২০১১ সালের কথা, বাংলাদেশে প্রথম যাচ্ছি। হেলসিংকি হয়ে জার্মানি, এরপর আবুদাবিতে (আরব আমিরাতের রাজধানী) ট্রানজিট।
# বাংলাদেশগামী পশ্চিমা ও আরব দেশের প্রবাসীদের মিলনস্থল এই জায়গাটা, তাই বছরের পর বছরের এক একটি আচরণে গড়ে ওঠা একেক রকমের মানুষ পাবেন এখানে। ইউরোপের অতি মুডি (অহংকারী গোছের) মানুষ যেমন দেখতে পাবেন, তেমনি তপ্ত বালিতে/আবহাওয়াতে কামলাখাটা অসহায় (পেচগোছ না বুঝা) মানুষের দেখাও মিলবে অনায়াসে। যেমন পাবেন "নিয়ম না মানা স্বার্থপর সেচ্ছাচারী" মানুষের দেখা, সেরকম পাবেন অতি শিক্ষিত নিয়মতান্ত্রিক মানুষের দেখাও !!
এক প্লাটফর্ম থেকে আরেক প্লাটফর্মের দিকে যাচ্ছি, লম্বা লাইন। লাইনের বেশিরভাগ মানুষেরাই কামলার (মধ্যপ্রাচ্য/আরব কর্মজীবী), আমার মত কিছু "ছাত্র" মানুষ ইউরোপ থেকে আসা হাতে গোনা ১৫-২০ জনের বেশি না। লাইনে প্রথম ৫ জনের পিছনে থাকলেও ধরমর করে আরব প্রবাসী ভাইয়েরা যে যার মত লাইন ভেঙ্গে সামনে চলে আসার দরুন নিমেষে ২০-২৫ জনের পিছে চলে এলাম। ধর্য্য ধরে অন্যকে সামনে যাবার পথটা ছেড়ে দিলেও ব্রিটিশ এক প্রবাসী ছাত্রের শিক্ষিত বাক বিতন্ডা এই কামলাখাটা মানুষদের বোধগম্য হতে/বুঝতে সময় লেগেছিল, আর যখন তারা ছাত্রটির "পাশ্চাত্য অহমিকা বুঝতে পারলো", একযোগে "ছাত্রটিকে মৌখিক অপমান করবার" সুযোগটি হাতছাড়া করেনি, শুধু নিরবে শিক্ষিত ব্রিটিশ প্রবাসীর "অপমানে ও রাগে লাল হয়ে যাওয়া মুখটা" দেখা ছাড়া আপাতত কিছু করণীয় ছিলনা আমার।
অনেক চড়াও উতরাও পেরিয়ে অবশেষে প্লেনে :- দীর্ঘ কয়েক ঘন্টার ভ্রমনে কিছু নতুন অপরিচিত অভিজ্ঞতা অর্জন এই জীবনে দরকার ছিল। প্লেনে এক আরব প্রবাসীর "ধুমপান, অবশেষে জলন্ত সিগারেট কমোটে (বিদেশী পায়খানা) নিক্ষেপ এবং পুরা প্লেনে হইচই লেগে যাওয়া" এর কাহিনী আরেকদিন বলবোনে
"যে ব্যাক্তি বেদুঈনের জীবন কাটায়, সে কর্কশ হয়ে যায়। যে শিকারে নিয়োজিত হয়, সে হয় উদাসীন (শিকারের খোজে ধর্ম/দ্বীন পালনে), আর যে ব্যাক্তি শাসকদের সাথে সাক্ষাত করে, সে ফিতনার মাঝে পতিত হয় (সত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে ধর্মত্যগী হয়ে যেতে পারে)।" - (আবু দাউদ, তিরমিজী, নাসাঈ এবং বায়হাকী)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




