somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জনদরদী

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গলির মোড়ের রজবের চায়ের দোকানে প্রায় ধপাস করে বসি। প্রতিদিন এই সময় মানে সাজের বেলা তার দোকানে বসে পায়ের ওপর পা তুলে এক কাপ চা না খেলে রাতের পড়া হারাম হয়ে যায়।

আজ চা খাওয়া হবে ঠিক তবে পায়ের ওপর পা তুলা হবে না। কারণ রজবের টি-স্টলের প্রায় সিংহভাগ দখল করে বসে আছেন পাড়ার দুই বড় ভাই, পটল ভাই আর মোহন দা।

আমার মনটা পুরাই খারাপ হয়ে গেল। আল্লাহর দুনিয়ায় বহু আকামের বাদশা দেখেছি, কিন্তু এরা তাদের থেকেও দু’চামুচ অ্যাডভান্স। কোনো কাজ কাম নাই, ফাউল বিষয়াদি নিয়ে সারাদিন ঝগড়া করে। কোনো বিষয়ে তারা এক হতে পারে না। একজন হ্যা বললে অন্যজন মুখের ওপর না করে বসে।

আমি চিপার দিকে একটা চেয়ারে বসি। বসতেই ঠের পাই চেয়ার বাবাজির শরির-সাস্থ ভালো না। যে কোনো সময় ইন্তেকাল ফরমাইতে পারেন।

পঠল ভাই বিশেষজ্ঞের মতো কয়েকবার মাথা ঝাকাতে ঝাকাতে বললেন, তোর কী মনে হয়, ওই যারা গান গায়, কি যেন বলে সিঙ্গার। তারা কি জন্যে এত দুঃখ কষ্টের গান গায়? তারা কি সত্যিই এতটা দুঃখি?

মোহন দা ঠোঁট দুটো দুদিকে মেলে ধরে বলল, তুই এইটা কি বললি? বাংলাদেশের দুই শ্রেণির লোক সোনার চামুচ মুখে ‍দিয়ে জন্মায় এর মধ্যে এক শ্রেণি হল, রাজনীতিবীদের পুলা-মাইয়া, আর আরেক শ্রেণি হল, শিল্পী মানে গায়ক-গায়িকা, অভিনেতা-অভিনেত্রী।
=তাহলে এরা এই গানগুলো গায় কি জন্যে?

=তোর কি ধারণা, এরা নিজেদের প্রেম-ভালবাসায় ছ্যাকা খেয়ে তারপর দুঃখ-কষ্টের গান গায়?

=হ্যা, আমার তো সেইটাই মনে হয়।

=তাহলে তুই বোকার স্বর্গে বসে আছিস। শুধু বসে না, একেবারে কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছ। স্বর্গে তো আবার ভুখ বলে কিছু নাই!

পঠল ভাই মুখ কটমট করে বললেন, তুই দেখি একেবারে ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হয়ে গেছিস! ইহকাল পরকাল সব খবরা খবর রাখস।

=আরে শুন, আজ কিন্তু প্রতিজ্ঞা করেছি, কোনো ঝগড়া-ফ্যাসাদ করব না। সো, কোনো বাড়াবাড়ি না।

=তাহলে সহজে ব্যাপারটা বলছিস না কেন? জল ঘোলা করছিস কেন?

=শোন, আমাদের দেশে যারা রাজনীতি করে এবং যারা গান গায়, তারা কিন্তু জনদরদি। রাজনীতিবীদরা স্কুল বানায়, কলেজ বানায়, ভার্সিটি বানায় অথচ তাদের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া শিখে মানুষ হবার জন্যে বিদেশ যায়। এখন তুই বলতে পারিস, তাহলে এগুলো কেন? এইটার সহজ-সরল আনসার, তারা নিজেদের জন্যে কিছু করে না। জনগনের কথা মাথায় রেখে এগুলো করে।
তেমনি তুই দেখিস, শিল্পীরা পাঁচ-দশটা মেয়ে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। কয়েকদিন পর পর প্রেমিকা পাল্টায়, বিয়ে করে, কিছুদিন সংসার করে, এইটাকে ত্যাগ করে আরেকটার পিছু নেয়। কতকিছু করে। বলতে পারিস, তারা অল-টাইম সুখের বেলায় ভাসতে থাকে। এখন প্রশ্ন করবে, এত দুঃখের গান কেন গায়? এইটার উত্তর প্রথমটার মতোই। জনগন মানে তোর আমার মতো যারা বেকার কিন্তু প্রেম করে, প্রেমিকার সাথে লদকালদকি হতে যাবে এমন সময় শুনা গেল প্রেমিকার বিয়ে হতে যাচ্ছে। মেয়েটা সেই বরকে নিয়ে রঙিন স্বপ্ন দেখছে। একদিন দেখলে সেই মেয়েটা একটা রাশভারি টাইপের ছেলের সাথে হেসেখেলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তোমার সাথে চোখাচুখি হলে, এমন ভাব ধরে যে তুমি কে সে চিনে না। তোমার সাথে তার কোনোদিন কোনো কথাটথা হয়নি। এই জনমে তো নয়ই আগের জনমেও না।

পঠল ভাই টেবিলে হালকা করে দুই তিনটা চাপড় মেরে বললেন, জীবনে কোনোদিন তোর সাথে একমত হইনি আজ কিন্তু হলাম। একেবারে খাটি কথা কইছিস।

আমি আর বসলাম না। এই বিশারদদের কাছে আর বসা যাবে না। এমনিতেই ক’টা দিন খারাপ যাচ্ছে। প্রেমিকার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, এটা জানার পর কি আর সুস্থ হালে থাকে যায়?

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ১:১৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

থাক অহমিকায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


তোমার রঙিন আকাশে নেই
যে অমাবস্যার- অন্ধকার
ঝলমল করছে শুধু চাঁদ-
ডুবছ ডুবছ সুখমারী রাত!
উড়ছ শঙ্খচিলের ডানায়;
তোমার আকাশে অমাবস্যা নাই।

আমি মাটি বন্দি হয়েছি
মরার আগেই- মরার আগেই-
স্বপ্ন দেখি শুধু হুতুম পেঁচা হব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন[

শেখ মুজিব ইতিহাসের খলনায়ক।
জাতীয় বেইমান।
পাকিস্তান ভাঙার অপরাধী।
- এই কথাগুলো আপনি বিশ্বাস করেন?
তাহলে আজ আপনাকে একটা অনুরোধ করব- একবার শুধু থামুন।

রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৫

ফারাজা তাবাসসুম খান-
অনেকদিন তোমাকে নিয়ে লিখি না। খুব ব্যস্ত আছি। আমার সব সময় নিয়ে নিচ্ছে অফিস। আমি অফিস থেকে তোমাকে ফোন করলে তুমি কথা বলতে চাও না। আবার আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Mystic River – জোয়ারে ফিরে আসে সবকিছু

লিখেছেন রাজসোহান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩১



১৯৭৫ সালের বোস্টন। শ্রমজীবী মানুষের সাধারণ পাড়া। রাস্তায় হকি খেলছিল তিনটে বাচ্চা ছেলে। হঠাৎ বল গড়িয়ে পড়ল ড্রেনে। খেলা ওখানেই শেষ। ফুটপাতের একপাশে তখন সদ্য ঢালা ভেজা সিমেন্ট। ছেলেগুলো কাঠি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×