somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভ্যাটের গল্প

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পুলিশের গাড়ির সামনে ছেলেটি ব্যানার নিয়ে কাঁপা কাঁপা পায়ে দাঁড়িয়ে রইলো ..
মোটা ফ্রেমের চশমা পড়া, ছোট চুল, গোল গাল চেহেরা দেখলেই বুঝা যায় এই ছেলে কখনো আন্দোলনে আসে নি।অবস্থা বেগতিক হলে যে উল্টা দৌড় দিতে হয় সে সম্পর্কে আইডিয়া নেই। এই ধরনের ছেলেগুলো সাধারনত ফার্মের মুরগীর বাচ্চার মত থাকে, ঝামেলা এড়িয়ে চলে।এই ছেলের ত ব্যানার হাতে আন্দোলনে আসার কথা না, তাহলে?
.
ইয়াজউদ্দীন সাহেব ছেলেটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। কি করবেন তিনি বুঝতে পারছেন না। প্রচন্ড বিরক্ত লাগছে তার। আজকে ডিউটিতেই আসতেন না। প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করছে। দীর্ঘদিনের সঙ্গি এই মাথা ব্যাথা।বহু ডাক্তার দেখিয়েছেন। কেউই সমস্যাটা ধরতে পারেন না।কোনো অষুধই কাজ করে নাহ। কাল বিকেলে তাঁর শালাবাবু খবর দিলেন খাগড়াছড়িতে নাকি এক পীর আছেন.... মৃত্যু পথযাত্রী মানুষকেও ফিরিয়ে আনেন। সেখানে একবার শেষ চেষ্টা করা যেতে পারে ..
ইয়াজউদ্দিন সাহেবের উপর অর্ডার এসেছে এখানে ছত্রভঙ্গ করতে হবে। তিনি তার ব্যাটেলিয়ন নিয়ে এসেছেন। লাঠি চার্জ চলছে। দরকার পরলে রাবার বুলেট চালানো হবে। সবাই যেদিকে পারছে ছুটে পালাচ্ছে কিন্তু এই ছেলে দাঁড়িয়ে আছে কেনো?
তিনি ছেলেটাকে দাঁত মুখ খিচিয়ে একটা হুংকার দিবেন ভাবলেন। তার দীর্ঘদিনের পুলিশের অভিজ্ঞতায় দেখেছেন এই ধরনের ছেলেগুলো ধমকেই কাবু হয়ে যায়।আর এই ছেলে ভয়ে কাতর হয়ে আছে। হুংকারই যথেষ্ঠ।
তিনি তার পুলিশি গলায় গম্ভীর ভাবে বললেন, 'কি রে ! কি চাস ? দৌড় দে নইলে গুলি করবো '
বলেই চমকে উঠলেন, তার গলার স্বর নিজের কাছেই অপরিচিত ঠেকছে।
কিন্তু ছেলেটা অনড়।সম্ভবত ভীষণ ভয় পেয়েছে। দৌড়াতে পারছে নাহ।
হঠাৎ করেই ইয়াজউদ্দীন এর তার নিজের ছেলের কথা মনে পড়ে গেলো। এই ছেলের সাথে ভালোই মিল আছে। গোলগাল চেহারা, মোটা ফ্রেম, হালকা দাড়ি.. ছেলেটার নাম কি?
একটু হালকা কথা বার্তা বলে ছেলেটাকে সহজ করে নেওয়া যাক।
.
তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "এই তোমার নাম কি?"
ছেলেটা ভয়ার্থ গলায় ভীর ভীর করে কি যেনো বললো।স্পষ্ট না। ছেলেটা ভালোই ভয় পেয়েছে। তিনি আরেকটু কাছে এগিয়ে গেলেন শোনার জন্য। ছেলেটা আবারো বললো 'আমাকে গুলি মারবেন না প্লিজ, আমি বাঁচতে চাই '
"এই ছেলে তোমাকে আমি গুলি মারবো না, ভয় দেখাচ্ছি শুধু। আন্দোলনে আসছো কেনো? কোন ভার্সিটির তুমি? "
'আমি ভার্সিটির না কলেজের ছাত্র '
ইয়াজউদ্দিন সাহেব চোখ কপালে ঠেকলো। বলে কি এই ছেলে, কলেজে পড়ে এই পুচকা আন্দোলন করতে এসেছে কেনো? টাকার বিনিময়ে এসেছে নাকি? ইয়াজউদ্দীন সাহেবের মনটাই খারাপ হয়ে গেলো। ছাত্রদের কাজ হচ্ছে পড়াশুনা করা, তা না করে তারা এখন আন্দোলন ফান্দোলন করব বেড়ায়, এই দেশ টার হবে কি?
তিনি গম্ভীর গলায় বললেন, "শোনো বাবা, এখন হচ্ছে পড়াশুনার সময়। পড়াশুনা করে ভালো চাকরী করে বাবা-মা এর মুখ উজ্জ্বল করবা। কেনো শুধু শুধু নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে আসো? এই আন্দোলন করে কি লাভ হবে? একটা গুলি খেয়ে গেলে তোমার কি অবস্থা হবে জানো? এইগুলা না করে বাসায় যাও পড়াশুনা করো "
.
ছেলেটা এইবার ধীরে কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠেই বলে উঠলো, ' আমি আমার আব্বা আম্মার একমাত্র ভরসা। পড়া শুনা শেষে সংসারের হাল ধরতে হবে। যা অবস্থা শুরু হয়েছে আর পড়াশোনা করা লাগবে না।এমনিতেই আমার আব্বা আম্মা মারা যাবেন, এরচেয়ে ভালো আমিই আগে গুলি খেয়ে মারা যাই, সাহস থাকলে মারেন গুলি...আমি আমার দাবী না মানা পর্যন্ত নড়বো নাহ ''
.
ইয়াজউদ্দীন সাহেব বলার মত কিছু খুঁজে পেলেন নাহ .. .. তিনি তাকিয়ে আছেন ছেলেটার দিকে .. ছেলেটাকে এখন তার ভয় লাগছে .. কেমন মায়া মায়া চেহেরার মাঝে একটা কঠিনত্ব আছে ..ছেলেটাকে এখন মোটেও ভীতু মনে হচ্ছে নাহ ..সে অটল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তার দাবী মানার আগ পর্যন্ত সে তার জায়গা থেকে সরবে নাহ।
.
আশে পাশে তাকিয়ে পকেট থেকে বেরেটা নাইন্টি টু রিভালবার টা বের করলেন তিনি। চোখগুলো ঝাপসা হয়ে এসেছে ... কিছু করার নেই, অর্ডার এসেছে জায়গা ক্লিয়ার করতেই হবে।
**
... এটা একটি কাল্পনিক কাহিনি। এই কাহিনির প্রেক্ষাপট ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন নাকি ২০১৫ সালের ভ্যাটের বিরুদ্ধে আন্দোলন তা ইয়াদ নাই আমার .. .
কার্টেসি - Nahid Ashraf
লিংক- Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:২১
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অংশ।
জুলাইয়ের পর- সেই পুলিশ কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×