ছোট ছোট টিলা, একপাশে অগভীর
খরস্রোতা জলধারা; একপাল
বন্য গরু চারণকর্মে নিবেদিত।
দর্শক হয়ে দৃষ্টির তীক্ষতা ছুড়ে দেই
চার দেয়ালে বন্দী হয়ে টিভির পর্দায়।
চলমান দৃশ্যপটে একপাল হায়না
বন্যগরুর পালে আতঙ্ক ছড়ায়,
গরুর পাল ছুটতে থাকে, ধূলো ওড়ে;
পেছনে পেছনে হায়নার দলের
স্বভাবজাত দক্ষ শিকারী ছুট।
ওরা পশু, কেউ শিকার আর কেউ
শিকারী, বনের রীতিনীতি নিত্য ওরকমই।
টিভির রিমোর্টের বাটন চেপে
চ্যানেল বদলাই জ্ঞাতস্বারে, পিচঢালা পথ,
চেনা শহরের পদস্পর্শ পথের দৃশ্য।
একদল মানুষের উত্তপ্ত বাক্যবান
কন্ঠে নিয়ে সে পথ জুড়ে ভীষণ দাপাদাপি,
সম্মু খে এবং পাশে আরেকদল
ইউনিফর্মের ভিন্নতায় ছদ্মাবরণ।
ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইট ছোড়াছুড়ি।
অস্ত্র হাতে ইউনিফর্মধারীদের আক্রোশ,
বাতাসে ধোয়ার উন্মক্ত অট্টহাসি।
লাল লাল ছোপ রাজপথে,
লাল লাল ছোপ দু'দলেরই হাতে পায়ে।
ওরা নাকি মানুষ,
চেহারা তো তাই ই প্রকাশ করে।
অন্য চ্যানেলে হায়নার মুখে রক্ত,
কাছেই বন্য গরুর পাল আবার স্বাভাবিক,
নিবেদিত পুনঃ আত্মকর্মে বনের নিয়মে।
শুধু মৃতদেহ হয়ে পড়ে আছে নিথর, রক্তাত্ব ছিন্ন,
হায়নার প্রাকৃতিক খদ্যের শিকার একটা গরু।
ওদিকে রাজপথে অন্য চ্যানেলে
মানুষ ও এক পড়ে আছে সভ্য পথের পিচে
রক্তাক্ত নিথর, অঘটনার শিকার।
আরও উত্তাল আরও দাপাদাপি,
মৃত্যু যেন আন্দোলনের নব জাগরণ্।
স্বাভাবিক নয় কোন দলেরই পদচারণ।
এখানে হায়নার শিকারেরও স্বাভাবিকতা নেই,
নেই বনের স্বাভাবিক ধর্মে শিকারে পরিণত
বন্য গরুর পালের পুণঃ চারণ পর্ব।
এখানে রাজপথে মানুষগুলোর
পশুর চেয়েও কি অধম কর্ম?
আমিও মানুষ -- ভাবতেই লজ্জাবোধ
আপন সত্তার কাছে। টিভি বন্ধ করতেই
কালো পর্দায় আত্ম প্রতিচ্ছবি ,
কি বিভৎস প্রাণী এক এই আমি,
আমি ও তো মানুষ।
03/07/06(রাত 2:00)
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০০৬ বিকাল ৫:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




