জাতবন্ধু ব্রিটিশদের পরিশোধ করতে হবে, অস্ট্রেলিয়ানদের দিতে হবে, দিতে হবে আরও কাছের বন্ধুদেশের নাগরিকদেরও। তবে একমাত্র দিতে হবে না কানাডিয়ানদের। হ্যাঁ, আমেরিকা ভ্রমণে গেলে কানাডার নাগরিকদের আগের মতোই কোনো ফি দিতে হবে না। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আমেরিকা ভ্রমণে উৎসাহদানবিষয়ক আইন ‘আমেরিকা ট্রাভেল প্রোমোশন অ্যাক্ট’ স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে আমেরিকার সঙ্গে ‘ভিসা ওয়েভার মর্যাদা’ ভোগকারী ৩৬টি দেশের নাগরিকদের জন্য ‘কাম টু আমেরিকা’ প্রচারণার আওতায় ১০ ডলার করে ফি প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষায়, ‘বিশেষ সম্পর্কের কারণে শুধু কানাডিয়ানদের আমেরিকা প্রবেশের সময় এ ধরনের কোনো ফি দিতে হবে না।’
মার্কিন অভিবাসন দপ্তরের সূত্রমতে, ২০০ মিলিয়ন ডলারের ‘কাম টু আমেরিকা’ প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে- ৯/১১’র টুইন টাওয়ার হামলার পর আমেরিকা প্রবেশে ব্যাপক ঝক্কি-ঝামেলা ও হয়রানি হয়, এমন নেতিবাচক ভাবমূর্তি মুছে ফেলে আমেরিকা ভ্রমণে উৎসাহী করার জন্য বিশ্বব্যাপী প্রচারণা চালানো। এর জন্য মার্কিন ভ্রমণ কোম্পানিগুলো ১০০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করবে সরকারকে। আর বাকি অর্থ আসবে ‘ভিসা ওয়েভার মর্যাদা’ পাওয়া দেশের নাগরিকদের ১০ ডলার করে প্রদান করা অর্থ থেকে। এ কারণেই আমেরিকার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে বিবেচিত দেশগুলোর নাগরিকদের আমেরিকা প্রবেশের সময় এখন থেকে ফি প্রদান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে একমাত্র কানাডিয়ানরাই বিশেষ সুবিধা ভোগ করবে।
ইউএস ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জিওফ ফ্রিম্যান জানান, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও পূর্ব ইউরোপের অধিকাংশ দেশের নাগরিকদের আমেরিকা ভ্রমণে গেলে প্রবেশের সময় এই ফি দিতে হবে। ১/১১ ঘটনার পর অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে আমেরিকায় ভ্রমণকারীদের ঘুরতে আসা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমে যায়। এতে মার্কিন ভ্রমণ কোম্পানিগুলো ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়ে। সরকারেরও পর্যটন খাত থেকে অর্থ উপার্জন কমে যায়। জিওফ ফ্রিম্যান বলেন, ‘১/১১ ঘটনার পর মার্কিনিরা বাইরের দেশগুলো না যাওয়ায় তারা আমাদের মনোভাব বুঝতে পারে না। আমরা তাদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের অংশীদার হতে চাই। আমরা চাই লোকজন আমেরিকায় ঘুরতে আসুক। নতুন আইন এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাবে।’ কানাডিয়ানদের ফি-বিহীন প্রবেশ সুবিধা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নানা দিক দিয়ে কানাডা আমাদের কাছে আদর্শ। আমরা দেখেছি, কতটা অসাধারণ দক্ষতায় তারা ভ্যাঙ্কুভার অলিম্পিক সম্পন্ন করেছে। এটি আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে, সাফল্য পেতে হলে কীভাবে কাজ করতে হবে।’
কানাডার পরিসংখ্যান বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে ২০ দশমিক পাঁচ মিলিয়ন আমেরিকান কানাডা ভ্রমণ করেছে, যা ২০০৮ সালের ২২ দশমিক ছয় মিলিয়নের চেয়ে নয় দশমিক দুই শতাংশ কম।
সূত্র: এখানে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


