মাথায় মাঝে মাঝে খুব মানবতাবাদী দার্শনিক টাইপের চিন্তা-ভাবনা ভর করে। এখন হাসপাতালে বসে বসে মানুষ দেখছি আর ভাবছি আহারে মানুষের মনে কত দুঃখ, কারো মুখে হাসি নেই। দুঃখময় পরিবেশে আমার মনটাও দুঃখময় হয়ে উঠল। পাশে রাকিব ভাই আর নূরুল্লাহ বসে আছে। ভাবলাম ওদের সাথে চিন্তাগুলো শেয়ার করি। নূরুল্লাহ কে ডাক দিতে যাব তখনই মানবিক চিন্তা-ভাবনা গুলোর অসারতা ধরা প়ড়ল। নিজের বোকামিতে নিজেই হাসলাম। অনেক্ষণ ধরে লক্ষ করছি একটা লোক একটু পরে পরে আমার দিকে তাকাচ্ছে। মনে হচ্ছিল কথা বলার সুযোগ খুজছে। মনে হয় সুযোগ পেয়ে গেছে। হয়ত এখনই বলে উঠবে ভাই হাসছেন কেন, এটা কি হাসার জায়গা? আমি বাঙ্গালীর ত্যাজ নিয়ে বলব এটা তোর বাপের জায়গা, আমি হাসব না কাঁদব তোর বাপেের কি? না, এসবের কিছুই হল না। ঐ লোক কিছুই বলল না। একটু দূরে বসা কমপ্লিট স্যুট পড়া একটা লোক হাতের ইশারায় কাছে ডাকল। কাছে যেতেই বুঝলাম আজকে হাসি আমার বিপদের কারন হয়ে দাড়িয়েছে। ঐ লোকটা আসলে পুলিশের গোয়েন্দ অফিসার। কয়েক দিন আগে ইসতাম্বুল আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়। সন্দেহভাজন বোমা হামলাকারী হিসেবে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। আমার চেহারা কি জঙ্গিদের মত? জঙ্গি দেখতে কেমন কে জানে।
জিজ্ঞাসাবাদ করছে এমন সময় আবার হাসির শব্দ শুনতে পেলাম। তাকিয়ে দেখি দুইটা মেয়ে আমার অসহায় অবস্থার দিকে তাকিয়ে খিলখিলিয়ে হাসছে। হাসিটা পৃথিবীর মধুরতম হাসি হতে পারত। কন্তু আমার মনে চাচ্ছে কষিয়ে একটা চড় লাগায়।

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ২:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



