somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভ্রমন -ঘুরে আসতে পারেন সময় পেলে ।

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ রাত ৩:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাঁপিয়ে ওঠাই স্বাভাবিক। এই মাসটা আমাকে একের পর এক কর্মে আর জটিয়ার মাঝে বেঁধেছে বারংবার। আজ রাতে ঢাকা চলে যাব ..আসব ঈদের দিন বা পরের দিন। ..
গতকাল তাই ভোরে ঘুরতে বের হয়েছিলাম। আমার অফিসের দুজন সেন্ট মার্টিন যাবে। তাদের চাকুরীর জীবন শেষ বেলার সূর্যর মত টুপ করে ডুবল বলে। তাই কক্সবাজরের পোষ্টিংয়ের সুবধিাটা কাজে লাগানো তাদের বুড়ো বয়সে। গাড়ী দিতে কার্পন্য করিনি তাই। কার্পন্য করিনি নিজেকেও পথে ছুড়ে মারতে ।

ভোর ছয়টা য় ...টেকনাফের জিগজাগ পথ..কুয়াশার সাথে মিলে মিশে জোট বেঁধেছে , কিছু দেখতে দেবেনা। ড্রাইভার মাসুদ তবুও দ্রুত চালিয়ে পৌঁছে গেল মাত্র দেড় ঘন্টায় ৭৮ কিলোমিটার পথ।
...বাহ! ডিপার্টমেন্ট থেকে নতুন একটা রেস্ট হাউস করেছে দেখলাম টেকনাফে নাফ নদীর পাড়ে...বেশ মনকাড়া। সামনের পাহাড় থেকে নাকি হাতিও নেমে আসতে পারে। ভাল হলো এর পর থেকে এসে থাকা যাবে। ...
বৃদ্ধসম দুজন কর্মচারীকে সেন্টমার্টিন এর জাহাজে উঠিয়ে দেবার আগেই হাতে সময় থাকায় টেকনাফ সী বীচ থেকে একবার ঢু মেরে এলাম । আগেও গিয়েছি । ছোট বীচ বাট সুন্দর। টেকনাফ টাউন থেকে ৪ কিমি এর মতো দূরত্ব।
সে দুজনকে নামিয়ে দিয়ে জাহাজ ঘাটে ( বন্দরে) ...সাথের আরেকজন টেকনিসিয়ান বলল স্যার চলেন শাহ পরীর দ্বীপ যাই। শুনলাম কাছেই। ...যাই রওয়ানা দিলাম। .ওমা পথ যে আর শেষ ই হয়না। আর রাস্তা তো নয় বন্ধুর ইট বালুর পথ। কোমর যেন গেলো গেলো। .........আধঘন্টা লাগল প্রায় ..১৪/১৫ কিমি পারহয়ে পৌঁছালাম শাহপরীর দ্বীপে। আসলে দ্বীপ নয় কোন , জাস্ট নাম।...পথে বিস্তর লবনের ক্ষেত মন জুড়িয়ে দিল।
ছবিতে যে জেটিটা দেখতে পাচ্ছেন ওটাই শাহ পরীর দ্বীপ। বাংলাদেশের একদম শেষ কর্ণার বলতে পারেন।
টেকনাফের মূল বন্দর জেটি এটাই হওয়ার কথা ছিল । কেন হয়নি , বা রাস্তা পুরো কেন ঠিক হয়নি জানতে পারিনি। ..তবে জার্নির কষ্ট সহ্য করতে পারলে ঘুরে আসতে পারেন। দৃশ্য খারাপ না।

ওখান থেকে আবার সেই এবড়োথেবড়ো পথ পেরিয়ে টেকনাফ এর পাহাড় ছোঁয়া নাফ নদীর তীর ঘেঁষা পথ চিরে কক্সবাজারের দিকে যাত্রা শুরু হলো । পথের একধারে নদীর কাদায় আর অন্য ধারে জঙ্গলের মাঝে অসংখ্য রোহিঙ্গা দের দেখা গেলো নিদারুন মানবেতর জীবন ধারনের দৃশ্য। ...

উখিয়া হতে কক্সবাজার এর দূরত্ব প্রায় ৩০ কিমি। ভাবলাম একটু ঘুরে যাই ইনানী বীচ দেখে। যারা কক্সবাজার ভাল ঘুরেছেন জানেন, হিমছড়ির সামনে দিয়ে মেরিন ড্রাইভ ধরে ১৬/১৭ কিমি গেলে ইনানী নামে এক সুন্দর নতুন বীচ এ যাওয়া যায়। উখিয়া থেকে কোট বাজার এর মধ্যে দিয়ে একটা বাইপাস রোড দিয়েও ইনানী বী চ এ যাওয়া যায়। কিন্তু হয়রে ..ওপথে নেমেই বুঝলাম কি ভুল করেছি। ভয়ংকর ভাষাতীত খারাপ ওই ৮/৯ কিমি রাস্তা। ভুলেও কেউ ওপথে যাবেন না। ইনানী বীচে গেলে মেরিন ড্রাইভ ধরেই যাওয়া বেটার । ওপথে মাত্র ২ কিমি পথ খারাপট । আর্মিরা ঠিক করছে। আর সবটাই অতি সুন্দর রাস্তা।

নিচের ছবিতে যে পাথর দেখতে পাচ্ছের সাগরের বালুর উপর । ওটাই ইনানী বীচ। সুন্দর। সেন্টসার্টিনের একটি অতি ক্ষুদ্রসংসস্করণ বলতে পারেন। যদিও সেন্টমার্টিনের তুলনায় কিছুই না। ...
ইনানী বীচে একটু ঘুরে টুরে আবার সেউ ২ কিমি রাস্তায় কোমর ভেঙে মেরিন ড্রাইভ ধরে ফিরে এলাম কক্সবাজার। .....ভীষন ক্ষুধা আর গায়ে মাথায় ব্যাথা নিয়েও অসাধারন এক ভ্রমন সমৃতিতে আসন গাড়ল।

কপাল খারাপ রাত দশটা পর্যন্ত অফিস করতে হলো ...কিছু টেকনিক্যাল প্রেবিলেম যে হলো বিকেলে আর হই অফিশিয়াল কজন এলো রাতে।

ওহো!। সত্যি বলছি একটু কষ্ট হলেও ঘুরে আসতে পারেন...টেকনাফ , শাহপরীর দ্বীপ, ইনানী বীচ কিংবা টেকনাফ সী বীচ। ভাল লাগতেও পারে মনোটোনাস জীবনে।
হয়তো কোন একদিন যাতায়াতের এই কষ্টও কমবে। আমরা আশাবাদী।
ছবিঃ
নিচের ছবিতে ....1ম ও 4র্থটা-- ইনানী বীচ
2য় ও 3য়টা-শাহপরীর দ্্বীপ
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ রাত ৩:৩৩
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এসি ছাড়াই ঘর থাকবে বরফ শীতল: মেনে চলুন বিশেষজ্ঞদের বিশেষ টিপস

লিখেছেন শিমুল মামুন, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৬


তীব্র তাপপ্রবাহে (Heatwave) জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন ঘর ঠান্ডা রাখাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ঘর শীতল রাখতে যে সবসময় এসির (Air Conditioner) প্রয়োজন হবে, তা নয়। বিশেষজ্ঞরা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

Diplomacy is not tourism

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৯


আফ্রিকার পশ্চিম প্রান্তে আটলান্টিকের তীরে সেনেগালের রাজধানী ডাকার। এপ্রিলের শেষে সেখানে বসেছে 'Dakar International Forum on Peace and Security in Africa'-এর দশম আসর। নামটা দীর্ঘ হলেও এবারের হাওয়া বেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার একশততম পোস্ট!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:১৮



আমার একশততম পোস্ট!

আজ আমার লেখকজীবনের এক ছোট্ট কিন্তু হৃদয়ের গভীরে দাগ কাটা দিন- সামহোয়্যারইন ব্লগ এ আমার একশততম পোস্ট। সংখ্যার হিসেবে হয়তো ১০০ খুব বড় কিছু নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভুল শুধু ভুল, আমি কি করছি ভুল?

লিখেছেন রবিন.হুড, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪১

আমি টাকার পিছনে না ছোটার কারনে আমার হাতে যথেষ্ট সময় থাকায় সে সময়টুকু সামাজিক কাজে ব্যয় করার চেষ্টা করছি। আবার বিলাসিতা পরিহার করার কারনে অল্প কিছু টাকা সাশ্রয় করছি যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফুল ট্যাঙ্ক স্বপ্ন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৬



শহরের সকালগুলো এখন আর আগের মতো নয়। সূর্য ওঠার আগেই পেট্রোল পাম্পের সামনে লম্বা লাইন পড়ে যায়। সেই লাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে রিদম—একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, আর জীবনের বাস্তবতায় আটকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×