শুশুক:
বাড়ি থেকে ৩ মিনিট লাগে স্কুলে যেতে, তবু ভালো স্কুলে পড়ে ভালো রেজাল্ট করা লাগবে- আব্বা এই অজুহাতে পাশের উপজেলার এক নাম করা স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেন। বন্ধু-বান্ধব ছেড়ে যেতে হবে ভেবে মন তো ভিষন খারাপ।আবার মাটির মেঝে আর টিনের বেড়ার স্কুল ছেড়ে দোতলা স্কুলে যাবো ভেবে একটু গর্ব ও হলো। পাঁচ কিলো পথ হাঁটতে হলে ও রোজ তো খেয়াপাড়ি দিয়ে স্কুলে যাবো ,এই খুশিতে তখন আমি সাড়ে এগারোখানা !! ডেইলি প্যাসেন্জার হিসেবে আমাদের খেয়া ভাড়া ছিল অর্ধেক অর্থাৎ আট আনা। আর ঘাটে যে লোকটা ঘাটের পয়সা নিত সে ছিল আমার দাদুর মামা বাড়ির লোক, সেই হিসেবে আমি তো পুরাই ফ্রি.. । খেয়া তে উঠে অপেক্ষা করত হতো কখন ১২ জন লোক হবে আর কখন খেয়া ছাড়বে। হাফ ভাড়া বলে মাঝি আমাদের ( আমি আর আমার বন্ধু ) বাদ দিয়ে লোক হিসাব করত। এক জন লোকের অভাবে মাঝি আধা ঘন্টা বসিয়ে রাখলে ও কখনো পুরো একটাকা ভাড়া দিতে রাজি হয়েছি এমন ঘটনা সেই ইতিহাসে কখনোই ঘটেনি!!
কুমড়ো গড়াগড়ি:
সেদিন সকালে নদীতে ভাঁটা হয়ে গেছে। ওপার নেমে পিচ্ছিল খাড়া পখ বেয়ে আমরা লাইন দিয়ে তীরে উঠতেছি। হঠাৎ দেখি আমার পাশ দিয়ে কুমড়ো গড়াগড়ি দিতে দিতে কয়েক পাক খেয়ে ঝপাস করে কে যেন নদীতে পড়ল।আমার হা হা হি হি তো থামেই না। পাশে তাকিয়ে দেখি আমার স্বাস্থ্যবতী ( মোটু বললে মাইন্ড খায়) বন্ধু উধাও!! সে তখন নদীর পলি মাটি সারা গায়ে মেখে নিচ থেকে আমার দিকে অগ্ণি দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে। ঘাট ভর্তি সবাই হাসছে তাতে কোনো দোষ নেই , আমার দাঁত দেখানোর অপরাধে সেদিন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে গেল!! কি আর করা ,সে আমার যাত্রা পথের এক এবং অদ্বিতীয় সাথি । তাই অপরাধ স্বীকার করে , আমার এমন কোন দুরবস্থায় তাকে পরান খুলে হাসার অগ্রিম লাইসেন্স দিয়ে সেদিনের মতো ক্ষেমা পেলাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০১৪ বিকাল ৩:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



