=========================
[গাঢ়]কিছু নিরব কথা[/গাঢ়]ঃ
------------------
বলাবহুল্য ভাষার জন্য আন্দোলনের অনন্য দৃষ্টান্ত একমাত্র আমাদের বাংগালী জাতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু শুনতে খারাপ লাগলেও এটা মহাসত্য, আমরা জাতি হিসেবে এতই প্যাচাইল্লা যে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভাষার অধিকার প্রাপ্ত হয়েও আমরা এর স্বার্থকতার নিদর্শন কোথাও যথার্থ ভাবে দেখাতে পারিনি। না বাংলা ভাষার ব্যবহারে , না ভাষার উন্নয়নে।
ভাষার প্রয়োজন কেনো? ( এতো অনেক পুরাতন প্রশ্ন যার ব্যাখ্যা সমাজবীদ আর ভাষাবিদরা যথেষ্ট নিপুণ ভাবে বর্ণনা করেছেনই)
--প্রথমত এবং মূলত ভাব প্রকাশে
-- ইতিহাস , সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য সংরক্ষণে
--সাহিত্য চর্চায়।
একটি জাতির নিজস্ব ভাষা(মাতৃভাষা) র প্রয়োজন কেনো?
--প্রথমত এবং মূলত সেই জাতির জনের মধ্যে ভাব প্রকাশে
--সেই জাতির আপান ইতিহাস , সংস্কৃতি এবং ্ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে
-- সেই জাতির আপান সাহিত্য ও শিল্প চর্চার ক্রম বিকাশে।
বাংলাদেশে আমার বাংগালী জাতি মাতৃভাষার সেই প্রয়োজন মেটাতে কতটা সফল তা নিয়ে শংকা জাগার যথেষ্ট কারন আমাদের আশেপাশেই। অশিক্ষা এবং কু শিক্ষাই যদিও তার পেছনে মূল কারন তবুও আমাদের ভাষা প্রীতীর অষ্পষ্ট ধারনাও একটি অন্যতম কারন নিঃসন্দেহে।
ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে মাতৃভাষার উত্তরাধীকারী হিসাবে আমরা ব্যবহার তো করছি বাংলা ভাষা। কিন্তু ভুল ভ্রান্তি কমানোর পরিবর্তে তার ক্রমবৃদ্ধিই করে চলেছি। কারন আমরা ভাষার প্রতি মুখে মুখেই প্রেম প্রেম বলি বাস্তবে বাস্তবায়নে সচেষ্ট হইনা। কেমনে? তা তো অতি সিম্পল, সরি সাধারণ।
8ই ফাল্গুনের জায়গায় একুশে ফেব্রুয়ারী কে ব্যবহার তার ই নিদর্শন।
বাংলা একাডেমীর নাম বদলে আমরা একাডেমির স্থলে কোন শুদ্ধ বাংলা শব্দ ব্যবহার করিনি।
দোকান বা মার্কেটে বাংলার পরিবর্তে ভিন্ন দেশী শব্দ প্রয়োগে বাড়তি আকর্ষন বোধ করি।
ইতিহাস কে নিজ নিজ মতলবে পরিবর্তন সংশোধন বা পরিমার্জন খন্ডন করে করে আমরা ভাষাকে অবমাননা করেছি বাারবার।
সংস্কৃতিতে বাংলা ভাষার সাথে অন্য ভাষার জগাখিচুড়ী করে গান , কবিতা সিনেমা চর্চা করেছি। এঙ্পেরিমেন্ট , ক্রমবিকাশ নিশ্চয় খারাপ না। তবে তা যখন স্ব সংস্কৃতিকে পদতলে ফেলে উদগত হয় , নিশ্চয় জাতির জন্যে তা ভয়ংকর ।
ঐতিহ্য র প্রশ্ন আসলে বলতে হয়, ভাষাআন্দোলন আমাদের সাম্য, ঐক্য , দেশপ্রেম অনেক কিছূ শিখিয়েছে। সে সব শিক্ষা স্বাধীন দেশে কালের অতলে ভূলুন্ঠিত হয়েছে।
[গাঢ়]বাংলা ভাষার ঐতিহ্য, গৌরব অনেক অনেক। কিন্তু রূঢ় হলেও সত্য এই ভাষার বর্তমান সাহিত্যের( বাংলাদেশের কথা বলছি, পশ্চিম বঙ্গ এখানে আলোচ্য নয়।) অবস্থা সেই তুলনায় বড়ই করুন। হয়তো কেউ স্বীকার করবেন না। আমি করি । স্বাধীনতার পরে আজ অবধি 36বছর পার হয়ে গেছে। হাতে গোনা দুএকজন সাহিত্যিক ( যাই লেখেন না কেনো) সমাদৃত আর জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। হতে গোণা মাত্র। বিশ্ব মাঝে টেক্কা দেয়ার মতো সাহিত্য চর্চা অবলুপ্ত। ব্যক্তি পর্যায়ে অনেকেই সাহিত্য জ্ঞান এ পোক্ত বিশ্বাস করি। কিন্তু সেটা ব্যক্তি পর্যায় ছাড়িয়ে উৎকীর্ণতা পায়না। কারন পৃষ্ঠপোষকতার অভাব।
এই যে প্রতি বছর বছর সমৃদ্ধ বই মেলা হয় বাংলা একাডেমীর চত্বরে। লাখে লাখে মানুষ মেলায় ঘুরেছ , ঢুকছে বার হচ্ছে। কিন্তু কোন প্রকাশক বা সম্পাদকের কি কোন বছর এমন কোন উদ্যেগ থাকে বা পরিকল্পনা বা ব্যবস্থা থাকে যাতে অন্তত নতুন দশজনও সাহিত্যিক উদয়ের পথে আসে? থাকেনা।
তার মানে সাহিত্য চর্চার বা বিকাশের তেমন কোন পরিকল্পিত উদ্যোগ চোখে পড়েনা।
খেলার ব্যাপারে দেখেন। মাঠ পর্যায়ে খেলোয়াড় খোঁজা হয়। বিভিন্ন স্টেজে স্টেজে খেলোয়াড় বের করা হয়। পেসার হান্ট প্রতিযোগীতা হয়। সাহিত্যের ক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ের তেমন কিছু নেই। যা আছে ক্ষুদ্র পর্যায়ে , কিন্তু অর্থের কাছে পরাজিত।
মেলায় কিছুক্ষণ ঘুরলেই দেখবেন বেশীর ভাগ ক্রেতাই কেবল দুতিনজনের বই খোঁজে। হুমায়ূন আহমেদ বা জাফর ইকবাল। বা আরোও দুএকজন। লেখকের নামে কেনে বই মানুষ। বিষয়ের বা ভাষার জন্যে নয়। কারন কি?
উনন্নত বিশ্বে দেখেন সেখানে নতুন রাইটার গড়ার জন্যে প্রকাশক দের মধ্যে নানান ব্যবস্থা। সেখানে এ ব্যাপরে আলাদা এজেন্টও নাকি কাজ করে শুনেছি। ...
পত্রিকায় লেখা ছাপাবেন , দরকার পরিচিতি। বেশীর ভাগ সম্পাদকই লেখা র দিকে নয় তাকান চেহারার দিকে। ...ভাষার উন্নতি বা মর্যাদা বা বিকাশ কি করে হবে?[/গাঢ়]
এর মধ্যে আবার ইয়ো শ্রেণী নামে একদল অতি আধুনীক এর দল ভাষাকে শুদ্ধ সঠিক উচ্চারণে লজ্জা বোধ করে। তাদের প্রতি কি বলব , জানা নেই।
পরিশেষে বলতে চাই বাংগালী জাতির মানুষেরা তার ভাষাকে সত্যি ভালবাসে , তবে ব্যবস্থায় গলদ। ভালবাসার উৎসরণ নিশ্চয় হবে -- আশা রাখি আজ মহান ভাষা আন্দোলন দিবসের দিনে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


