somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কে যেন জানতে চেয়েছিলেন,বই কোথায় পাওয়া যাবে

০৮ ই এপ্রিল, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আয়রন করে এনে ডরমেটরিতে আমার ঘরে ঢুকলো আমার অফিসের পিয়ন।
'স্যার , আপনার লেখা বই? ' , আঙ্গুল নির্দেশ করছিল খাটের উপর রাখা ' এবং ও অতঃপর' এবং 'ঋতানৃত' বই দুটির দিকে।
বললাম হুঁ।
'স্যার বাড়তি কপি থাকলে আমারে এক কপি করে দেওয়া যাইব?' বেশ কোমল মোলায়েম সুর।
অবাক হয়ে তাকাব কি তার আগেই ' স্যার আপানার স্মৃতি কিসেবে রাইখ্যা দিতাম ঘরে।

না ! পিয়ন বলে অবাক হয়ে তাকাতে চেয়েছি ভাবলে ভুল । ফ্রি চাহনে ওয়ালার পরিধির বৃদ্ধি আমাকে অবাক করছে ।
না হয় গরীব মানুষ চেয়েছে , এক কপি করে দেবোই। কিন্তু অফিসের অন্যরাও যে চায়।
বিখ্যাত হয়ে গেলাম নাকি? আরে দূর এই ছাইপাশ লিখে বিখ্যাত! ওরা তো ওদের স্যার কে খুশি করার জন্যে চায়। চায় স্যারের বই দেখাইতে ঘরের সবাইরে।

আত্মীয় স্বজনরাও চায় । চাচ্ছেই। মনক্ষুণ্ন হচ্ছে কেউ কেউ। মামুন ওকে দিল আমাকে কেনো নয়। বিরাগ সুর। হয়তো দিলে এক ছত্রও পড়বেনা কভু অনেকেই।
এক ভাইয়ার সাথে বই মেলায় দেখা হয়েছিল। বই দেখলো । ছোট ভাইয়ের বই সামনা সামনি চুলজ্জার খাতিরেও তো এক কপি কেনার কথা।
কোথায় সে সব। যাক বই পড়েনা উনি জানি , ভাবীও হয়তো তাই। টাকা নষ্ট বই কিনলে ওখানে সত্য। কিন্তু ফ্রি এক কপি কিন্তু ওদিকে আম্মুর কাছে এসে চাওয়া হয়ে গেছে।

কোন আর এক ভাবী নে বলল, মামুন আগের বই টা কিন্তু পাইনি। এবারের টা ...
পাঠিয়ে দিয়েছি বাসার আশেপাশে যে কজন আত্মীয় বা আত্মীয়ের মতো আছে সবাইকেই।

ফ্রি ফ্রি প্রদান চলছেই।

পরম বান্ধবী বলছে , ' আমাকে তো সবার আগে বই দিবাই, '
এরম কয়েকজন বলতে থাকায় বুঝলাম নিশ্চিত ক্রেতাগুলোও হারাচ্ছি।
বিয়ের পরে নাকি মেয়েদের সব কিছূ পাল্টে যেতে থাকে। আমাকেই চিনতে চায়না অনেকেই । আর আমার বই। গতবছর নিশ্চিত ভদ্রতা করে কবিতার বইটি কিনেছিল।

পাড়ার বন্ধুমহল বই হাতে নিয়ে তনতন্ন করে খোঁজে খালি পাতা আর খালি জায়গা আছে কি পরিমাণ। কবিতার বইটিতে অজস্র ফাঁকা জায়গা তাদের মুখে হাসি আনে।
গত বছরের কবিতর বইটি যখন ইন্টারন্যাশনাল ব্রীজ খেলার সময় পয়েন্টের হিসেব লেখার কাজে ব্যবহার হতে দেখলাম। বুঝলাম। যাক বন্ধুদের তবুও কিছূটা উপকারে আসতে পেরেছে আমার বই(!)

মোটামুটি সুখ্যাত এক মামা ( যিনি স্মারক গ্রন্থ, গবেষণা গ্রন্থ বা জীবনী লেখেন) আমার বাসায় এসে অন্যদের বই দিয়ে গেল। পরলোকগত আব্বুর অভাবে আমার কপালে বই জুটলনা। আমার বই দুটি ঠিকই আম্মু দিয়ে দিলেন হাতে ওনার।

চেনা পরিচিত রা বই না দিলে অনেকই সম্পর্কের অবনতি ভাবছেন ।

আরে পড়ার মতো কিছু লিখার মতা থাকলেই না পড়বে সকলে। মেনে নিলাম। তুবও তো মনের শান্তির মায়ায় বই প্রকাশ করেই ফেলেছি। পড়ার বাধ্যকতা তো আর নাই কারও। এত এত ফ্রি ফ্রি তবে কেনো।
নিশ্চয় ভালবাসা থেকে বই এর প্রতি আকর্ষণ। অথবা ভদ্রতা , না হলে নিছক ফাঁও পাওয়ার বাংগালী মেন্টালিটি।
উপহাসও হতে পারে।

ফ্রি বই উল্টে পাল্টে দেখতেই মজা। পড়তে , উহ! সময় নষ্ট। ভাবতেই পারে কেউ।

নিজের জন্যেই লিখি , অবশেষে যদি ভাবিও । তবুও আরেকটু ভাবতেই হয়, তিন তিনটে বই, জামানো টাকা ভাঙিয়ে প্রকাশ করার পর যদি একটা বইয়ের টাকারও কাছাকাছি না উঠানো যায়, বই প্রকাশের অনাগত দিনের ইচ্ছে একদম মরে যায়, যেতে বাধ্য। প্রকাশক তো আর আমার লেখা পড়েনা, চেহারাও পছন্দ করেনা, পছন্দ করে কেবল কড়কড়ে নোট।

লেখার উন্নতি আর তাই কিভাবে হবে। লেখাকই তো ঝরে যাবে। আমার তবুও আজীবন চেয়ে চেয়ে দেখার জন্যে তিনটে বই প্রকাশিত। অন্য অনেক প্রকৃষ্ঠ প্রতিভাধরের কি হবে যার নেই একটিও বই।

তারপরও স্বান্তনা মাপি অতি পছন্দের এক বন্ধুর ভূমিকায়। জানি সে বই কিনবেই , তাই আমি হাবিজাবি যাই ই লিখি। ব্যস্ত চাকুরে। বই মেলায় যায়ইনি । সেদিন দেখা হতেই মন থেকে দুটো বই প্রদান করলাম। বিদায়ের আগে জোর করে পকেটে টাকা গুজে দিল। মানা শেষ পর্যন্ত টেকাতে পারলাম না কারন ও বলেছিল বন্ধু হয়ে বন্ধুর এবং একজন নতুন লেখকের বই না কিনলে উৎসাহ আসবে কোত্থেকে।


অনেক উল্টো পাল্টা বকলাম। পাগলামীর একটা সীমা আছে। এমনেই কি সব লিখেছি আর বই বের করে ফেলেছি। তারউপর আবার সেই বইয়ের নানান প্যাচাল উপ্যাখান গড়তে শুর করেছি। দূর।

যাহোক , আমার গল্পের বই
[link|http://www.somewhereinblog.net/pothe_potheblog/post/28695844|
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০০৭ বিকাল ৩:৫৩
২২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভারত খারাপ, তবে নিমন্ত্রণ পত্র ভালো

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৫



দুই ঘণ্টা বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখা হয়েছে, প্রবেশও করতে দেয়নি। তারপরও ঘোষণা দিলেন - আবার আমন্ত্রণ পেলে যাবেন।

ভারতবিরোধী কথা বলা ছিলো তার রাজনৈতিক স্ট্যান্ড পয়েণ্ট, কারো কাছে নতি স্বীকার করবো... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাম্বা/খাল তারেক কে কিছু উপলব্ধি শেয়ার করছি

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪২

আজ আর মনের মাধুরী মিশিয়ে বকাঝকা করব না। আজ কিছু ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা শেয়ার করব।



খাল খনন বা ঢাকার বাসস্ট্যান্ড সরানোর চেয়ে কি কি গুরুত্বপূর্ন কাজ এই অর্থবছরে করা যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গানটি প্রিয় রাজীব নূর ও কবি স্বপ্নের শঙ্খচিলকে উৎসর্গ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:০৬

আমার খুব প্রিয় একটি কবিতার সাথে ব্লগার স্বপ্নের শঙ্খচিলের কবিতা মিলিয়ে গানটি বুনেছি।
শোনার আমন্ত্রণ রইলো।
============================

এই জল ভালো লাগে;
বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ- বুলায়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: কুয়ালালামপুরের ছায়া সম্রাট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



বালির নীল দিগন্ত
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি নির্জন পাথুরে সৈকত। ভারত মহাসাগরের বিশাল নীল ঢেউ আছড়ে পড়ছিল তীরে। সমুদ্রের ঠিক ওপরের একটি আধুনিক কাঁচের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×