somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলা একাডেমীর 'স্মৃতি: 1971' সিরিজ 4র্থ খন্ড থেকে উদ্ধৃতি

২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৫:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"পাকিস্তানীরা আমাদেরকে বলে, আমরা হিন্দু জারজ সন্তান, নিজেদের মুসলমান বলার কোন অধিকার নাকি আমাদের নাই। রাগ হলে আমাদের বাঙালী কুত্তা, গাদ্দার বলে ডাকে। এই রকম নানা প্রতিকুলতার মধ্যে দিয়ে বাঙালীদের কাজ করতে হতো। বাঙালীরা ভালো কাজ করে সুনাম ও প্রমোশন পাক এটা পাকিসতানিরা সহজে চাইত না । বাঙালী অফিসারকে ডিঙিয়ে তাদের প্রমোশন হতো । এইভাবেই বাঙালী অফিসার, সেপাহীদের মনে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে।

মোয়াজ্জেমকে অনেকেই পরামর্শ দিয়েছিলেন ভারত পালিয়ে যেতে। শুনে ভীষন রেগে গিয়েছিলেন, ভারতে আমি যাব না, ভারতের কাউকে বাংলার মাটিতে আসতেও দেব না। তাছাড়া মরতেই যদি হয় নিজের দেশের মাটিতে নিজের মানুষের সাথেই মরব ।

'বোল পাকিস্তান জিন্দাবাদ' মোয়াজ্জেমের উপর পাচটি রাইফেল টার্গেট করে বলে। বীরদর্পে উনি তর্জনী উচিয়ে বলেছিলেন 'এক দফা জিন্দাবাদ' । কারন তার দফা একটাই 'বাংলাদেশ স্বাধীন করা'। গর্জে উঠল একসাথে 5টি রাইফেল। পড়ে গেলেন মাটিতে। সেখান থেকেই আবার বললেন 'এক দফা জিন্দাবাদ'।"

- কোহিনুর হোসেন, সা্বামী, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন (তথাকথিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার দ্বিতীয় অভিযুক্ত) প্রসঙে।

"তোমার ছেলে মুক্তি? শান্ত কন্ঠে অধ্যাপক বলেন আমার ছেলে এখন সৈনিক। দেশ স্বাধীন করতে গেছে। কথা শেষ হবার আগেই গুলি। আহত হয়ে অধ্যাপক আহমেদ বলেন আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাও। ক্রুদ্ধ সৈন্যরা তখন তার জিহ্বা কেটে দেয়, বেয়নেট দিয়ে খোচাতে খোচাতে হত্যা করে। "

- নিবেদিতা দাশ পুরকায়স্থ, শিক্ষক ডা: শামসুদ্দিন আহমেদ স্মৃতিচারণে

"মওলানা কসিমুদ্দিন ছিলেন অসামপ্রদায়িক । তাকে 71 সালে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন সাথিয়া এলাকার জনৈক জামাত কর্মী।"

- জিয়া হায়দার, শিক্ষক মওলানা কসিমুদ্দিন আহমেদ প্রসঙে

"যাদের রক্ত দিয়ে এই স্বাধীনতা গড়া, আজ পর্যন্ত তার কতটুকু মুল্যায়ন হয়েছে? কি কৈফিয়ত দেবে এই দেশবাসী শহীদদের সন্তানের কাছে? তাদের পিতার রক্তের মুল্য কি?"

- রহীমা খাতুন, স্বামী পেশাজীবি আমিনুল ইসলাম প্রসঙে।

"28শে এপ্রিলের রাজশাহীগামী কোচ ধরা পড়ল মিরপুরের বিহারীদের হাতে। ওটাতেই আমার মেঝভাই ছিলেন। এইটুকুই তার হারিয়ে যাওয়ার খবর। আমার ভীরু ভাইটিকে কে বা কারা, কোথায়, কি ভাবে মারে, আমরা তা জানতে পারিনি।"

- ফজলুন্নেসা নার্গিস, ভাই প্রকৌশলী আবু সালেহ মো: এরশাদুল্লাহ প্রসঙে।

"নিহত শত শত বীর সন্তানদের নাম ও ঠিকানা পাওয়া যাবে না। তাই আমার ধারনা। যুদ্ধে তো অনেকেই শহীদ হলো এখানেও রাজনীতি। যখন যে চেয়ারে বসেন শুধু সে তার পক্ষের লোক নিয়ে ইতিহাস রচনা করেন এবং তার দলের লোকের নাম লিপিবদ্ধ করেন ইতিহাসের পাতায়। এইভাবেই প্রতিযোগিতা চলছে ইতিহাসের পাতা দখল নিয়ে। সেখানেও চর দখলের মত যুদ্ধ হচ্ছে অহরহ। এরই মাঝে স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতকরা গুছিয়ে নিয়েছে তাদের আখের ও সামাজিক স্বীকৃতি। আর আমরা দর্শক এই নাটকের মনচে দাড়িয়ে আছি।

পুর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির শহীদ বিপ্লবী প্রকৌশলী সিরাজ সিকদার এর বড় ভাই বলেই স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত শহীদ প্রকৌশলী বাদশা আলম শিকদার এর গর্বিত বাবা মাকে কোনদিনও প্রচার মাধ্যমে ডাকা হয় নাই এমনকি তার নামটাও উচ্চারন করা হয় নাই।

পাক আর্মিরা আমার বাবাকে ধরে নিয়ে গিয়ে জিগ্গেস করেছিল কোথায় তোমার সন্তানেরা। বাঙালীরাতো সবাই হিন্দু, তোমরা মুসলমান হয়ে কেন হিন্দুদের সাথে যোগ দিয়েছ? তোমরা হাত দিয়ে কেন খাও, এটাতো হিন্দুরা করে, তোমরা কাটা চামচ দিয়ে খেতে পারনা?"

- ভাস্কর শিল্পী শামীম শিকদার, ভাই প্রকৌশলী বাদশা আলম শিকদার স্মৃতিচারণে
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ঢাকায়, রাষ্ট্র ঘুমায়

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩২

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে অনেক কিছু নতুন হইছে। নতুন সরকার, নতুন মুখ, নতুন বুলি। কিন্তু একটা জিনিস খুব চুপচাপ, খুব সাবধানে নতুন হইতেছে, যেইটা নিয়া কেউ গলা ফাটাইতেছে না। তালেবানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

image upload problem

বাংলাদেশে একসময় খুব জনপ্রিয় একটা পরিচয়-“আমি সুশীল”, “আমি নিরপেক্ষ”, “আমি কোনো দলের না”। এই পরিচয় ছিল আরামদায়ক, নিরাপদ, সম্মানজনক। এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়ন রোডম্যাপ: একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র রূপরেখা : পর্ব -১ ও ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১


প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।

বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।

সবুজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×