
শামচুল হক
তারা ভরা রাতে তুমি ছিলে না গো পাশে
কত সুন্দর তারাগুলো ফুটেছিল আকাশে
সেদিন তুমি বিনে দু'চোখে ঝরেছিল বৃষ্টি
নিকষ আঁধারে তাই যায়নিকো দূরে দৃষ্টি
সে ছবি আজো আমার চোখে চোখে ভাসে
কত সুন্দর তারাগুলো ফুটেছিল আকাশে।
সেদিন দুপুরে টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ছিল। মনের সুখে বিছানায় শুয়ে শুয়ে বেসুরো কণ্ঠে উপরের লেখা গানটি গাইতেছিলাম। গান শেষ হতে না হতেই বউ চিল্লিয়ে উঠল, এই যে গানওয়ালা-- আপনার গান খুব মনোযোগ দিয়ে শুনলাম, গান খুব ভালো হইছে, এবার বাজারে যান। খালি গান শুনলে পেট ভরবো না, কিছু খাওন দরকার।
বউয়ের এরকম খোঁচা মারা কথায় মনটাই খারাপ হয়ে গেল। আরো দু'একটি গান গাইতাম সেটা আর হলো না। বিরুক্তির সুরে বললাম, তোমার মত বউ যে আমার কপালে কিল্লাইগা আল্লায় জোটায়া দিল এইডাই আমি ভাইবা পাই না। শালা বেরসিক কোনহানকার--।
বউ আমার কথার পাল্টা জবাব দিয়ে বলল, হোনেন-- বেরসিক হই আর কিছু হই, পেটে আগে কিছু দানা পানি দেওন দরকার, পেট ভরা থাকলে ভেড়ার ভ্যাবানিও ভাল লাগে, আর পেটে যদি ভাত না থাকে রুনা লায়লার মজার গানও ভালো লাগে না।
বউয়ের কথায় মেজাজ আরো খারাপ হয়ে গেলো, চোখ দুটো বড় করে মুখটা বাঁকা করে বললাম, যার মুখে মধু নাই তারা কাছে রুনা লায়লার গান ক্যান লতা মুঙ্গেশকাররে বাইটা খাওয়াইলেও ভালো লাগবো না। শালা ব্যাক্কল কোনহানকার--।
যত চোখ গরম করি না কেন বউ দমবার পাত্রী নয়। সে আমার মুখের সামনে এসে হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে মুখটা বাঁকা তেড়া করে বলল, আমারে ব্যাক্কল কন আর কিছু কন তাতে আমি চেতুম না, দয়া কইরা বাজারে যান, আগে চাইরটা খাওনের ব্যাবস্থা করেন পরে যত পারেন ভ্যা ভ্যা কইরা গান কইয়েন।
বউয়ের কথাগুলো আমার কাছে কলিজায় আঘাত লাগর মত মনে হলো। বউয়ের উপর মেজাজটা আরো খারাপ হয়ে গেল। শোয়া থেকে উঠে আলনায় রাখা পাঞ্জাবীটা হাতে নিতে নিতে তাকিয়ে দেখি বউ সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। সামনে দেখেই মেজাজটা আরো বিগড়ে গেল। দাঁতে দাঁত চিপে বউকে রাম ধমক দিয়ে বললাম, পুতুলের মত খাড়া রইছ ক্যান, বাজারের ব্যাগ কই? ব্যাগ আইনা দিব কি ভুতের মা'য়? শালা খবিস কোনহানকার।
ধমক খেয়ে বউ রান্না ঘর থেকে ব্যাগ আর দুশ' টাকা এনে দিল। টাকা হাতে নিয়ে আরো একটা রাম ধমক দিয়ে বল্লাম, আরে ব্যাক্কল এই দুইশ' ট্যাকা দিয়া কি হইবো? লাল শাক আর পুঁই শাক কিনতেই তো ট্যাকা শেষ হইয়া যাইবো। মাছ টাছ কিনুম কি দিয়া?
বউ মনে হয় বুঝতে পেরেছে আমার মেজাজ চাঙে উঠেছে। গলাটা স্বাভাবিকের চেয়েও নিচু করে বলল, দুইশ' ট্যাকায় যা জোটে তাই নিয়া আসো, ঘরে বেশি ট্যাকাটুকা নাই, আইজ ভালো কিছু কিননের দরকার নাই।
বউয়ের উপরে মেজাজ গরম হলে যা হয়, তার ভালো কথাটাও খারাপ লাগে। ধমক দেয়ার মত আর কোন কথা খুঁজে পেলাম না তাই তার বলা কথাটাকেই পাল্টা উচ্চরণ করে ভ্যাঙানোর সুরে বললাম, দুঁইশ ট্যাঁকা অ্যাঁ অ্যাঁ -- - - -- শালার খাটাশ। বলেই বৃষ্টির মাঝেই বাজারে দৌড়াতে লাগলাম।
বাজারে যেতে যেতে মনে মনে ভাবলাম, খামাখাই বউটাকে ধমকালাম। আমি বাজার না করলে তো আমাকেই না খেয়ে থাকতে হবে। বউ ধমকানোর সময় সে কথা একবারও মনে পড়ল না।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৩:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



