somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পথ প্রতীতি ০২

১৮ ই এপ্রিল, ২০০৭ সকাল ১০:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইট বিছানো পথটা ছেড়ে মাটির পথ ধরে পথিক আরও অনেকখানি হেঁটে গেলো। তারপর যখন পশ্চিমে মুখ লুকাতে লুকাতে সূর্যটা সাঁঝের সংকেত দিল তখন পথিকের মনের সংকেত ঘন্টাতেও বেজে উঠল চার দেয়ালের ডাক।

আকাশের পরিধি ঘিরে নেমে আসছিল আঁধার। মাথার উপর দিয়ে উড়ে উড়ে নীরে ফিরছিল দিবাচরী পাখির পাল। মুগ্ধ দৃষ্টিতে পথিক ণিক তাকিয়ে থাকল পাখীদের নীরে ফেরার দৃশ্যে।

ইস্! যদি পাখীদের মতো উড়ে বেড়তে পারত সে. ভাবে পথিক, তবে কত সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে চলে যেত পারত; দেখতে পারত তার পিপাসার্ত দুচোখ আরও বিস্তর সবুজ, নীল জলের প্রাচুর্য অথবা দুর্গম পাহাড়ের উপর কোন রঙিন ফুলের ঝাড় যে ফুল আজও দেখেনি হয়তো কেউ।

একসময় হাঁটতে হাঁটতে পোড়া ইটের উপরে আস্তরে গড়া কৃত্রিম ঘরে ফিরে আসে পথিক।

প্রথম আলো পত্রিকার প্রথমপাতায় বামেই চোখে পড়ে যায় ওয়েব সাইটটার নাম।www.ekhoni-shomoy.net.
কিন্তু একটু পরেই পথিকের মন চরমভাবে বিষন্ন হয়। কারণ যান্ত্রিক আধুনিকতার যে চরম প্রাপ্তি তাকে ঘরে বসেই পথের প্রতীতি ( উপলব্ধি) জাগাতো, এনে দিত ঘরের মধ্যেই ক্ষণিক মুক্ত জীবন, সেই ল্যাপটপটা বহু প্রচেষ্টার পরেও আজ আর বুট করা গেলোনা।

কম্পিউ প্রযুক্তির সবটুকু বিলিয়ে পথিক বুঝে গেলো ল্যাপটপের সঞ্চয় ভানডার অর্থাৎ হার্ডডিস্ক ড্রাইভটি অকেজো হয়ে গেছে। পথিক ক্ষণিক মুষড়ে পড়ে। হৃদয়ে অজান্তেরই শুকনো বাতাস বয়ে যায়।

পথপ্রভার লাবন্য ভরা মুখের প্রতিচ্ছবিটা চোখে ভেসে ওঠে। হার্ডডিস্কেই কেবল তার একখানা ছবি লোড করা ছিল। আর যে কখনও ছবি দেবেনা সে তুলতে। ওমনই বলেছিল।
কেনো যে ছবিটার একটা হার্ড কপি রাখলোনা! নিজের উপর নিজের তীব্র রাগ হচ্ছে পথিকের। তার উপর হার্ডডিস্কে ছিল কত কত সৃজন লেখা তোর , কত কত সংগ্রহ ভান্ডার।
না কিভাবে মেনে নেবে , এত সহজে হারিয়ে যায় সব!

উতলা মনে কিছূই ভাল লাগছিলনা। মোবাইলটা হাতে নিয়ে পথপ্রীতিকে কল করেই ফেললো।

‘ কিরে দেখেছিস। আচ্ছা তুই ই বল এভাবে দূর্ণীতি দমন সম্ভব...?’
পথপ্রীতির মিষ্টি আবেগী কণ্ঠটা শূনে ই চোখে পানি আসতে চাচ্ছিল পথিকের। যথাসম্ভব মন শান্ত রেখে বলল,

‘প্রীতি, আমার ল্যাপটপটা নষ্ট হয়ে গ্যাছে।’

‘ মানে’

‘ গেছে, সব গেছে , সব হারিয়ে গেছে। কতদিনের সংগ্রহ, কত দিনের সৃষ্টি, কত লেখা , কবিতা...’

যদিও পথিক ভাবছিল পথপ্রীতির গলাটাও কেঁপে উঠতে চাইছিল, তারপরও সান্তনা শোনাতে চাইছিল;
‘ যে চলে যায় , যাক না। যাওয়াই তো মহা সত্য। এই দুনিয়ার নিয়মই তো এই । তাই না পথিক? মানুষই তো চলে যায় আর এ তো জড় সৃষ্টি। আবার শুরু কর। আবার সৃষ্টি কর। আর নেক্সট টাইম নিশ্চয় ব্যাক আপ রাখতে ভুলবিনা। ,মনে কর এ তোর ভূলের একটা ছোট্ট শিা । আরও বড় শিক্ষা তোর ঘাড়ে পরতে পরত। ’

‘ কি হতে পারত সে চিন্তা পথিক করে না। কি হচ্ছে তাই নিয়েই পথিক চিন্তা করে। কিন্তু কি হলো এটা। কেনো ? সৃষ্টি কি আর বারবার একই রকম হয় রে? ভুল কেনো হবে?’

‘ আরে মানুষ বলেই তো ভূল হবে। আমি এখন নিশ্চিত যে তুই মানুষ । তা না হলে কি আর ভুল করতি। ;

‘ হাসাবি না। মার খাবি।’

‘ ইসরে মাইর দেবে। পারলে আয় না। শোন ঐ সেই কাহিনীটা জানিস না। ঐ যে কোন বিজ্ঞানী , সম্ভবত নিউটন সাহেব ই মনে হয়, যা হোক। একবার তার গবেষনার শেষ পর্যায়ে তার আদরের কুকুর সব উপাত্ত্ব বা তত্ত্ব লেখা কাগজ নষ্ট করে ফেলল। কিন্তু তিনি মোটেও ধৈয্য হারা না হয়ে আবার প্রথম থেকে শুরু করেছিলেন এবং তাতে বরং তার গবেষণা আরও সমৃদ্ধ হয়েছিল।’

‘জ্ঞান দিবিনা। আর আমিতো অত বড় কিছু নই রে। আমার সামন্য টুকুই আমার একান্ত , আমার ঐশ্বর্য। ’

‘ ঐশ্বর্য তো অভিষেকের রে। কাল না বিয়ে।
বাদ দে, শান্ত হ। পথপভ্রা কেমন আছে বল, আর ফোন টোন করেছিল?’

‘না । কিছু ভাল লাগছেনা।ঐ সেই কবিতাটা , “বিরুদ্ধ বিরূপতা”, তোকে যে শুনিয়েছিলাম । তুই বলেছিলি অসাধারণ। তোর না কবিতা মনে থাকে। একবার মনে করে লিখে দিবি। শালা কেনো যে কাগজ ছেড়ে ডিজিটাল কবিতা লেখা শুরু করেছিলাম। দূর। ’

‘ দেখ , এত আফসেট হবিনা। মনে এলে অবশ্যই লিখে দেবো। তোর মত মানুষের জন্য এটাই সত্য। যা ভালবাসবি তা তো তোদের জন্যে চলে যাবে বলেই তোরা ভালবাসিস। অন্যভাবে বললে আসলে যাওয়ার পরই তুই বুঝতে পারিস কেবল উহাতে তোর কত ভালবাসা, কত ভাললাগা। তোরজন্যে এটাই প্রকৃতির নিয়ম।
পথপ্রভা যদি না চলে যেত, না করত আজ সে অন্যের ঘর ; তুই কি জীবনেও বুঝতে পারতিছ ওর জন্যে তোর এই গভীর ভালবাসা।’

‘ কিসের সাথে কিসের তুল না?’

‘ ওটাই সত্য। একটু ভেবে দেখিস। যা তোকে আর সান্তনা দেবোনা। ওটা তোর জন্যে বরং আরও অভিশাপই।
তবে যা গেছে গ্যাছে , চিন্তা করে আর কি হবে। ফিরে পাবি?’

‘আবার সান্তনা। তবে দেখছি ডাটা রিকভার করা যায় কিনা। শুনেছি সম্ভব। দেখি।’

‘দেখ। আর সানন্তনা আমি দেবো না তো কে দেবেরে। বাসায় আয় । এখনি। মা ভাপা পিঠা বানাচ্ছে। হুঁ......., আরেকটা সারপ্রাইজও আছে।

‘ কি?’

‘ আগে আয় তো।’


সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০০৭ সকাল ১০:২০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রতিদ্বন্দ্বী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪৮


গফুর মিয়া অভাবের তাড়নায় গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় এসেছিল। সংসারে মানুষ মোট ছয়জন, গফুর, তার স্ত্রী আর চার সন্তান। দুই সন্তান হওয়ার পর তার স্ত্রী আর সন্তান নিতে চায়নি। সে গফুরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জজ মিয়া চিত্রনাট্য নিয়ে নির্মিত হোচ্ছে ভয়ংকর নতুন সিক‍্যুয়াল!!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৪:৪৭



বিএনপির পুলিশ এতো করিৎকর্মা যে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে । খুনের তদন্ত করে একেবারে আদালতের রায় সহ রিপোর্ট দিয়ে দেয় ! পৃথিবীর সবচেয়ে আপগ্রেডেড আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন শিলং সালাউদ্দিনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাসওয়ার্ড রিসেট করতে সমস্যা এবং ওয়েবসাইটে ক্যাপচা এরর (Invalid site key) সংক্রান্ত।

লিখেছেন চারাগাছ, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:১৪


পাসওয়ার্ড রিসেট করতে সমস্যা এবং ওয়েবসাইটে ক্যাপচা এরর (Invalid site key) সংক্রান্ত।


প্রিয় সামু সাপোর্ট টিম,
আশা করি ভালো আছেন। আমি সামহোয়্যার ইন ব্লগের একজন নিয়মিত পাঠক ও লেখক। দীর্ঘদিন ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালবেলার মুগ্ধতা থেকে নবকুমারের গ্ল্যামার দুনিয়ায়

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০



সমরেশ মজুমদার আমার বরাবরই প্রিয় লেখকদের একজন। কৈশোর আর যৌবনের এক বড় অংশ জুড়ে তিনি ছিলেন আমার মনোজগতে। বই কিনে পড়া, পাড়ার লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার যদি ৩% হারে লোন দেয় দেশের প্রতিটি বাড়ীর ছাতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করলে বিদ্যুের কস্টের অনেকটাই কিছুটা সমাধান হইতে পারে।

লিখেছেন নতুন, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:০৬


দেশে বর্তমানে Net Metering Guideline–2025 অনুযায়ী অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়া যায় এবং তা বিলের সঙ্গে সমন্বয় হয়। এটা খুবই ভালো একটা ব্যবস্থা, সরকারের উচিত এটাকে আরো উতসাহিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×