম উপায় ছিল নানার বাড়ি। লেখাপড়ার অধিকাংশ সময়টা সেইখানে কেটেছে। যাই হোক আরও পরে আর একটা ঝামেলা বাপ সামনে নিয়ে আসল। সেটা হল তার দ্বিতীয় বিয়ে অর্থাৎ তার ছোট মা। আবার শুরু হল আরও বড় তিক্ততা। আগে ছিল মা দাদী ফাইট আর দাদী চলে যাওয়াতে সেই শুণ্য স্থান এখন পুরণ করল ছোট মা। সারাট দিন ঝগড়া আর তাদের দমনে বাপের নিষ্ঠুর হাতিয়ারের ব্যবহার কখনও সদ্য নামানো গরম ভাতের ফ্যান মায়ের পিঠের উপড়ে আবার মুগুড় দিয়ে ছোট মাকে পেটানো। এসব দেখতে দেখতে অধৈর্যের কিনারায় যখন দাড়িয়ে ঠিক তখনই ঘাড় চাপল ছোট্ট একটা আধো আধো বুঝতে শেখা একটি মেয়েকে বউ হিসেবে।

সম্পূর্ণ সংসারের সেট আপটা ভিন্ন রুপ নিতে শুরু করল। ছোট বোন আর মা একদিকে আর ছোট মা আর তার বউ আর এক দিকে। ছোট্ট বউটাকে সেভাবে মেনে নিতে না পারায় দাম্পত্য জীবনটা খুব একটা ভালভাবে কাটেনি।এইজন্য মনটা সবসময় ভারী হয়ে থাকত।

চাকরীর জীবনটা শুরু হয় শ্বশুরের লবিংয়ে তাদের বাড়ির পাশে একটি মাদ্রসায় জেনারেল টিচার হিসেবে।সাইকেল চালিয়ে ১৭ কিলোমিটার পথ আপডউন যাতায়াতটা কষ্টের হলেও নতুন সাংসারিক জীবনে একটা চাকরী আর মাসিক একটা বেতন খুব একটা খারাপ হয়নি আর এরকম কষ্ট করতে অবশ্য সে অভ্যস্থ ছিল আর তাছাড়াও দুপুরে শ্বশুরবাড়ির বিশ্রামটাও তাকে একটা এক্সট্রা সুবিধা দিত।(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুলাই, ২০১৪ সকাল ১০:৩৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×