সুন্দর বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে তার সংসার জীবন শুরু। তখন মাত্র দ্বাদশ শ্রেণী অতিক্রম করেছে সেই ১৯৮১ সালের কথা। স্ত্রী মাত্র ক্লাশ ফাইভ পাশ। এখনও বাস্তবতাকে বুঝতে শিখেনি।বাড়িতে দুই মা মানে আব্বার দুই বিয়ে। এক দিক থেকে ভাল ছোট মায়ের কোন সন্তান বেচে নেই।ভাই বোনের মধ্যে সেই বড় তাই বিশাল সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত শিক্ষার গন্ডি দ্বাদশ শ্রেণী পেরুতে না পেরুতেই ঘারে সংসারের এক বিরাট বোঝা নিতে হল তাও একান্ত অনিচ্ছায়। যদিও তার মাঝে কিছু তাগিদ বা কামনা বাসনা দোলা দিচ্ছিল। কয়েক ঘর দুরে এক সুন্দরীর প্রেমে তার মনটা হাবুডুবু খাচ্ছিল। বারবার চিন্তায় আসছিল তাকে একান্ত আপন করে পা্ওয়ার। কোন ভাবে এটা আবছায়াভাবে আব্বার কাছে ধরা পড়ে যায় আর সেইটাই হল কাল। এক একান্ত কাছের না হলেও কিছুটা ঘনিষ্ট আত্মীয়ের মেয়ের সন্ধান পেয়েই ছেলেকে ধুমধাম করে বিয়ে দিয়ে দিল।এমনটি চায়নি বা যেভাবে চেয়েছিল সেভাবে পায়নি বলে মনের একটা অংশ সবসময় কেন জানি এটাকে সেভাবে গ্রহণ করতে পারিনি এইকারণে মনটা সবসময় ভারী হয়ে থাকত তবুও একান্ত বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে সেই ছোট্ট মেয়েটিকে বউ হিসেবে মেনে নিয়ে সংসার নামক উচু নিচু পথটাতে পাড়ি জমানো।
হয়তবা সংসারটা সুখের হত কিন্তু পরিবারটা এমনভাবে সাজানো ছিল সেখানে সুখ পাওয়াটা বড় কষ্ট। নিজের মাকে কেনা ভালবাসে? কিন্ত সেই মায়ের কিছু অন্যায় আবদার তো অযৌক্তিক মনে হলে তার প্রতি এই দিক থেকে কিছুটা হলেও ভক্তি কম থাকাটায় স্বাভাবিক, বিশেষ করে দাদীর অকৃতিম ভালবাসায় সে বড় হয়েছে তাই দাদীর প্রতি মায়ের অযৌক্তিক আচরণগুলো সে কখনও মেনে নিতে পারিনি তাই বলে মাকে সেটা বুঝতে দেয় নি এখানে তার বড় ধৈর্যের পরিচয় বলে সে মনে করে। তবু মার বিপক্ষে কিছু না বললেও পক্ষে না বলাতে মাকেও কিছুটা অসন্তুষ্ট বলে মনে হত। আবার ধর্মপরায়ণ বলে ভয়ও আছে মা অসন্তুষ্ট হলে পরকালের জবাবদিহিতার পাল্লাটা ভরী হয়ে যাবে।
সেই ছোট কাল থেকে দেখে আসছে মার সাথে দাদীর মুখ বলাবলি দা-কুড়ুল সম্পর্ক আবার মা-বাবার মধ্যে মন কষাকষি। এসব থেকে সর্বদা দুরে থাকার একটা উত্তম উপায় ছিল নানার বাড়ি। লেখাপড়ার অধিকাংশ সময়টা সেইখানে কেটেছে। যাই হোক আরও পরে আর একটা ঝামেলা বাপ সামনে নিয়ে আসল। সেটা হল তার দ্বিতীয় বিয়ে অর্থাৎ তার ছোট মা। আবার শুরু হল আরও বড় তিক্ততা। আগে ছিল মা দাদী ফাইট আর দাদী চলে যাওয়াতে সেই শুণ্য স্থান এখন পুরণ করল ছোট মা। সারাট দিন ঝগড়া আর তাদের দমনে বাপের নিষ্ঠুর হাতিয়ারের ব্যবহার কখনও সদ্য নামানো গরম ভাতের ফ্যান মায়ের পিঠের উপড়ে আবার মুগুড় দিয়ে ছোট মাকে পেটানো। এসব দেখতে দেখতে অধৈর্যের কিনারায় যখন দাড়িয়ে ঠিক তখনই ঘাড় চাপল ছোট্ট একটা আধো আধো বুঝতে শেখা একটি মেয়েকে বউ হিসেবে।
সম্পূর্ণ সংসারের সেট আপটা ভিন্ন রুপ নিতে শুরু করল। ছোট বোন আর মা একদিকে আর ছোট মা আর তার বউ আর এক দিকে। ছোট্ট বউটাকে সেভাবে মেনে নিতে না পারায় দাম্পত্য জীবনটা খুব একটা ভালভাবে কাটেনি।এইজন্য মনটা সবসময় ভারী হয়ে থাকত।
চাকরীর জীবনটা শুরু হয় শ্বশুরের লবিংয়ে তাদের বাড়ির পাশে একটি মাদ্রসায় জেনারেল টিচার হিসেবে।সাইকেল চালিয়ে ১৭ কিলোমিটার পথ আপডউন যাতায়াতটা কষ্টের হলেও নতুন সাংসারিক জীবনে একটা চাকরী আর মাসিক একটা বেতন খুব একটা খারাপ হয়নি আর এরকম কষ্ট করতে অবশ্য সে অভ্যস্থ ছিল আর তাছাড়াও দুপুরে শ্বশুরবাড়ির বিশ্রামটাও তাকে একটা এক্সট্রা সুবিধা দিত।(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুলাই, ২০১৪ সকাল ১০:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



