somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বপ্ন নাকি সত্যি

১১ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা সময় আমাদের হাত ফসকে ক্যাচগুলো পড়ে যেত। সহজ সহজ ক্যাচ, ধরে রাখতে পারতাম না। প্রাণান্ত চেষ্টার পরেও কিভাবে যেন আঙ্গুলের ফাঁক গলে বলটা পড়েই যেত।আমাদের ফিল্ডাররা অদ্ভুত অবিশ্বাসে তাকিয়ে থাকতো পড়ে যাওয়া বলটার দিকে, মানুষ হাসতো, মানুষের মত দেখতে ভিনদেশী দালালেরা... খ্যাক খ্যাক করে হাসতো... বলতো, ওই দেখ, গাধাগুলা টাকি মাছ ধরে... আমরা কেবল শুনতাম, কষ্ট হত খুব... কিছু বলতে পারতাম না... কিচ্ছু না...

একটা সময় আমাদের পেসারদের বলগুলো বিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা তারিয়ে তারিয়ে সীমানার বাইরে পাঠাতো। বাউন্সারগুলো শর্ট বল হয়ে ব্যাটসম্যানের সামনে উপাদেয় খাদ্য হয়ে হাজির হত, অনেক হিসাব করে ফেলা বলটা হঠাৎই কিভাবে যেন হাফভলি হয়ে যেত, জোরের উপর করতে গিয়ে অজান্তেই ফুলটস দিয়ে ফেলতো ওরা। আপ্রান চেষ্টার পরেও কিভাবে যেন বলটা জায়গামত পড়তই না। চারের বন্যা বয়ে যেত, একের পর এক বল গিয়ে পড়ত গ্যালারীতে।পাকিস্তানের দালালগুলা বলতো, বাংলাদেশের আবার পেসার? ফাজলামির একটা লিমিট আছে ব্যাটা। পেস বোলিং ওয়াসিম-ওয়াকার-শোয়েব ছাড়া কেউ করতে পারে নাকি? চুপচাপ শুনে যেতাম, কথা খুঁজে পেতাম না। বোলারটার ফলো থ্রুটা দেখাত, বিষণ্ণ ক্লান্ত মুখটা বড় অদ্ভুত যন্ত্রণায় তাকিয়ে আছে বলের দিকে... উড়তে উড়তে গিয়ে পড়ছে গ্যালারীতে... একজন পেসারের বল...

একটা সময় আমাদের ব্যাটসম্যানরা কেবল আসতো আর যেত।টিকে থাকার লড়াই করতে করতে হঠা ৎ কেউ একজন হঠাৎ খুব ভালো কিছু শট খেলে ফেলতো, ধারাভাষ্যকাররা অবাক বিস্ময়ে এমন একটা ভাব করত যেন পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য ঘটনা ঘটতে দেখেছে তারা। তাদের প্রশংসায় কটাক্ষের তীব্র বিষ লুকিয়ে থাকতো, তীরের ফলার মত বিঁধত, চুপচাপ সয়ে যেতাম। বিপক্ষের ক্যাপ্টেন মাঝে মাঝে ম্যাড়ম্যাড়ে খেলাটায় একটু বিনোদন দিতে ফিল্ডারের ছাতা বানাত আমাদের ব্যাটসম্যানগুলোকে ঘিরে। বাউন্ডারিতে দু একজন বাদে সবাই মিলে ঘিরে ধরতো আমাদের ব্যাটসম্যানদের, বেশ একটা উত্তেজনা তৈরি হত। কে কার আগে বেশি উইকেট নিতে পারে... সেই উত্তেজনা... আমরা পারতাম না, পারতাম না ঘিরে ধরা সেই ফিল্ডারগুলোর ব্যূহ দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে বলটা সীমানার বাইরে পাঠাতে... আউট হয়ে ফিরে আসতাম... ক্লান্ত, ধীর পায়ে... বারবার...

তাই আজকে যখন তামিমকে চার পায়ে ঝাঁপিয়ে ডাঊন দ্যা উইকেটে এসে ছক্কা মেরে ডাবল সেঞ্চুরি করতে দেখি, মুশফিককে ফেদেরারের মত ফোর হ্যান্ড ব্যাক স্লাপে চার মারতে দেখি, মুস্তাফিজকে দুর্দমনীয় আগ্রাসনে সব চুরমার করে রেকর্ড বুক তোলপাড় করে দিতে দেখি, ওর অব্যর্থ কাটারের বিষাক্ত জালে খাবি খেতে খেতে হাঁসফাঁস করতে দেখি পৃথিবীর সেরা ব্যাটসম্যানগুলোকে, সাব্বির নামের এক ক্ষিপ্রগতির ঈগলকে দেখি নাসির নামের আরেক শিকারি বাজের সাথে উড়ে গিয়ে ক্যাচ ধরতে, মাশরাফি নামের এক অসম্ভব অকুতোভয় দুর্ধর্ষ নেতাকে দেখি মাঠের সবগুলো ফিল্ডারকে স্লিপে এনে ব্যাটসম্যানকে ঘিরে ধরতে, তখন হঠাৎ ধাক্কা লাগে... চমকে উঠি... অজান্তেই ঝাপসা হয়ে ওঠা চোখটা বারবার ডলে নিয়ে ভালোমতো দেখতে চেষ্টা করি, বুঝতে চেষ্টা করি, যা দেখছি, সব সত্যি তো? নাকি মরীচিকা? ঠিকঠাক দেখতে পাই না, বুঝতে পারি না, চোখটা আবার ঝাপসা হয়ে আসে। হতেই থাকে... যতবার মুছি, ততবার...

কত যন্ত্রণা ... না পাওয়ার বুক ভাঙ্গা হাহাকার... পেতে পেতে হারিয়ে ফেলা দুঃসহ আক্ষেপ... ভৎসনা... টিটকারি... পরিহাস... তামাশা... কত অকল্পনীয় দুঃস্বপ্নে ভরা দীর্ঘ দিনরাত্রিগুলো... সত্যিই কি শেষ হয়েছে হতাশায় মোড়া হাজারো ব্যাথার ক্ষনগুলো? স্বপ্ন দেখছি না তো?

সত্যি তো সব?
লেখা - রাহমান রাআদ
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:০৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এটাই কি সামুর প্রথম পোস্ট?

লিখেছেন অধীতি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩১


https://www.somewhereinblog.net/blog/deborah/9
২০১৩ সালের দিকে ঢাকায় আসি। তখন মাত্র মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করেছি। ঢাকায় এসে যেই বিষয়টা নেশার মত হয়ে যায় তা হলো বিভিন্ন জায়গায় কম্পিউটার চালানোর জায়গা ছিল। ডেমরা রানী মহল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার : খাল বাবা স্বয়ং

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৮

আসন্ন বিসিএস পরীক্ষার কমন প্রশ্ন ফাঁস করে দিলাম। পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার মহাপ্রতিভাবান খাম্বা/খাল বাবা। তিনি HSC ডিগ্রীধারী হলেও তার প্রতিভা আকাশচুম্বী। রবিঠাকুর বা নজরুলের সাথে তার কোন তুলনা হয় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যাসিবাদ মোকাবেলায় এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫৬


ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করা গেছে, কিন্তু পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। অন্তত প্রযুক্তির দিকে তাকালে এমনটাই মনে হচ্ছে। যে আওয়ামী লীগ এতদিন মানুষের ভোট, মতামত, রাজপথ, রাষ্ট্রযন্ত্র সবকিছুর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×