সাথের আরেকটা পিচ্চি কে সুধালাম,
" কিরে , ছবি তুলবিনা"
" ন , ছবি তুলন গুনাহ, মাদ্রাসার হুজুর ত মানা কইরদে"
...জানতাম বলেই অতটা অবাক হলাম না। সেন্টমার্টিন দ্বীপে বিচ্ছিন্ন জনপদটা বেশ ধর্মান্ধ । আগের বার বছর দুয়েক আগে যখন এসেছিলাম , তখনই জানতাম। তখন শুনেছিলাম হুমায়ূন আহমেদ কেও এখানে অলিখিতভাবে অবাঞ্চিত ঘোষনা করা হয়েছে। সাগর পাড়ের অত সুন্দর বাড়ীটাতে তাই আর উনি যেতে পারে না। টুপি দাড়িতে ভীষন আবেগ জড়িয়ে বিচ্ছিন্ন সাগর মাঝের অধিবাসী গুলো বেহেশতের স্বপনে দারুন ধর্মভীরু। গতকালের প্রথম আলোতেই তো দেখলাম সেন্টমার্টিনে এক মহিলা লাইগেশন নামক স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রন গ্রহন করায় সেখানের কর্তৃ স্থানীয় দের কোপানলে পড়েছে। বিচ্ছন্ন দ্বীপে তারা অনিয়ন্ত্রিত জন্মের মাধ্যমে আবাদী মানবে ভরিয়ে তুলতে চায়। বেশ ভাল!
যাহোক মজার ব্যাপারটার কথাই বলি। বলি সেই মজার ধান্দাবাজী বিজনেসের কথা ঐ সাগর দ্বীপের ধর্মভীরু পিচ্চিগুলোর ।
...অবাক হওয়াটা উচিৎ ছিল। কঙ্বাজরে যেখানে ওমন এক টুকরো প্রবাল 100/150 টাকায় বিক্রি হয়। সেখানে ওরা মাত্র 20/25 টাকায় বিক্রি করছে । ঘাপলা তো থাকবেই। কিন্তু কে ভাববে? পিচ্চিগুলো কুড়িয়ে এনছে। যা বেচছে , তাইতো লাভ। ঠেকে শিখলাম। আমরা মানে আমার সাথে আমার বন্ধু সুমন , সুমনের ড:বোন আর ডঃ দুলাভাই আমর গাড়ীর ড্রাইভার মাসুদ , সবাই শিখলাম। কখন সেন্টমার্টিন গেলে পিচ্চি গুলোর কাছ থেকে সাবধান থাকবেন ঘটনা শোনার পরে আশা করি।
বন্ধুর দুলাভাই একটা না দুই দুইটা প্রবাল কিনে ফেললেন দুটো পিচ্চির কাছ থেকে ওরকম সস্তা দামে। আশে পাশের আরও কয়েকজন টুরিস্টও দেখলাম কিনছে। মোটামুটি বেশ কজন কেনার পরই শুর হলো বিপত্তি। সৈকত আর বন গার্ড রা এসে বলা নেই কওআ নেই, সবার কাছ থেকে পারলে একরকম কেড়ে নেয় কেনা প্রবালগুলো। সুমন তো তর্ক শুরু করে দিল। " পিচ্চিগুলোকে কেন বেচতে দিচ্ছেন....আগে কেন আমাদেরে জানান নি..."
স্বাভাবিক পিচ্চিগুলো তো নতুন বেচে না। ওরাও নতুন না। সন্দেহ হতেই পারে, একটা ধান্দাবাজীর গন্ধও পাওয়া যেগে পারে।
গার্ডরা লজিক দেখালো , জাহাজ থেকে নামার সময় নাকি ঘোষনা দেয়া হয়েছে মাইকে কোন প্রবাল শৈবাল বা কোন কিছু না কিনতে। আমরা শুনিনি। হয়তো আশেপাশের অন্যরাও শুনেনি। শুনলে কি আর এভাবে সস্তা প্রতারনার শিকার হয়। পিচ্চি গুলো কে আর ধারে কাছে দেখা গেলোনা তখন। জাহাজে প্রত্যাবর্তেনর সময় অবশ্য মাইক এ ঘোষনা শুনলাম , কেই কোন প্রবাল পাথর কিনে থাকলে ফেরত দিতে।
বিষয়টা সেনসেটিভ। সেন্টমার্টিন দ্বীপের অস্তিত্ব ঐ পাথর বা প্রবাল গুলোর উপরই টিকে আছে। বেশ কয়েকবছর ধরে ওগুলো একদল অসাধু ধুমছে চুরি করে পাচার ও করছে। তাই সংরক্ষনের এই ব্যবস্থা। শুনে ভাল লাগল। আমরা সচেতন হলাম।
কিন্তু ঐ ছবি তুলতে বারন যাদের সেই শিশুগুলো কি করে সচেতন হবে। ধর্মের কত আইন ওরা জেনে বসে আছে আর সাথে ধান্দাবাজী ব্যবসা ও ।
আমদের প্রবাল দুটো আর বাকীদের কাছ থেকেও আরও অনেক সংগ্রহের পরে অবশ্য দেখেছি কিছু পিচ্চির কাছ থেকে সিজ করতে প্রবাল গার্ডদের। কিন্তু ফাও এর উপর একটা ভালই ব্যবসা তো করে গেল ধার্মিক বেহেশত প্রেমী শিশুগুলো।
ভ্রমন প্রেমীদের উদ্দেশ্যে উদাত্ত আহ্বান , সত্যি অনেক পাথর কমে গেছে সেন্টমার্টিনে । আমাদের সবার সম্পদ ওখানের প্রবাল । সংরক্ষনের দায়িত্ব কিন্তু আমাদের সবার।
--------------------------
--------------------------
ছবিগুলো ক্রমানুসারে
........
1। সেই দুটো প্রবালের টুকরো যা কেনা হয়েছিল
2। এইটা খেয়েছে 30 টাকা
3। ঘুরে গেল ছবি তুলতে গিয়েই
4। কমে গেছে প্রবাল পাথর
5। বালুতে অযত্নে পড়ে থাকা প্রবাল
ছবিগুলো নিকন কুল পিক্স এস 9 ডিজ ক্যামেরাতে তোলা
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৫:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



