somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জান্নাতি বাসে ভ্রমন

৩০ শে এপ্রিল, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সকালে খুব তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে গেলাম।
আজ রবিবার।। রাস্তাঘাটে জ্যাম হবে তাই সময়ের আগেই রওনা হলাম।
দিনের পরিকল্পনা আগের দিন রাতেই সারা।
তাই রওনা হয়ে বাসস্ট্যান্ড যেতে তেমন কাঠখড় পোড়াতে হয় নি। বাসের জন্যও বেশি অপেক্ষা করতে হয় নি। এত তাড়াতাড়ি বাস পেয়ে যাবো ভাবতেই পারিনি।
গত কয়েক বছরে এমন সার্ভিস তো পাইনি। অন্তত আমার কপালে ছিলো না।

বাসে উঠতেই সিট ফাকা পেলাম। তবে জানালার পাশে না। তাই পাশের ভদ্রলোককে একটু বলতেই তিনি অতি উৎসাহে জানালার পাশের সিটটা আমাকে ছেড়ে দিলেন। আমার বউ তো টিভির রিমোট টা ছাড়তেও ১ ঘন্টা যুদ্ধ করে। আর এই লোক কিনা??
তার উৎসাহে প্রথমে খটকা লাগলেও পরে ভাবলাম দুনিয়াতে ভালো মানুষও আছে । নাহলে কেয়ামত কবে চলে আসত ?

রাস্তাটা আজ ফাকা! অন্যদিন যেখানে চাকা একপাক ঘুরতে তিনবার ব্রেক করা লাগত ,আজ সেখানে হরদম ছুটে চলছে। তাও যেন সুপারম্যানের গতিতে।
মনটা খুব ভালো । দিনটা যদি এরকম ভালো যায় তবে মন কারই বা খারাপ থাকে।
জানালার পাশের হালকা বাতাসে ঘুমু ঘুমু ভাব চলে এলো। ঘুমাতে আর আটকায় কে?
একটু পর কন্ট্রাক্টারের ডাকে ঘুম ভেংগে গেল।"মামা ভাড়া দেন, অই মামা ভাড়াটা হইছিল???" বিরক্ত হয়ে ভাড়াটা পরিশোধ করলাম।
প্রত্যেকদিন এই ভাড়া নিয়ে ৫ মিনিট ক্যাঞ্চাল করতে হয়। আজ কিছু না বলেই একটা তৃপ্তির হাসি দিল!!
হাসিটা আমার বিরক্তিকে দূরে সরিয়ে দিল।
এদের সাথে পথে কত ঝামেলা করি। বেচারা পয়সার জন্যই তো কাজ করছে।
নাহ! আজ থেকে আর কখনোও রিকশাওয়ালা কিংবা বাস কন্ট্রাক্টার দের সাথে দুর্ব্যবহার করব না।

সামনের সিটের ইয়ো ইয়ো স্টাইলের যেই ছেলেটা কানে খুঁটি পুঁতে মাথা দোলাচ্ছে,সেও এক মুরুব্বিকে সিট খান ছেরে দিল।
মহিলা সিটে কোনো পুরুষ বসেনি।ঊল্টো কতক যুবক তাদের সিট ছেড়ে মহিলাদের বসার ব্যবস্থা করে দিলেন।
এইরকম যদি সবাই ভালো মানুষ হত!! সবাই অন্যকে সাহায্য করত! তাহলে পৃথিবীটা সত্যিই জান্নাতে পরিনত হত।
এই বাসের ভিতরে যেমন এখন জান্নাতি ফ্লেভার পাওয়া যাচ্ছে। হয়ত কোনো একদিন পুরো পৃথিবী ছড়িয়ে যাবে।

আনমনে এসব ভাবতে ভাবতেই কখন যে গন্তব্যে পৌঁছে গেছি খেয়াল করিনি।
পাশের সেই ভদ্রলোকের ডাকেই হুশ ফিরল।( মাঝপথে একটু আধটু কথা হয়েছিল,তাতেই আমার গন্তব্য স্থল জানতে পেরেছেন)

ভদ্রলোককে ধন্যবাদ দিয়ে নেমে গেলাম।
জানালায় তাকিয়ে বিদায় অভ্যর্থনা জানাতেই হাসি মুখে গ্রহন করলেন।
মানুষকে খুশি করতে আসলেই টাকা পয়সার দরকার নেই। ভাল ব্যবহারই যথেষ্ট।
বাসটা চলে যাচ্ছে,আমি অনেক্ষন তাকিয়ে ছিলাম ওইদিকে।

ভাবতে ভাবতে মনে পড়ল আমি যার কাছে এসেছি তাকে ফোনটাই দেয়া হয় নি। আমাকে রিসিভ করতে আসার কথা তার। আমি ত কিছুই চিনি না।
পকেটে হাত দিয়েই বুজলাম কেস জন্ডিস। আমার অল্প দামি মোবাইল খানা আর আসার পথে এটিএম থেকে তোলা চকচকে নোট সমৃদ্ধ মানি ব্যাগের মামলা খালাস হয়ে গেসে। বিদ্যুৎ গতিতে প্যান্ট পকেট ব্যাগের পকেট সব চেক করে ফেললাম। নাহ ! লাভ হল না। যা হও্য়ার তাই হয়েছে।

কোনোমতে যাত্রী ছাউনিতে বসে পড়লাম। সকাল থেকে ঘটা সবকিছু মাথায় রিপ্লে করলাম।
কিন্তু এবার আর জন্নাতি ফ্লেভার না,যেন জাহান্নামের পচা গন্ধা ফ্লেভার আসছে।
সব শালারা এক একটা শুয়োরের জাত।
কন্ট্রাক্টারের হলুদ দাতগুলো বের করা হাসি দেখে যেন কোনো বীভৎস জানোয়ারও চমকে যাবে। ইয়ো ইয়ো শালাকে দেখলে যে কেউ বলে দিতে পারবে শালা জন্মসুত্রে গাঞ্জাখোর।
পাশের সিটের সেই সূফী ভদ্রলোক তো বড় হারামি। জানালার পাশে রোদ বলেই আমাকে ওইখানে বসাইছে।......শালা কুত্তা। হারামি। জানোয়ারের জাত।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মে, ২০১৭ বিকাল ৩:১৫
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×