somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুষ্প চিত্র অর্পন এবং প্রিয় মাতৃভাষার দুঃখ

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[রং=#অ0522উ][ইটালিক]...বৃষ্টি স্নাত গোলাপ কুঁড়ির আলোক চিত্রটি আমার গ্রহন করা। ছবি টি উৎসর্গ এবং নিবেদন করলাম মহান একুশে ফেব্রুয়ারীর এই ভাষা দিবসে আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনে শহীদ এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিটি বাংগালী সত্ত্বাকে। ...[/ইটালিক][/রং]
=========================

[গাঢ়]কিছু নিরব কথা[/গাঢ়]ঃ
------------------

বলাবহুল্য ভাষার জন্য আন্দোলনের অনন্য দৃষ্টান্ত একমাত্র আমাদের বাংগালী জাতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু শুনতে খারাপ লাগলেও এটা মহাসত্য, আমরা জাতি হিসেবে এতই প্যাচাইল্লা যে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভাষার অধিকার প্রাপ্ত হয়েও আমরা এর স্বার্থকতার নিদর্শন কোথাও যথার্থ ভাবে দেখাতে পারিনি। না বাংলা ভাষার ব্যবহারে , না ভাষার উন্নয়নে।

ভাষার প্রয়োজন কেনো? ( এতো অনেক পুরাতন প্রশ্ন যার ব্যাখ্যা সমাজবীদ আর ভাষাবিদরা যথেষ্ট নিপুণ ভাবে বর্ণনা করেছেনই)
--প্রথমত এবং মূলত ভাব প্রকাশে
-- ইতিহাস , সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য সংরক্ষণে
--সাহিত্য চর্চায়।

একটি জাতির নিজস্ব ভাষা(মাতৃভাষা) র প্রয়োজন কেনো?
--প্রথমত এবং মূলত সেই জাতির জনের মধ্যে ভাব প্রকাশে
--সেই জাতির আপান ইতিহাস , সংস্কৃতি এবং ্ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে
-- সেই জাতির আপান সাহিত্য ও শিল্প চর্চার ক্রম বিকাশে।

বাংলাদেশে আমার বাংগালী জাতি মাতৃভাষার সেই প্রয়োজন মেটাতে কতটা সফল তা নিয়ে শংকা জাগার যথেষ্ট কারন আমাদের আশেপাশেই। অশিক্ষা এবং কু শিক্ষাই যদিও তার পেছনে মূল কারন তবুও আমাদের ভাষা প্রীতীর অষ্পষ্ট ধারনাও একটি অন্যতম কারন নিঃসন্দেহে।

ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে মাতৃভাষার উত্তরাধীকারী হিসাবে আমরা ব্যবহার তো করছি বাংলা ভাষা। কিন্তু ভুল ভ্রান্তি কমানোর পরিবর্তে তার ক্রমবৃদ্ধিই করে চলেছি। কারন আমরা ভাষার প্রতি মুখে মুখেই প্রেম প্রেম বলি বাস্তবে বাস্তবায়নে সচেষ্ট হইনা। কেমনে? তা তো অতি সিম্পল, সরি সাধারণ।
8ই ফাল্গুনের জায়গায় একুশে ফেব্রুয়ারী কে ব্যবহার তার ই নিদর্শন।
বাংলা একাডেমীর নাম বদলে আমরা একাডেমির স্থলে কোন শুদ্ধ বাংলা শব্দ ব্যবহার করিনি।
দোকান বা মার্কেটে বাংলার পরিবর্তে ভিন্ন দেশী শব্দ প্রয়োগে বাড়তি আকর্ষন বোধ করি।

ইতিহাস কে নিজ নিজ মতলবে পরিবর্তন সংশোধন বা পরিমার্জন খন্ডন করে করে আমরা ভাষাকে অবমাননা করেছি বাারবার।
সংস্কৃতিতে বাংলা ভাষার সাথে অন্য ভাষার জগাখিচুড়ী করে গান , কবিতা সিনেমা চর্চা করেছি। এঙ্পেরিমেন্ট , ক্রমবিকাশ নিশ্চয় খারাপ না। তবে তা যখন স্ব সংস্কৃতিকে পদতলে ফেলে উদগত হয় , নিশ্চয় জাতির জন্যে তা ভয়ংকর ।
ঐতিহ্য র প্রশ্ন আসলে বলতে হয়, ভাষাআন্দোলন আমাদের সাম্য, ঐক্য , দেশপ্রেম অনেক কিছূ শিখিয়েছে। সে সব শিক্ষা স্বাধীন দেশে কালের অতলে ভূলুন্ঠিত হয়েছে।

[গাঢ়]বাংলা ভাষার ঐতিহ্য, গৌরব অনেক অনেক। কিন্তু রূঢ় হলেও সত্য এই ভাষার বর্তমান সাহিত্যের( বাংলাদেশের কথা বলছি, পশ্চিম বঙ্গ এখানে আলোচ্য নয়।) অবস্থা সেই তুলনায় বড়ই করুন। হয়তো কেউ স্বীকার করবেন না। আমি করি । স্বাধীনতার পরে আজ অবধি 36বছর পার হয়ে গেছে। হাতে গোনা দুএকজন সাহিত্যিক ( যাই লেখেন না কেনো) সমাদৃত আর জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। হতে গোণা মাত্র। বিশ্ব মাঝে টেক্কা দেয়ার মতো সাহিত্য চর্চা অবলুপ্ত। ব্যক্তি পর্যায়ে অনেকেই সাহিত্য জ্ঞান এ পোক্ত বিশ্বাস করি। কিন্তু সেটা ব্যক্তি পর্যায় ছাড়িয়ে উৎকীর্ণতা পায়না। কারন পৃষ্ঠপোষকতার অভাব।
এই যে প্রতি বছর বছর সমৃদ্ধ বই মেলা হয় বাংলা একাডেমীর চত্বরে। লাখে লাখে মানুষ মেলায় ঘুরেছ , ঢুকছে বার হচ্ছে। কিন্তু কোন প্রকাশক বা সম্পাদকের কি কোন বছর এমন কোন উদ্যেগ থাকে বা পরিকল্পনা বা ব্যবস্থা থাকে যাতে অন্তত নতুন দশজনও সাহিত্যিক উদয়ের পথে আসে? থাকেনা।
তার মানে সাহিত্য চর্চার বা বিকাশের তেমন কোন পরিকল্পিত উদ্যোগ চোখে পড়েনা।
খেলার ব্যাপারে দেখেন। মাঠ পর্যায়ে খেলোয়াড় খোঁজা হয়। বিভিন্ন স্টেজে স্টেজে খেলোয়াড় বের করা হয়। পেসার হান্ট প্রতিযোগীতা হয়। সাহিত্যের ক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ের তেমন কিছু নেই। যা আছে ক্ষুদ্র পর্যায়ে , কিন্তু অর্থের কাছে পরাজিত।
মেলায় কিছুক্ষণ ঘুরলেই দেখবেন বেশীর ভাগ ক্রেতাই কেবল দুতিনজনের বই খোঁজে। হুমায়ূন আহমেদ বা জাফর ইকবাল। বা আরোও দুএকজন। লেখকের নামে কেনে বই মানুষ। বিষয়ের বা ভাষার জন্যে নয়। কারন কি?
উনন্নত বিশ্বে দেখেন সেখানে নতুন রাইটার গড়ার জন্যে প্রকাশক দের মধ্যে নানান ব্যবস্থা। সেখানে এ ব্যাপরে আলাদা এজেন্টও নাকি কাজ করে শুনেছি। ...
পত্রিকায় লেখা ছাপাবেন , দরকার পরিচিতি। বেশীর ভাগ সম্পাদকই লেখা র দিকে নয় তাকান চেহারার দিকে। ...ভাষার উন্নতি বা মর্যাদা বা বিকাশ কি করে হবে?[/গাঢ়]


এর মধ্যে আবার ইয়ো শ্রেণী নামে একদল অতি আধুনীক এর দল ভাষাকে শুদ্ধ সঠিক উচ্চারণে লজ্জা বোধ করে। তাদের প্রতি কি বলব , জানা নেই।

পরিশেষে বলতে চাই বাংগালী জাতির মানুষেরা তার ভাষাকে সত্যি ভালবাসে , তবে ব্যবস্থায় গলদ। ভালবাসার উৎসরণ নিশ্চয় হবে -- আশা রাখি আজ মহান ভাষা আন্দোলন দিবসের দিনে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১:৩০
২৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানবজমিন, পার্থিব, চক্র: শীর্ষেন্দুকে যেমন পড়লাম

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯



শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লেখা শুরু করেন সাধারণত খুব অদ্ভুতভাবে।

যেমন তিনি চক্র উপন্যাস শুরু করেছেন একটি সাপের দৃষ্টিকোণ থেকে। হঠাৎ পড়ে বোঝা যায় না তিনি কার কথা বলছেন, কী বলছেন। সাপ চলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×