somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

..::ছোটগল্প::..অপেক্ষা, একটি ফোনকলের!

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সময় বয়ে যায়।

অপেক্ষা করে মিলি। যতই অপেক্ষা করে ততই নীরব থাকে হতচ্ছাড়া ফোনটা। ঘড়িটা টিক টিক করে চলেছে। এবার মিলির মনটা খারাপ হবার এভারেস্টে উঠতে থাকে। কেন কিছুই ভালো লাগেনা?

একবার ভাবে ফোনটা তুলে নিয়ে তাকে ফোন করবে। আবার চিন্তা করে, নাহ, এসময় যদি সে খেতে বসে, বা ল্যাবে থাকে। কিংবা রোডে গাড়িও তো চালাতে থাকতে পারে। থাক, এসময়ে কখনোই ফোন করেনি মিলি। যে জীবনটা একেবারে ঘড়ির কাঁটার দমে দমে চলতে চলতে দম ফেলবার ফুরসত পায়না, সেখানে তার এই হঠাৎ ফোনকল হয়ত সেই জীবনটার ছন্দ কেটে দেবে, বিরক্তি সৃষ্টি করবে।

ইজিচেয়ারে হেলান দিয়ে টিভির পর্দায় চোখ রাখে মিলি। খবরের চ্যানেল পাল্টে পাশের চ্যানেলে যায়। এক মাল্টিস্টোরিড শপিং সেন্টারের বিজ্ঞাপন হচ্ছে। অসহ্য লাগে তার। ঝলমলে সব কিছুই আজ তার অসহ্য লাগে। আবারো চ্যানেল পাল্টায়। এবার এখানে এক বিখ্যাত শেফ কী সব নারকেল দিয়ে শাকপাতা রান্না করে দেখাচ্ছে। হাস্যকর!

সে কি ফোন করেই দেখবে? আচ্ছা, এমন যদি হয়, মিলিও ফোন করলো, আর ওদিকে সেও ফোন করে বসলো, তখন তখন? লাইন পাবেনা তো।

রীতিমত বিরক্ত লাগে তার এ ধরনের চিন্তা মাথায় আসায়। ধ্যাৎ, কোথায় ও? সব কিছু চুলোয় যাক, কার কি? তার কোনকিছুতেই কিছু এসে যায়না, কিসসু না।

চাঁদটাকে কেমন যেন বেখাপ্পা দেখায়, যেন এমন সন্ধ্যেবেলা এভাবে তার উঠে আসাটা ঠিক হয়নি। আজ গরমটা একটু কম। খোলা জানালা দিয়ে ঠাণ্ডা বাতাস আসছে মাঝে মাঝেই। কোথাও কি বৃষ্টি হয়েছে? কেমন যেন একটা সোঁদা সোঁদা গন্ধ। হবে হয়তো।

চেয়ার ছেড়ে ড্রেসিং টেবলের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় মিলি। মাথার ব্যান্ডটা খুলে লম্বা চুলগুলো ছেড়ে দেয়। আনমনে চিরুনি চালাতে থাকে। চিরুনিটা টেবলের ওপর রাখতেই খোলা জানালার পর্দা উড়িয়ে এক বাতাস এসে তার চুলগুলোকে এলো করে দিয়ে যায়। চোখ ঢেকে যাওয়া চুল সরাতেই চোখ পড়ে আয়নার দিকে, নিজের দিকে। মুহূর্তেই স্মৃতি তাকে উড়িয়ে নিয়ে যায় সেই স্টিকি ফিংগারস এর দিনগুলোতে। এখন সেখানে ইবনে সীনার এক সুবিশাল বিল্ডিং, সেদিন দেখেছে সে। সেই তুমুল ঝড়ের রাতে রিকশাতে বসে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে দু'জনে মিলে স্টিকি ফিংগারসে আশ্রয় নেয়া আর মোমের আলোতে বাজিতে হেরে তাকে দেয়া প্রথম চুম্বন--সব মনে পড়ে যায়, যেন আয়নার ঐ প্রতিবিম্বে সে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে, প্রতিটি মুহূর্ত, ক্ষণ। মনটা ভালো হয়ে যেতে থাকে মিলির।

নাহ,আর না। ঠিক করে ফেলে সে। এক ঝটকায় আনন্দআলোর কপিটা বিছানাতে ছুঁড়ে ফেলে ফোনটা হাতে নিয়ে ডায়াল করে বসে একটি নাম্বারে।

একবার, দুবার, তিনবার--পায়না মিলি। প্রতিবারই এক দুর্বোধ্য ভাষায় ওপাশে এক মহিলা কর্কশ স্বরে তাকে কী যেন বলছে, যার অর্থ মিলি সহজেই ধরে নিতে পারে, "এই মুহূর্তে মোবাইল সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। অনুগ্রহপূর্বক আবার চেষ্টা করুন"।

অপেক্ষার প্রহরটা আরো বাড়লো তার।

মিলির অপেক্ষার এই পালা ফুরোতো যদি সে জানতে পারতো ঐ মুহূর্তে হাজার মাইল দূরে কালদোনাজ্জো লেকের পাশ দিয়ে ছুটে চলা হাইওয়েতে উল্টে থাকা গাড়ির চাকার ঘূর্ণন, পুলিশের গাড়ি আর এম্বুলেন্সের সাইরেনের শব্দ, চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাওয়া গাড়ির কাঁচের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে থাকা নিশ্চল হাত আর তার পাশে পড়ে থাকা মোবাইলের টাচস্ক্রিনটা রক্তের আঁচড়ে চিরদিনের জন্যে স্তব্ধ হয়ে গেছে!
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:২৫
৩৮টি মন্তব্য ৩৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×