যারা পাসপোর্ট বানাতে যান, তারা মোটামোটি পুলিশ ভেরিফিকেশন শব্দটা সম্পর্কে সবারই ভালোভাবে জানেন। কারো অভিজ্ঞতা তিক্ত, কারোটা ভালো। আমার দুই রকম এর অভিজ্ঞতাই আছে।
ছেলের জন্য পাসপোর্ট বানাতে দিলাম, পুলিশ আজকে আসবো, কালকে আসবে বলে ফোন দিচ্ছে। শেষে জানানো, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আসবে, সন্ধ্যায় ফোন দিলাম, জানালো আসতে দেরী হবে, শুক্রবার আসতে চায়। আমরা আবার শুক্রবার ঢাকার বাইরে যাবো, অবশেষে পুলিশ রাত পৌনে বারোটার সময় পুলিশ ফোন দিল, আপনার বাসার সামনের রাস্তায় আসেন।বাসার মানুষজন ভয়ে অস্হির, এত রাতে রাস্তায় যেতে বলছে কেন। তারপরও গেলাম, পুলিশ জানালো, কোন একটা দাওয়াত খেতে গেছে উনি, তাই দেরী হলো। সিড়ি বেয়ে বাসায় যাওয়ার ই্চ্ছে নাই, কোন রাখঢাক না রেখেই বললো, তাড়াতাড়ি টাকা বের করেন। আর ভেরিফিকেশন ফর্মে সিগনেচার দেন। ৫০০ টাকা দিলাম, নিতে চাইলো না। শেষে ৮০০ টাকায় রফা হল।
আবার আমার আম্মার জন্য পাসপোর্ট বানাতে গিয়ে পুলিশ বাসায় আসলো, আম্মার সিগনেচার নিল, তারপর বললো, আচ্ছা এইবার আসি।আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আর কিছু কি লাগবে, পুলিশ বললো, লাগবে না। চলে গেল।
আমার এক ভাগ্নের পুলিশ ভেরিফিকেশন এ আপার বাাসার কাছে পুলিশ এসে ফোন দিল, নিচে নামতে বললো। দুলাভাই বাসায় ছিল না, আমি গেলাম। আমার কাছ থেকে সিগনেচার নিল, তারপর বললো, মাগরিবের আজান দিচ্ছে, দেরী হয়ে যাচ্ছে, এই বলে চলে গেল।
ঘটনা শুনে দুলাভাই বেজায় রাগ করলো, বললো, উনি না চাইলেও তুমি ৫০০ টাকা দিতা, এখন যদি উনি কাগজ ঝুলিয়ে রাখে। আমি বললাম, উনি তো কোন টাকা চায় নাই। খামাকা টাকা দিব কেন? তারপরও দিতা, এত কষ্ট করে আসলো উনি। শেষ পর্যন্ত কোন সমস্যা ছাড়াই ভাগ্নে পাসপোর্ট পেল।
আমি যখন চাকুরীতে ঢুকলাম, তখন একবার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দরকার হল, পুলিশ বাসায় আসলো, তারপর নান গল্প করলো, চা নাস্তা করলো, শেষে বললো, একটু গাড়িভাড়ার খরচ দেন। আমি তো ভেবেছিলাম, আমি সরকারী চাকুরীতে ঢুকেছি, আমার কাছ থেকে পুলিশ টাকা দাবী করবে না। কিন্তু পুলিশ নাছোড়বান্দা। ৩০০ টাকা নিয়েছিল তখন।আমার মনে হয়, যারা পুলিশের চাকুরীতে ঢুকে, তাদেরও পুলিশ ভেরিফিকেশন এর জন্য টাকা দেওয়া লাগে।
তবে ভিন্নরকমও দেখেছি, আর একবার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দরকার হচ্ছিল। থানা থেকে ফোন দিল, যেতে বললো। নাম পরিচয় শুনে সব ঠিক করে দিল, কিন্তু কোন টাকা পয়সা চাইল না। অথচ একই জিনিস অন্য এক থানা থেকে নিতে আমার বোনকে ৫০০ টাকা দিতে হয়েছিল।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা মিশ্র। তবে ঢালাওভাবে সব পুলিশকে খারাপ বলতে রাজী না।
অন্য অভিজ্ঞতা:
গত ফেব্রুয়ারীতে বাসা থেকে বের হয়ে অফিসের দিকে যাচ্ছি, পথে একটা জায়গায় স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো একটা প্যাকেট দেখলাম। আর কিছুদুর গিয়ে কিছু টহল পুলিশকে বললাম, তারা তেমন একটা গা করলো না।
এর পরে দেখলাম মটর সাইকেলে আরেক পুলিশ যাচ্ছে, তাকে বললাম, সে দেখবো বলে চলে গেল।
২-৩ দিন পরে বাসায় ফিরছি, হঠাৎ এক পুলিশ ডাক দিল পিছন থেকে। পরে বুঝলাম মটর সাইকেলে চড়া পুলিশটাই।
বললো, ঐদিন যে প্যাকেট এর কথা আমি বলেছিলাম, সেটা উনি সরিয়েছেন।
ছোট একটা থ্যাংকু দিয়ে চলে আসলাম তারপর।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



