'স্যার , আপনার লেখা বই? ' , আঙ্গুল নির্দেশ করছিল খাটের উপর রাখা ' এবং ও অতঃপর' এবং 'ঋতানৃত' বই দুটির দিকে।
বললাম হুঁ।
'স্যার বাড়তি কপি থাকলে আমারে এক কপি করে দেওয়া যাইব?' বেশ কোমল মোলায়েম সুর।
অবাক হয়ে তাকাব কি তার আগেই ' স্যার আপানার স্মৃতি কিসেবে রাইখ্যা দিতাম ঘরে।
না ! পিয়ন বলে অবাক হয়ে তাকাতে চেয়েছি ভাবলে ভুল । ফ্রি চাহনে ওয়ালার পরিধির বৃদ্ধি আমাকে অবাক করছে ।
না হয় গরীব মানুষ চেয়েছে , এক কপি করে দেবোই। কিন্তু অফিসের অন্যরাও যে চায়।
বিখ্যাত হয়ে গেলাম নাকি? আরে দূর এই ছাইপাশ লিখে বিখ্যাত! ওরা তো ওদের স্যার কে খুশি করার জন্যে চায়। চায় স্যারের বই দেখাইতে ঘরের সবাইরে।
আত্মীয় স্বজনরাও চায় । চাচ্ছেই। মনক্ষুণ্ন হচ্ছে কেউ কেউ। মামুন ওকে দিল আমাকে কেনো নয়। বিরাগ সুর। হয়তো দিলে এক ছত্রও পড়বেনা কভু অনেকেই।
এক ভাইয়ার সাথে বই মেলায় দেখা হয়েছিল। বই দেখলো । ছোট ভাইয়ের বই সামনা সামনি চুলজ্জার খাতিরেও তো এক কপি কেনার কথা।
কোথায় সে সব। যাক বই পড়েনা উনি জানি , ভাবীও হয়তো তাই। টাকা নষ্ট বই কিনলে ওখানে সত্য। কিন্তু ফ্রি এক কপি কিন্তু ওদিকে আম্মুর কাছে এসে চাওয়া হয়ে গেছে।
কোন আর এক ভাবী নে বলল, মামুন আগের বই টা কিন্তু পাইনি। এবারের টা ...
পাঠিয়ে দিয়েছি বাসার আশেপাশে যে কজন আত্মীয় বা আত্মীয়ের মতো আছে সবাইকেই।
ফ্রি ফ্রি প্রদান চলছেই।
পরম বান্ধবী বলছে , ' আমাকে তো সবার আগে বই দিবাই, '
এরম কয়েকজন বলতে থাকায় বুঝলাম নিশ্চিত ক্রেতাগুলোও হারাচ্ছি।
বিয়ের পরে নাকি মেয়েদের সব কিছূ পাল্টে যেতে থাকে। আমাকেই চিনতে চায়না অনেকেই । আর আমার বই। গতবছর নিশ্চিত ভদ্রতা করে কবিতার বইটি কিনেছিল।
পাড়ার বন্ধুমহল বই হাতে নিয়ে তনতন্ন করে খোঁজে খালি পাতা আর খালি জায়গা আছে কি পরিমাণ। কবিতার বইটিতে অজস্র ফাঁকা জায়গা তাদের মুখে হাসি আনে।
গত বছরের কবিতর বইটি যখন ইন্টারন্যাশনাল ব্রীজ খেলার সময় পয়েন্টের হিসেব লেখার কাজে ব্যবহার হতে দেখলাম। বুঝলাম। যাক বন্ধুদের তবুও কিছূটা উপকারে আসতে পেরেছে আমার বই(!)
মোটামুটি সুখ্যাত এক মামা ( যিনি স্মারক গ্রন্থ, গবেষণা গ্রন্থ বা জীবনী লেখেন) আমার বাসায় এসে অন্যদের বই দিয়ে গেল। পরলোকগত আব্বুর অভাবে আমার কপালে বই জুটলনা। আমার বই দুটি ঠিকই আম্মু দিয়ে দিলেন হাতে ওনার।
চেনা পরিচিত রা বই না দিলে অনেকই সম্পর্কের অবনতি ভাবছেন ।
আরে পড়ার মতো কিছু লিখার মতা থাকলেই না পড়বে সকলে। মেনে নিলাম। তুবও তো মনের শান্তির মায়ায় বই প্রকাশ করেই ফেলেছি। পড়ার বাধ্যকতা তো আর নাই কারও। এত এত ফ্রি ফ্রি তবে কেনো।
নিশ্চয় ভালবাসা থেকে বই এর প্রতি আকর্ষণ। অথবা ভদ্রতা , না হলে নিছক ফাঁও পাওয়ার বাংগালী মেন্টালিটি।
উপহাসও হতে পারে।
ফ্রি বই উল্টে পাল্টে দেখতেই মজা। পড়তে , উহ! সময় নষ্ট। ভাবতেই পারে কেউ।
নিজের জন্যেই লিখি , অবশেষে যদি ভাবিও । তবুও আরেকটু ভাবতেই হয়, তিন তিনটে বই, জামানো টাকা ভাঙিয়ে প্রকাশ করার পর যদি একটা বইয়ের টাকারও কাছাকাছি না উঠানো যায়, বই প্রকাশের অনাগত দিনের ইচ্ছে একদম মরে যায়, যেতে বাধ্য। প্রকাশক তো আর আমার লেখা পড়েনা, চেহারাও পছন্দ করেনা, পছন্দ করে কেবল কড়কড়ে নোট।
লেখার উন্নতি আর তাই কিভাবে হবে। লেখাকই তো ঝরে যাবে। আমার তবুও আজীবন চেয়ে চেয়ে দেখার জন্যে তিনটে বই প্রকাশিত। অন্য অনেক প্রকৃষ্ঠ প্রতিভাধরের কি হবে যার নেই একটিও বই।
তারপরও স্বান্তনা মাপি অতি পছন্দের এক বন্ধুর ভূমিকায়। জানি সে বই কিনবেই , তাই আমি হাবিজাবি যাই ই লিখি। ব্যস্ত চাকুরে। বই মেলায় যায়ইনি । সেদিন দেখা হতেই মন থেকে দুটো বই প্রদান করলাম। বিদায়ের আগে জোর করে পকেটে টাকা গুজে দিল। মানা শেষ পর্যন্ত টেকাতে পারলাম না কারন ও বলেছিল বন্ধু হয়ে বন্ধুর এবং একজন নতুন লেখকের বই না কিনলে উৎসাহ আসবে কোত্থেকে।
অনেক উল্টো পাল্টা বকলাম। পাগলামীর একটা সীমা আছে। এমনেই কি সব লিখেছি আর বই বের করে ফেলেছি। তারউপর আবার সেই বইয়ের নানান প্যাচাল উপ্যাখান গড়তে শুর করেছি। দূর।
যাহোক , আমার গল্পের বই
[link|http://www.somewhereinblog.net/pothe_potheblog/post/28695844|
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০০৭ বিকাল ৩:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



