somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবনের বড় সারপ্রাইজ

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হঠাৎ পাশের ফ্লাট থেকে চিৎকার আর কান্নার শব্দ ভেসে আসতেছিল। কান্নার শব্দ শুনে মধ্যবয়সী নারীর কন্ঠ মনে হল। কান্নার শব্দগুলো এতোটাই হৃদয় বিদারক ছিল যে, ঘরে চুপ করে বসে থাকতে পারলাম না। রুম থেকে বেরিয়ে দেখি ইতোমধ্যেই বেশকিছু মানুষ জমা হয়েছে।

ভিড় ঢেলে ভিতরে প্রবেশ করে তেমন কিছুই বুঝতে পারলাম না। মাঝবয়সী এক নারী একটি বন্ধ দরজায় ডাকতেছে আর কাঁদতেছে। উৎসুক জনতার কাছে জানতে পারলাম, বন্ধ দরজাওয়ালা রুমটা নাকি মহিলার একমাত্র মেয়ের। মহিলা সকাল থেকে মেয়েকে ডাকতে ডাকতে এখন বেলা ১২টা বাজে, তারপরও দরজা খুলতেছে না। তাই এইভাবে কান্না করতেছিল। লোকজনের এমন নিশ্চিন্ত কথাশুনে কেমন জানি খুব খারাপ লাগল। তারপর লোকজনকে সরিয়ে দিয়ে সেই রুমের দরজায় পৌঁছে গেলাম।

দু’একজন কে সঙে নিয়ে দরজা ভাঙ্গার কাজ শুরু করলাম। সবাই মিলে কয়েকটা ধাক্কা দিতেই ম্যাড়াৎ শব্দ করে ধাস করে দরজা মেঝেতে আছড়ে পড়ল। রুমে ঢুকে দেখি নীল শাড়িপরা তরুনী উপুড় হয়ে পড়ে আছে। আর তার মুখ দিয়ে ক্রমাগত ফেনা বের হচ্ছিল। মেয়ের এই অবস্থা দেখে মা সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল। পাশের বাসায় মাকে ধরাধরি করে ফ্ল্যাটের অন্যান্য বাসিন্দারা নিয়ে গেল। আর আমরা মেয়েটিকে নিয়ে ছুটলাম হাসপাতালে।

হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে মেয়েটার আত্নহত্যার কারণ শুনলাম। মেয়েটার বাবা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। বাড়ি চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা এলাকায়। মেয়েকে নিয়ে ঢাকা শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকবার কারণ ঐ মেয়েই। আহসান উল্লাহতে আর্কিটেকচারে পড়তেছে। ভার্সিটিতে ভর্তি হবার দু’মাসের মধ্যেই ৫ টি প্রেমের অফার পায় নীল শাড়িতে ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে থাকা জেবা নামের হতভাগা মেয়েটি। সেই ৫ জনের একজনকে সে হ্যাও বলে দেয়। এভাবেই চলতেছিল তাদের প্রেম।


গতকাল ছিল ভ্যালেন্টাইন ডে। জেবার প্রেমের একবছর পূর্ণ হল। এই দিনে জেবাকে প্রপোজ করেছিল। তাই জেবার প্রেমিক বলে, ‘ কাল আমরা লং ড্রাইভে যাবো। আমার বন্ধুরাও ওদের গার্লফ্রেন্ড নিয়ে যাবে। আমরা হ্যাং আউট করব, চিল করব, মাস্তি করব।’
জেবাও রাজি। নিজের প্রিয় নীল শাড়ি এবং খোপায় বেলী ফুলের মালা দিয়ে জেবা বেরিয়ে পড়ে। জেবার প্রেমিক ওর সাঙ্গপাঙ্গসহ হাজির। কিন্তু ওদের কারো সাথে ওদের গার্লফ্রেন্ড নেই। জেবা জিজ্ঞেস করে, ‘তোমাদের গার্লফ্রেন্ড কই? ওরা যাবে না?’
জবাবে বলে, ‘ওরা সবাই সামনে আছে। চল আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে।’

এরপর গাড়ি চলতে থাকে। একটু পরপর জেবা বলতে লাগল, ‘কোথায় ওরা? আর কতদূরে’
জবাবে বলতেছিল, ‘এইতো সামনেই আছে।’
এরপর তারা গাজীপুরের অদূরে একটি বাগানবাড়িতে গাড়ি থামাল। জেবাকে বলল, ‘ভিতরে চল। সবাই তোমাকে সারপ্রাইজ দেবার জন্য অপেক্ষা করছে’...
জেবাও হাসতে হাসতে সেই বাড়িতে প্রবেশ করে।

এতোটুকু শোনার পর আমি বাসার পথে হাটতে শুরু করলাম। আকাশের চাঁদটা এখনো উঠতে অনেক বাকি। আকাশের ঐ আধো আলো আধো ছায়ার দিকে তাকিয়ে ভাবলাম, জেবার জন্য সত্যিই বিরাট এক সারপ্রাইজ অপেক্ষা করতেছিল। যে সারপ্রাইজ তাকে আত্নহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য করল......
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১১:৫০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতটা নির্লজ্জ বেহায়া ভিসি সারা দুনিয়াতে নেই-- ছি:

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০১

একটা মানুষ কতটা নির্লজ্জ হতে পারে, সেই সাথে ক্ষমতার+ টাকার+ সরকারী সুবিধাদী পাবার কাঙ্গাল হতে পারে, চুয়েটের ভিসি (Vice-Chancellor) কে না দেখলে জানতেই পারতাম না। এতদিন শুধু লোভী বলে বুবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×