somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি গল্প// [রং=#000000]ডেটিং মিস হয়েছিল, কেনো হয়েছিল বলা যাবেনা।[/রং]

২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৭:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[ইটালিক]( উল্লেখ্য , এই গল্পের প্রতিটি চরিত্র ও ঘটনা কাল্পনিক। বাস্তবিক কোন চরিত্র বা ঘটনা বা অবস্থার সাথে এর কোন মিল নাই)[/ইটালিক]

জরিনার সাথে ডেটিং ছিল সাখোয়াতের শনিবার সকালে এগারো ঘটিকায়। আগের দিন রাতেই জিপির দূর্লভ লেট অফার এর বদৌলতে তিরিশ পয়সা মিনিটে কথা বলতে বলতে কখন ভোরে আযান ভেসে এসেছিল শুনতইে পায়নি সাখোয়াত। শুনছিল মোরগার ডাক। তখনই বুঝেছিল ঘুম বাবাজীও রাগ করে পালিয়ে গেছে। জরিনা ঘুমিয়েছিল ঠিকই এবং ঘুমের আগে এগারোটায় লালবাগ কেললার দেরাজের গোড়ায় আসার আলটিমেটাম দিয়ে দিতে ভুলেনাই। সাখোয়াত আর ঘুমায়নি মোটেও। 10টায় বউ বাজারের চিপা হতে বের হয়েছিল তথাকথিত মাঞ্জা মেরে। লাল সূতোর নীল জিন্সে কমপক্ষে তিনটে তালি তো ছিলই। ভাঙাচোরা মুখের মাঝে দুটো চোখে ছিল ঘুমহীনতার ছাপ । যেনো পাড় মাতাল , ঢ়ুলু ঢুলু অথবা রাত ভর কোন পাড়ায় কাটানো মাগীবাজ সন্ত্রাসী যুবক।
পথের মোড়ে সেই সময় অবৈধ উচ্ছেদের কারনে শুর হওয়া উত্তেজক পরিস্থির পাশ দিয়ে যাওয়াটা কপালেই ছিল। লাঠির ডেবে যাওয়া বাড়ি ক'টা খেয়েছিল গোনা যাবেনা তবে লাঠি যে ছিল কমপক্ষে 9টি সে বুঝেছিল নানা মাপের কারনে।
বন্দীশালা হতে ছাড়া পেয়েছিল যখন তখন বেলা গড়িয়ে সাঝের দৌড়াত্ম এল বলে। মোবাইলটি সেই মোড়ে এসে খুঁজেও আর পাওয়া যায়নি। আবর্জনা কি আর আজকাল পথে পড়ে থাকে। সব নিট এন্ড কিলিন। বাধ্য হয়ে দোকান থেকে ফোন না করে উপায় ছিলনা। অন্তর মন্তরের প্রেম জরিনার লগে। কিন্তু জরিনা কথা বলতে রাজি হলোনা। গলা শুনেই রেখে দিেেলা। জরিনা কি করে জানবে তার সোনার ময়না সাখোয়াতের কপালের দোষ যে শুদ্ধ পরিবেশে অশুদ্ধতায় পর্যবসিত হতেই পারে। না সে কল্পনাই করেনি। উপরন্ত বান্ধবী সখিনা বলেছিল সাখোয়াত না ও হইতে পারে তবে তার মতো কাকে সে যেন এক কালা মেয়ের সাথে রমনায় দেখেছিল বসে আছে । নারীর মন খুবই নরম। ওখানে জরুরী বলিয়া কোন অবস্থা নাই। সবকিছুকে স্বাভাবিক দৃষ্টিতে বিচার করে আর ভাবালু হয়। ব্যথিত, বেদনায় আক্রান্ত হয়ে পরে সহজে। একশো পার্সেন্ট নারী জরিনারও তাই হলো।
সাখোয়াত রাত 10টা পর্যন্ত যোগাযোগের শত চেষ্টা করেও দেখা করতে পারলনা। পারলনা কথা বলতে বা বলাতে। অবশেষে একজন এর মাধ্যমে চিঠি লিখে পাঠানোর ব্যবস্থা করল। এমন না যে সেটাই তার প্রথম জরিনার কাছে প্রেম চিঠি লেখা। হাজার বার লিখেছে আগে। কিন্তু আজ ভীষন সমস্যা হচ্ছে। কেনই বা হবেনা। একটু খবর শুনেছে টিভিতে -স্পষ্ট বিধি নিষেধ ..কি কি প্রকাশ করা যাবেনা।

শেষে অনেক কষ্টে নিচের চিঠিটা সে লিখল সে,

"ও আমার লক্ষী পক্ষী সোনা মনিগো,
হাজার হাজার চুমু দিতাছি তোমারে । মাগার ঠোঁটে বেদনা করতাছে , ঠিক মতো দিতে পারতাছি কিনা জানাইও। বেশী খাইছিতো । ঠোট ব্যাথা হইয়া গেছে। আর চুমু একটু সাবধানে লইও। চুমু দেয়ার জন্যে অনুমতি লওয়া লাগবো কিনা কারও জানা নাইক্যা। অনুমতি লইনাই। এইটা সাহসের বাধ ফাটাইয়্যা দিলাম। আমারে তুমি ভুল বুঝতাছ। দেখো তোমারে আমি কত আদর করি। এত ভালা তোমারে কেডায় বাসব কও । কও না জরিনা? তোমার লগে দেখা করার লাইগ্যাই তো ঘর থেকে বার হইছিলাম । কিন্তু পথে ঐ জ...
না কিছু না। ......................................................এখানে অনেক গুলান শূণ্যস্থান। পরে কানে কানে কইমু। না কইমু ই না। কওন যাইব না। কইলেই আবার খাইতে হবে। কওন নিষেধ আচে পুরাপুরি । বুঝতাছ তো।?
আসলে আমি পথ আসিয়া দেখিলাম অনেক মানুষ অনেক মানুষরে মেকাপ করিয়া দিতেছে। আমিও কিছু মেকাপ করিয়া নিলাম। পরে এক বড় রুমে বসিয়া মুখের ব্যায়াম করতাছিলাম। ঐ খানে এত খাইছি যে রাতেও আজ আর ভাত খা তে পারিনাই। পেটে সহ্য হইতাছিলনা। তবে এত কিছুর মধ্যে খালি মনে হইতাছিল , তুমি কত কষ্ট কইরা লাল কেল্লায় দাঁড়াইয়া আছ আর আমি খাইতাছি। আমার সে খাওয়া দেখলে তুমি আরও কষ্ট পাইতা। যাক দেখোনাই যে আমার কপাল। তুমি বুঝতাছ তো আমার কেনো আসা হয়নাইক্যা। সকল রাগ অপ্রকাশিত রাইখ, না হইলে রাগের মাঝে কি কইয়া ফেলবা , দেকা যাইব তোমারেও ঘরে বন্দি হইতে হইবে। আর কি লিখব বুঝতাছিনা। তুমি খালি আমারে ভুল বুইঝনা। আমার লগে আরও অনেকেই ঐ খানে খাইতাছিল। এরপর আমি কল দিলে ফোন ধইরো।

ইতি
তোমার জানের জান
পরানের পরান সাখোয়াত

চিঠি সে জরিনার কাছে পেঁৗছে দিয়েছিল এক শুভাকাঙ্খির মাধ্যমে । কিন্তু জরিনা কি বুঝল আর কি বুঝলনা ভাবতে ভাবতে সে রাতেও সে ঘুমাতে পারলনা একটুও। কেবলই ভাবছিল নারীর মন কি আর এত আইন কানুন বোঝে। প্রেম বোধহয় শেষই হলো অবশেষে।

///
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৭:১০
১৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গর্ব (অণু গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৪০

একটা সরকারি প্রাইমারি স্কুল। ক্লাস শুরু হয়েছে বেশ আগে। স্কুলের মাঠে জন মানুষ নেই। কয়েকটা গাছ, দু'একটা পাখি আর চিরসবুজ ঘাস তাদের নিজের মতো আছে। একান্ত চুপচাপ একজন মানুষ শিক্ষক-রুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালকেউটে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



তুমি ও অতিথি পাখি কী সুন্দর মিলেমিশে একাকার!
আম ও দুধের অপূর্ব সংমিশ্র!
অতিথি পাখির কিছু কিছু বিসর্জন থাকলেও-
তুমি যা কিছু অর্জন করেছো তাতে নেই একরত্তি বিসর্জন!

অর্বাচীনের মতো ভেবেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায় নেওয়ার কেউ নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫


বাংলাদেশের ব্যাংকিং সংকট নিয়ে যত আলোচনা হচ্ছে, যত টকশো হচ্ছে, যত বিশেষজ্ঞ মতামত দিচ্ছেন, তার কিছুই ব্যাংকের সামনে লাইনে দাঁড়ানো মানুষটার কাজে লাগছে না। তিনি জানতে চান একটাই কথা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের মানুষদের মাঝেও 'উত্তম মানুষ' আছেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৪৭



পবিত্র কোরআনে অসম্ভব সুন্দর একটি আয়াত আছে। মহামহিম খোদাতায়ালা পুরো বিশ্বের মানুষদের দিকে একটি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে পবিত্র কোরআনে জিজ্ঞাসা করেছেন - "আর ঐ ব্যক্তি থেকে কে বেশি উত্তম... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুখু মিয়া

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৬



গভীর অন্ধকার রাত প্রবল গর্জন করে আকাশ ডাকছে, দুখু মিয়া আর তার মেয়ে ফুলবানু খুপড়ি মতো ছাপরা ঘরের জানালা দিয়ে তাকিয়ে আকাশ দেখেন। অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না তারপরও বাপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×