আমরা অতীত নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করি, বর্তমান নিয়ে হাউকাউ করি এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভবিষ্যত সম্পকে কোন ভাবনা থাকে না । আমরা কাঠামো নিয়ে ব্যস্ত কিন্তু বিষয়বস্তু নিয়ে নয় । ছুতো খুজতে আমরা সেরা, যেন নিজের দোষ কোনদিনই হবার নয়।
আমরা খুব গর্বিত জাতি কিন্তু একটু বেশিই গর্ব করি । আমরা প্রায়শই মনে করি যে আমরা যা করি বা ভাবি তা পৃথিবী সেরা । অবশ্য জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা বেশ আনডিসিপ্লিনড । রাস্তার দিকে তাকালেই এটা বোঝা যায় । যে যেভাবে পারছে সে সেভাবেই চলছে, নিয়ম নীতির বালাই নেই। আমাদের সময় জ্ঞান পৃথিবীর অন্যান্য জাতি থেকে একটু ভিন্ন । দেরী করে যাওয়াটা হচ্ছে নিজের গুরুত্ব বাড়ানো । আমরা কখনই অ্যাপয়েন্টমেন্ট ঘড়ি ধরে করি না, বলি ধরেন চারটার দিকে যাব ।
প্রতিটি বিষয়েই মতামত দেয়া আমাদের স্বভাব। আমরা নিজেদের সবচেয়ে বেশী জানা ও এক্সপিরিয়েনসড লোক হিসাবে ভাবি । অপরকে যে কোন রোগের অষুধ বাৎলে দিতে আমরা সিদ্ধহস্ত । সচরাচর আমরা খুব উচ্চকনঠ। পাশের লোক বা প্রতিবেশীর ব্যাঘাত সৃস্টি করছি কিনা এই বোধ আমাদের নেই । আমরা অপরের মতামত শুনতে চাইনা । একটি মতে থাকতেই আমরা স্বাচ্ছন্দ বোধ করি, সেটা হচ্ছে নিজের মত ।
এত ভাল হিউমান রিসোর্স থাকার পরও আমরা এত হতাশ কেন? আসলে জাতি হিসাবে সবার কাছে গ্রহনীয় হবার জন্যে আমাদের পজিটিভলি চিন্তা করতে হবে । আমাদের স্বভাব দিয়ে ঢেকে না দিলে দেশের অনেক কিছু নিয়েই গর্ব করার আছে । আমাদের সব দোষগুনগুলোকে যদি একটি উদ্দেশ্যই ব্যবহার করি, তা হলো ব্যক্তিকে প্রাধান্য না দিয়ে দেশকে প্রমোট করা তাহলে কিন্তু এই স্বভাবের পরিবর্তন আনা সম্ভব ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


