somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী স্বৈরাচারী এরশাদের শাসনামল আর বর্তমানের নির্বাচিত সরকারের শাসনামল এর মধ্যে কতটা পার্থক্য তা একটু ভালো করে ভেবে দেখার সময় হইছে ।

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





এরশাদবিরোধী আন্দোলনে যারা জড়িত ছিলেন, যারা অংশ নিয়েছেন তারা সত্যই একটু 'বিপন্ন' সময় পার করছেন। তারা মানসিক পীড়ায় আছেন, আছেন যন্ত্রণায়। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিলো। বলা হয়েছিলো 'জনগণের ভোটের অধিকার' ফিরিয়ে দেয়ার কথা। ১৯৯১ সালে সে ধারা চালুও হয়েছিলো দারুণভাবে। কিন্তু ২০১৪ সালে তাতে বড় ধরণের যতি চিহ্ন টেনে দিয়েছে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের রহস্যময় দল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের বর্তমান নীতিই হচ্ছে 'সবার ওপরে ক্ষমতা সত্য'। শতকরা ৫ ভাগ ভোটারের অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এরশাদ তো স্বৈরাচার ছিলেন। ছিলেন ক্ষমতা জবর দখলকারী। কিন্তু তার সময়েও কি নির্বাচনে দেশে শতকরা ৫ ভাগ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন? তার আমলের সংসদে কোন রকম নির্বাচন ছাড়াই কি সংসদে যাওয়ার টিকেট পেয়েছিলেন ১৫৩জন? মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে এমন পরিহাস কি বাংলাদেশে আর কখনো হয়েছে? শেখ হাসিনা জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছেন এখন তাদের প্রবোধ দেয়ার চেষ্টা করছেন সেবা দিয়ে। এ দেশের একশ্রেণীর মানুষও এখন উন্নয়ন তত্ত্বে মজে গেছে। যদি উন্নয়নটাই হয় আমাদের একমাত্র আরাধ্য, যদি ভোটের কোন মূল্যই না থাকে কিংবা এর প্রয়োজনটাও না থাকে তাহলে বলা যায় এরশাদই এ দেশের সেরা শাসক। বাংলাদেশের উন্নয়নের যে কাঠামো তা এরশাদের আমলেই হয়েছে। দেশকে ৬৪টি জেলা করা, উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তন করা, ছয়টি বড় শহরে হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন, বুড়িগঙ্গা সেতু, মেঘনা গোমতিসেতুসহ বড় বড় সেতু হয়েছে, দেশের গ্রামাঞ্চলে সড়কের বিস্তার এসব তো এরশাদের আমলেই হয়েছে। যদি উন্নয়নটাই আমাদের কাছে সবচে' বড় বিষয় হয়ে থাকে তাহলে উন্নয়নের বিচারে এরশাদ হাসিনার চেয়ে এগিয়ে আর গণতন্ত্রের বিচারেও শেখ হাসিনা এমনকি এরশাদের চেয়েও পিছিয়ে থাকবেন।

এদেশের মানুষ কখনো সৈরাচারিতা, একদলীয় শাসন, জোর জবরদসতি মেনে নেয়নি। প্রকৃতিগত কারনেই মেনে নেয় না কারন এদেশ একমাএ সিক্স সিজনের বৈচিএপুর্ণ দেশ, এদেশের মানুষের কাছে ভোট মানে উৎসব যেখানে অন্য দেশে ৬০% ভোটার পাওয়া কষটের ব্যাপার সেখানে এদেশে ৮৫% ভটার ভোট দিতে লাইনে দাড়ায়। এদেশে একদলীয় শাসন কায়েম করা পৃথিবীর কয়েকটা দুরূহ কাজের মধ্যে একটি।


মোট কথা.>>>>>>>>>

"ধর্ম কিংবা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সুবিধামাফিক ব্যাখ্যা দিয়ে, মনগড়া ইতিহাসচর্চায় নিয়োজিত করে, বিভিন্ন অবৈধ বা অনৈতিক সুবিধা বিতরণ করে, রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানের ভীতিকর ব্যবহার করে ক্রমান্বয়ে মানুষের প্রতিবাদ করার নৈতিকতা, সাহস ও উদ্যমকে বিপর্যস্ত করা হয়েছে এরশাদ-উত্তর যুগে।" "এরশাদ-উত্তর যুগ"" বলে অন্ধকার এই সময়টাকে ২৫ বছর প্রলম্বিত করার কোন কারন দেখি না। ২০১৩ - চলমান, এই সময়টাই স্বাধীনতা উত্তর সবচেয়ে অন্ধকার যুগ। ৫০ বছর পর ইতিহাসে বর্তমান সময়ের মুল্যায়নে এরশাদের যুগ কে শতগুন ভাল ছিল বলে যদি উপলব্দি আসে তাহলে ৯০ এর আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছিল স্বর্গে তাদের লজ্জা রাখার স্থান হবে না।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:০৭
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাধীনতা বলতে আপনি কি বুঝেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৩


২০২৩ সালের কথা। আমরা কয়েকজন মিলে অনলাইনে একজন ইংরেজি স্যারের কাছে কোর্সে ভর্তি হয়েছিলাম। একদিন ক্লাস চলছে, স্যার হঠাৎ বই থেকে মুখ তুলে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা ছোটবেলায় যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৪

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১৪



বিশেষ দিন গুলো শাহেদ জামালের জন্য কষ্টকর।
যেমন ইদের দিন শাহেদ কোথায় যাবে? কার কাছে যাবে? তার তো কেউ নেই। এমনকি বন্ধুবান্ধবও নেই। তার এমন'ই পোড়া কপাল মেসেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই যে জীবন

লিখেছেন সামিয়া, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই যে আমার জীবনে কিছুই করা হলোনা, সেটা নিয়ে এখন আর খুব বড় কোনো আফসোস করি না। জীবন আসলে নিজের মতোই চলতে থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠি, রান্নাঘরে গিয়ে চায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×