বহুদিন পরে সেদিন হঠাৎ পেয়ে গেলাম সেই আমেজ । যদিও বিস্তর বিস্তর পার্থক্য । হলে র সেই আগোছালো পরিবেশ ছিলনা, দেয়ালে দেয়ালে ছিলনা মাকড়শার ঝুল , বরঞ্চ ছিল নিখুত পরিপাটি এক কেতাদূরস্ত চারদেয়াল চট্টগ্রামের অতি অভিজাত এলাকা খুলশিতে এক বন্ধূর বাসায়। অনেকদিন পরে ভার্সিটির চার বন্ধু এক সাথে কাটালাম । অনেকদিন পরে রাতের ঘুমকে গলা টিপে চলল তাসের আসর। যদিও সিগারেটের বদ নেশা মেটাতে নামতে হয়েছে নিচে গ্যারেজে। ভাবীর মধুর নির্দেশ আমরা তো মেনে নেবই। ....
রাত জাগার ফল যে কাল হয়ে দেখা দেকে কাল সেটা বুঝতে পারা গেল দুপরে । কুমিল্লায় বিয়ে র অনুষ্ঠান এক বন্ধুর ভাইয়ের। সেরম প্লান করেই বের হওয়া খুলশীস্থ বন্ধুর গাড়ী নিয়ে। যাবার আগে পোর্টে সতীর্থ দু বন্ধুর এই ছোট একটু কাজ বাকী ...শেষ করেই দেয়ার কথা রওয়ানা।
কিন্তু পোর্টে যে মান্ধাত্বার আমলের স্লো গতির জবরজং নিয়ম কে জানত। তারউপর আমাদের দেরী করে ঘুম ভাঙা আর দেরী করে পোর্টে পৌঁছানো । মাইনাসে মাইনাসে বেশ বড় সড় মাইনাস হয়ে গেল সময় পেনের ফাঁদ। ...
বিরক্তি সত্যি চরমে উঠেছিল , বিরক্তি উদ্রেগের সেই কারন কিছূ শেয়ার করার তীব্র আকাংখা তো হতেই পারে তাই।
সতীর্থ দুই বন্ধু পোর্টের অকশনে অংশ নিয়েছিল। গাড়ীর অকশন। বিডে তার অবশ্য গাড়ী পাইনি। এক জনের বিড হাইয়েস্ট হয়নি আর অন্যজনের বিড হাইয়েস্ট হওয়া সত্বেও মূল আমদানী কারীর ডেমারেজ দিয়ে গাড়ী ছোটানোর কারনে বিড পরাজয়। বিডের শর্তানুযায়ী 10% টাকা আগে ই জামানত হিসেবে পে ওর্ডার করতে হয়।
পোর্টে সেদিন আমাদে যাবার উদ্দেশ্যই ছিল ঐ পে-ওর্ডার রির্টান আনা। আনুষাঙ্গিক কাজ হিসেবে দরখাস্ত চারদিন আগেই ( অকশন এর দিন) তারা সাবমিট করে গিয়েছিল।..ফেরতের কর্মটি অতি দ্রুতই শেষ হবে ভাবতেই পারি ।
ওমা! পোর্টে ঢুকতে পাশ নিতে হবে। তারজন্যে প্রথমে লাইন ঢেলে একখানা দরখাস্ত ..
সেই দরখাস্ত একজন সই করে ওপাটেরের কাছে পাঠালো। সেখানে প্রিন্ট করা পাস বের হবে। হচ্ছে ...হয়ে আার টেবিলে জাম হচ্ছে ....সেখানে সই হচ্ছে ...কাউকে নতুন নুতন ডকুমেন্ট সাথে এড করার জন্যে পুনরায় আহ্বান করা হচ্ছে....এবং বেশ অনেক সময় পরে ....পাশ হাতে চলে এল। ..
ঢুকলাম নিলামের অফিসে...যাক এই সুযোগে পোর্ট টা দেখা হলো ...কি সুন্দর সুন্দর গাড়ী মরে মরে পরে আছে ...কিছু মরতে বসেছে ...কিছু কাঁদছে ....
তিন তলায় পৌছে গেলাম এসময় সিড়ি আর দুর্গন্ধ ঠেলে ঠেলে। তখন বাজে 12টা । কোন কাউন্টার টাউন্টারের বালাইনেই। টেবিল ঘিরে জনা বিশেক( বা 25) লোক। বেশীর ভাগই বিভিন্ন এজেন্সির পথেকে এসছে। সেসবএজন্সি অনেকেই এক এক দরখাস্তে
10 /15টা করে গাড়ীর অকশনে বিড করেছে।
ভিড় ঠেলে উঁিক মারতেই দেখা গেলো একজন বয়স্ক লোক , তোবড়ানো চামড়া।সামনে প্রায় তিন চার শ ( বা আরও বেশী) দরখাস্ত নিয়ে বসেছে।
সিস্টেম টা বুঝতে একটু সময় লাগল। বুঝলাম ।
সকাল থেকে তারা এই দরখাস্তের বান্ডিল নিয় বসেছে। পেছন থেকে একটা একটা করে দরখাস্তের মাঝে লেখা নাম পড়ে যাচ্ছে । পাশে 50 টা 50টা করে বান্ডিল করে বাধা পে ওডারের কাগজ। উচচারিত নামের লোকটি উপস্তিত াকলে তাকে সামনে আনা হচ্ছে, দরখাস্তে বুঝিয়া পাইলাম লিখে সই নেয়া হচ্ছে। তারপর তার অকশনের নম্বর ওয়অলা বান্ডিল খুলে সেখান থেকে খুঁজে বের করে তার হাতে দেয়া হচ্ছে। বান্ডিলটা আবার সাথে সাথে বাধাও হচ্ছে।
সেটা নিয়ে পাশের এক টেবিলে লম্বা লিস্টে সেই ব্যাক্তি নিজে গিয়ে নিজেরটায় সই করে। আবার ফিরে আসছে এসে সেই প্রবীন কেরানী টির কাছ েথেকে সিল মেরে সই নিয়ে পেওয়ার্ডার নিয়ে যাচ্চে।
পড়লাম মুছিবতে । বন্ধু দুজনের দরখাস্ত কদিন আগে দেয়া। নিশ্চয় সকালে ডাকা হয়ে গেছে ....অপোয় থাকলাম দরখাস্তের ডাক উপর পর্যনত পৌঁছে কখন আবার নিচে নেমে আসে। নতুন রাউন্ডে। ...একএক জনের টা দিতে যে লেট আর লেন্ধি প্রসেস ...দুপুর এর লাঞ্চ টইম হয়ে গেল শীঘ্রই। ..
উপায় নেই। সরকারী রুল। মানতেই হবে।
বের হয়ে এসে আপসোস করলাম বিয়ে তে আর যাওয়া গেল না বলে। লাঞ্চ করতে করতে ভাবছিলাম...কত ওল্ড স্টাইলে চরে আজও আমাদের এইব সরকারী কর্মকান্ড।
মাত্র এক ঘন্টার কাজ তরা সারাদিন লাগাচ্ছে ।
সব দরখাস্ত ডেকে ডেকে কি লাভ , যেকজন ( 20/25) ঐ সময় পে ওর্ডার নিতে এসেেছ তাদের কে একটা কিউ করে ডেকে ডেকে দিলেই কত সময় আর কষ্ট বাচে।
অথবা আরেকটু সহজ করে আগে থেকে কিছূ সময় ব্যয় করে প্রতি দরখাস্তের সাথে সংশ্লিস্ট পে ওর্ডার সাজিয়ে সিরিয়াল করে রাখলেই হয়। তাতে টেবিলের চারপাশে পাবলিকের গরম নিশ্বাসে তাদের ও বিরক্ত হতে হয়না। আর পাবলিক দের পোহাতেহয়না এই সব অকারন ডিলের ঝক্কি। মানলা ম কপিউটাইসড ডাটা বেজ এখনও সম্ভবহয়নি কিন্তু বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ সহজ কেনো করেনা?
25 জনই ধরলাম ঐ সময় ছিল। ফেয়ার লি চিন্তা করলে ভাবুন তো 30 মিনিটের বেশী কি লাগার কথা। তাই একটা দরখাস্তে 10/15টাই অকশন এর পে ওর্ডার একসাথে থাকুক না কেনো। ...
কিন্তু তা করবে কেনো মাছি মারা কেরানী রা। ...
দুুপুরে খেয়ে আবার সেই হ্যাসেলে মাঝে গিয়ে কাজ শেষে যখন বের হলম তখন বাজে 3টা । কি আর করার ...
বিয়ে বাদদিয়ে উঠে গেলাম ঢাকার বাসে....
--এত তো অতি তুচ্ছ একটা সিস্টেমের ধীরগতি আর ভুয়া স্টাইল এর কথা বললাম। সরকারের বেশীর ভাগ কর্মের স্টাইল দেখা যাবে আরও বিদঘূটে আর লেন্ধি। এইসব বস্তা পচা সিস্টেম না চেন্জ করলে দেশের উন্নতি কখনই সম্ভব নয়। দূর্ণীতির চেয়ও বড় শত্রু আমাদের সকল কর্মের সিস্টেম ভুল। কারন সিস্টেম দূর্ণীতিকে সহজ করে দেয় ভুল প্রচলনের কারনে। মহামতি সংষ্কারপ্রেমী উপদেষ্টারা কি এই ব্যাপারে দৃষ্টিপাত করছেন না?
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০০৭ ভোর ৫:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


